পেঁয়াজ সিন্ডিকেট

বাজার পর্যবেক্ষণে চার গোয়েন্দা সংস্থা

হঠাৎ করে ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণায় অনেকটাই বিচলিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সেখানে আবার এই পরিস্থিতিকে আরো অস্বাভাবিক করে তুলেছে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এসব ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে রফতানি বন্ধের আগেই পেঁয়াজের মূল্য প্রায় তিনগুন বেড়ে তুঙ্গে উঠেছে।

অকারণে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। কেবল তাই নয়, চক্রটি সরকারকেও বিব্রত করেছে। পেছনের দিকে তাকালেই দেখা যাবে, গত বছরও এই চক্রটি এমন কাজ করেছিল। যার কারণে গত বছর প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকায় উঠেছিল।

তবে এ বছর এই সিন্ডিকেটকে ধরতে ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

জানা গেছে, এবার পেঁয়াজ সিন্ডিকেটকে ধরতে বাজারে নেমেছে সরকারের চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। মূলত বাজার মনিটরিংয়ে নিয়মিত কাজ করলেও এবারের প্রেক্ষাপটটি ভিন্ন। বাড়তি কিছু দায়িত্ব দিয়ে তাদের মাঠে নামানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।  

এদিকে সূত্র মতে, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের সম্পর্কে ইতোমধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে বিভিন্ন তথ্য এসেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করতে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বাজারে আরো ব্যাপকভাবে খোঁজ নেবে। তাদের সংগ্রহ করা সেসব তথ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছাবে। সংশ্লিষ্ট মহল এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শুধু পেঁয়াজ নয়, নিত্য-পণ্যের মজুত পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষন করবে গোয়েন্দা সংস্থা। এমনটাই জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্রের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা পেঁয়াজ মিলিয়ে কোনোভাবেই সংকট হয়ার কথা নয়। তারপরও বাজার কেন লাগামহীন তা খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দারা। বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে কয়েকজন বড় আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

অন্যদিকে, পেঁয়াজের বাজারের হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। এরই অংশ হিসেবে দেশের পেঁয়াজের বাজারে একচেটিয়া প্রভাব বা মনোপলি ঠেকাতে কাজ করা বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন চলতি সপ্তাহেই একটি সভা করার আয়োজন করেছে। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh