আ.লীগ ও গণতন্ত্র একসাথে যায় না: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসাথে যায় না। আওয়ামী লীগের কেমিস্ট্রি হচ্ছে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। তারা যেকোনো মূল্য একাই ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রকে পরিচালনা করবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত ‘মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তর্ধান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, জাতিকে আবদ্ধ করে রাখার জন্য যে সব আইন করা দরকার বর্তমান সরকার তা করেছে। উদ্দেশ্য একটাই যেন ভিন্নমত কথা বলতে না পারে এবং তাদের অপকর্মগুলো জনগণের কাছে প্রকাশিত না হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এই আইন বাতিল এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যেটা চলছে আমার কাছে মনে হয় সেটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৭২ সালে তারা যখন ক্ষমতায় এসেছিলো তখনো তারা বিভিন্ন গনবিরোধী আইন করার মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে। আমি বলব এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বদলে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। বদলে দেয়ার পথ একটাই আর সেটি হচ্ছে আন্দোলন সংগ্রাম। আমাদের সেই আন্দোলন সংগ্রামেকে এগিয়ে নিয়ে যেয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করতে হবে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে এরা মোটেও শক্তিশালী না। যারা দিনের ভোট রাতে করে মিথ্যার উপর ভিত্তি করে টিকে থাকে তারা কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না।

ফখরুল বলেন, আমার কাছে মনে হয় সারাবিশ্বে কর্তৃত্ববাদী সরকারের প্রবণতা বেড়েছে এবং বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। গণতন্ত্র এখন আগের জায়গায় নেই। বৈশ্বিক কারণে গণতন্ত্র পেছনের দিকে চলে গেছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন যেই আমেরিকাকে গণতন্ত্রের আঁতুরঘর বলা হয় সেখানে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর কিভাবে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আমেরিকার মতো ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে যেটা কখনো কাম্য না।

সাংবাদিকদের গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আপনারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে আছেন। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শক্তিশালী আন্দোলনের মাধ্যমে এই অগণতান্ত্রিক সরকারকে পরাজিত করে একটি জবাবদিহিতামূলক জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, বিএফইউজের সিনিয়র সহ সভাপতি নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বাছির জামাল ও রাশেদুল হক, ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সাবেক সভাপতি একেএম মহসিন, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট আবদুল আউয়াল ঠাকুর প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh