ফেসবুকে নিরাপদে থাকতে...

সারাবিশ্বের ২০০ কোটি মানুষ যেন তাদের প্রিয়জনদের সাথে নিরাপদে সংযুক্ত থাকতে ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে শেয়ার করতে পারেন সেজন্য ফেসবুক কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। 

তাই ফেসবুক তাদের সেফটি পলিসি, টুলস, রিসোর্স ও বিভিন্ন সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব কীভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিরাপদে রাখতে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করা হলো এই প্রতিবেদনে।

গত কয়েক বছরে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা সদস্যের পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধি করেছে। ফেসবুকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা ৩৫ হাজার সদস্যের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজারই কন্টেন্ট পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজে নিয়োজিত আছেন। এ দলে এমন সদস্যও আছেন যারা বাংলায় লেখা কন্টেন্ট পর্যালোচনা করেন।

কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড

ফেসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডে উল্লেখিত নীতিমালা নির্ধারণ করে ফেসবুকে কী শেয়ার করা যাবে আর কী করা যাবে না। এ কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনেক বিষয় বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। যেমন- নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ নীতিমালায় আত্মহত্যা, নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা, কাউকে উত্যক্ত করা, অন্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা বা কাউকে যৌন হয়রানি করা ইত্যাদি ঘটনাগুলো যেন না ঘটে সে ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলা আছে। 

এ নীতিমালাগুলো জননিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাকের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নীতিমালাগুলো সারাবিশ্বের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য। এ নীতিমালা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। আর যদি কেউ এ নীতিমালা লঙ্ঘন করেও, তা যেন বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেজন্য ফেসবুক বিভিন্ন প্রযুক্তি, পদক্ষেপ ও নিয়োজিত সদস্যদের দ্রুত কাজ করতে সহায়তা করার জন্য বিনিয়োগ করে থাকে।

নীতিমালার প্রয়োগ

প্রযুক্তি, ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট ও রিভিউকারী দলের ফিডব্যাকের ওপর ভিত্তি করে ফেসবুক যেসব কন্টেন্ট তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের বিরুদ্ধে যায় সেগুলো শনাক্ত ও পর্যালোচনা করে।

যদি কোনো পোস্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করে তবে সেটি যারই হোক না তা ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি রিপোর্টকেই সমান গুরুত্ব দেয়, একই পোস্ট বার বার রিপোর্ট করা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেসব কন্টেন্ট ফেসবুকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বিগত কয়েক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফেসবুক অ্যালগরিদম দিন দিন আরো উন্নত হচ্ছে। যার ফলে যেসব পোস্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে কেউ দেখার আগেই সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।

নিরাপত্তা

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার ধাপে পদক্ষেপ নেয়া হয়।

- সুনির্দিষ্ট নীতিমালা: ফেসবুকে কী শেয়ার বা পোস্ট করা যাবে এবং কী করা যাবে না সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে।

- টুলস: ফেসবুকের এমন সব টুল রয়েছে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ফেসবুক হোমপেজে কী কী দেখতে চান ও অন্য ব্যবহারকারীরা তাদের সম্পর্কে কতোটুকু দেখতে পারবেন তা ব্যবহারকারীরা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে ও ক্ষতিকর পোস্টগুলো রিপোর্ট করতে পারেন।

- রিসোর্স: ফেসবুক ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীরা রিসোর্স ও হেলপ অপশন কাজে লাগিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।

- অন্যান্য সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব: ফেসবুক বাংলাদেশসহ সব দেশেই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক গবেষক, এনজিও, মানবাধিকার কর্মী ও নীতিনির্ধারকদের দক্ষ দিকনির্দেশনা নিয়ে তাদের নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি টুল ও সেফটি রিসোর্স তৈরি করে।

নীতিমালা

ফেসবুকের নীতিমালায় নিরাপত্তা বিষয়ক প্রয়োজনীয় সব কিছু বিস্তারিত বলা আছে ও নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়।

পরিচয় গোপনকারী: আসল পরিচয় গোপনকারীদের অনলাইনে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই এমন ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। https://www.facebook.com/help/532542166925473

সহিংসতামূলক কন্টেন্ট পোস্ট: সহিংসতা সমর্থন করে কিংবা সহিংস কার্যকলাপে উৎসাহিত করে এমন পোস্ট ফেসবুক সরিয়ে ফেলে।

নগ্নতা: ফেসবুকে যেহেতু ১৮ বছরের কম বয়সী অনেক ব্যবহারকারী রয়েছেন ও ব্যবহারকারীরা সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় তাই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের নগ্নতাপূর্ণ ও অশালীন পোস্ট দেয়া থেকে বিরত রাখে।

কারো একান্ত মুহূর্তের ছবি অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা: ২০১২ সাল থেকে ফেসবুকে কারো একান্ত মুহূর্তের ছবি অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা নিষিদ্ধ। https://www.facebook.com/safety/notwithoutmyconsent/pilot

শিশু যৌন নির্যাতন: ফেসবুক কোনো পরিস্থিতিতেই শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনমূলক ছবি বা ভিডিও শেয়ার করতে দেয় না।

টুলস

ব্যবহারকারীরা কী শেয়ার করবেন, কাদের সাথে শেয়ার করবেন, হোমপেজে কী ধরণের কন্টেন্ট দেখতে চান এবং কারা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন তা ‘নিরাপদ থাকুন’, ‘আপনার অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত করুন’, ‘আপনার তথ্য সুরক্ষিত করুন’ ইত্যাদি টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন: https://www.facebook.com/safety/tools/safety

ফেসবুক উৎসাহিত করে, ব্যবহারকারীরা যদি কোনো পোস্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করছে বলে মনে করেন তবে সেই পোস্টের ডানদিকে উপরে তিনটি বিন্দুতে ক্লিক করে যেন রিপোর্ট করেন। রিপোর্ট করার সময় কোন নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সব রিপোর্টই সমান গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

রিসোর্স

সবচেয়ে বেশিবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলো নিয়ে ফেসবুকের একটি হেল্প সেন্টার রয়েছে। পাশাপাশি একটি হেল্প কমিনিটি ফোরামও আছে যেখানে নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান দেয়া হয়। এছাড়াও আছে সেফটি সেন্টার (https://www.facebook.com/safety) যেখানে ব্যবহারকারীরা নীতিমালা, টুলস ও রিসোর্সগুলোর লিংক পাবেন।

বিভিন্ন সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব

স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব ফেসবুকের সাফল্যের মূলমন্ত্র। এ বছরের শুরুতে তারা তাদের ইনফরমেশন হাবের মাধ্যমে করোনাকালীন সময়ে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদে থাকা যাবে সে সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে অংশীদারিত্ব করেছে। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণগুলো শনাক্ত করা এবং জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা ইত্যাদি বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া তথ্য ফেসবুক কভিড-১৯ ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে ২০০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং ফেসবুকে ও ইনস্টাগ্রামে পপ-আপ মেসেজের মাধ্যমে ৬০ কোটি মানুষের কাছে আরও বিস্তারিত তথ্য পৌঁছে দিয়েছে।- ইউএনবি

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh