জামায়াত-শিবির নেতাদের কাঁধে আহমদ শফীর মরদেহ!

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পরপরই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির কে হচ্ছেন তা নিয়ে যখন জল্পনা-কল্পনা চলছে ঠিক তখনই আল্লামা শফীর মরদেহ বহন করা নিয়ে নতুন আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত জামায়াত-শিবির নেতাদের আল্লামা শফীর মরদেহ বহন করা নিয়ে। কারণ, শনিবার জামায়াতের প্রভাবশালী দুই শীর্ষ নেতা, সাবেক এমপি ও শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারিকে আহমদ শফীর মরদেহ বহনকারী খাটিয়া তাদের কাঁধে নিতে দেখা গেছে। সাধারণত, ইসলামিক নিয়ম ও ধর্মীয় রীতি অনুসারে পরিবারের সদস্য অথবা নিকট আত্মীয়দেরই এ খাটিয়া বহন করতে দেখা যায়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ কওমি অঙ্গনের ছাত্র-শিক্ষকরা।

এদিকে, আহমেদ শফীর মরদেহ বহনে হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। জামায়াত নেতাদের পাশে উপস্থিত কওমি মাদ্রাসা সংগঠনের অন্যতম নেতা আল্লামা মামুনুল হকের উপস্থিতি এ বিতর্ক আরো বাড়িয়েছে। আহমেদ শফীর জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তার লাশ যখন বহন করতে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন দেখা যায় মাও. মামুনুল হক, জামায়াতের চট্টগ্রামের সাবেক এমপি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক এমপি ও জামায়াতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মিয়া ও ছাত্র শিবিরের বর্তমান কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সালাহউদ্দিন আয়ুবী তার লাশ বহন করছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের বহু নেতা।

জামায়াত-শিবিরের কাঁধে লাশ বহনে আল্লামা শফীর শেষ যাত্রায় এতোদিনের অভিযোগ আবার সামনে চলে এসেছে। এদিকে কোনো রাখঢাক না নিয়েই জানাজায় অংশ নেয়া জামায়াত-শিবির নেতাদের তালিকা প্রকাশ করেছে জামায়াত। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রাহিমাহুল্লাহু এর জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে জানাজায় আরো অংশগ্রহণ করেন- কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরী শাখা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর সাংগঠনিক জেলা শাখার আমির আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মাদ উল্লাহ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সালাউদ্দিন আইয়ুবীসহ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মী।

প্রসঙ্গত, আহমদ শফী বরাবরই জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শের সমালোচনা করতেন। তার লিখিত ‘হক বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব’ বইয়ে জামায়াতে ইসলামী দলকে একটি ভ্রান্ত ও বাতিল দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী জানান, জামায়াত নেতাদের দেখে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। কারণ আল্লামা শফী জামায়াতের রাজনৈতিক মতবাদকে বাতিল বলেই মনে করতেন। আর তার মরদেহ তাদের কাঁধে কিভাবে যায়। সেখানে আহমদ শফীর লাখ লাখ ছাত্র, ভক্ত উপস্থিত। তবে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার শঙ্কায় অনেকই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেননি।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh