ফের বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হওয়ার তৃতীয় দিনের মাথায় ফের তা বন্ধ করে দিয়েছে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

এতে উভয় দেশের সীমান্তে আটকা পড়ে নষ্ট হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্য। আবার বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল রবিবার (৩ মে) বিকেল থেকে এ পথে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়।

ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি বন্ধ করার জন্য রবিবার দুপুরে বনগাঁ থেকে ছয়ঘরিয়া পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করে। ফলে পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে আবারো পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। 

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৪১ দিন বন্ধ থাকার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছিল। গত দুই দিনে ভারত থেকে ১৫ ট্রাক পাট বীজ, মেস্তা বীজ ও ভুট্টা বীজ আমদানি হয়। লাইনে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বহু পণ্যসামগ্রী।

আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও বন্দর চালু রয়েছে সার্বক্ষণিক। মাঝে মধ্যে বন্দর থেকে দু-চারটি চালান ডেলিভারি হচ্ছে যথা নিয়মে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তের ওপারে পেট্রাপোল বন্দরের সেন্ট্রাল পার্কিং থেকে পণ্যবোঝাই ভারতীয় ট্রাক নো-ম্যানসল্যান্ডে আসলে, সেখান থেকে বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট করে বেনাপোল বন্দরে আনলোড করা হচ্ছিল। এসময় উভয় দেশের ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। কাজগপত্র লেনদেন ও লোড-আনলোডে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করেই কার্যক্রম চলছিল।

বেনাপোল কাস্টমস হাউস প্রতিদিন ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে থাকে। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় এ পর্যন্ত সরকারের ক্ষতি হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, বনগাঁ উত্তরের সাবেক এমএলএ গোপাল শেঠ ও বনগাঁ পৌরসভার মেয়র শংকর আঢ্য ডাকু পণ্য রফতানিতে বিরোধিতা করে কালীতলা পার্কিং থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক আসতে বাধা দেয়। সাধারণ তৃণমূল সমর্থকদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে আন্দোলন শুরু করে দেয়। বর্তমানে কালীতলা পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক হাজার ৯৮৩টি পণ্যবোঝাই ট্রাক। এসব ট্রাক থেকে বনগাঁ পৌরসভা প্রতিদিন ছোট গাড়ি ৫০ টাকা, ৬ চাকা ৮০ টাকা, ১০ চাকা ১২০ টাকা ও ট্রেলার ১৬০ টাকা হারে পার্কিং চার্জ আদায় করে থাকে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, সরকারিভাবে বা কাস্টমসের পক্ষ থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করা হয়নি। ট্রাক ড্রাইভারদের মাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে, এমন অজুহাতে তৃণমূল কংগ্রেসের বনগাঁ উত্তরের সাবেক এমএলএ গোপাল শেঠ ও পৌর মেয়র শংকর আঢ্য ডাকু জনগণকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে আন্দোলন করে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh