সেপ্টেম্বরে মাঠে ফিরছে রাজনীতি

দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে সক্রিয় রাজনৈতিক কার্যক্রম থমকে পড়েছিল। এতোদিন ভার্চ্যুয়াল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল রাজনৈতিক দলগুলো। তবে সেই ধাক্কা সামলে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ইতোমধ্যে নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়গুলো। দলীয় কর্মসূচিতেও বাড়তি উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে সাংগঠনিক পুনর্গঠনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। 

বড় পরিসরে আপাতত গণজমায়েত না করলেও ঘরোয়া আলোচনা সভা, মানববন্ধনসহ দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও কিছুটা স্বাভাবিক হলে রাজপথে পুরোদমে নামার চিন্তা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এই বছরজুড়ে আওয়ামী লীগের বিস্তারিত কর্মসূচি ছিল। এছাড়া তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাস ও বন্যার কারণে যা অনেকটা থমকে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ও বন্যায় অসহায় মানুষের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা দেয়াই এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি।

অন্যদিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, বেশ কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তেমন ছিল না বললেই চলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। করোনার কারণে কয়েক মাস সাংগঠনিক পুনর্গঠন স্থগিত রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ রয়েছে। এরপর দলের নীতিনির্ধারকরা বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে আশা করা যায়, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন ফের শুরু হতে পারে। বিএনপির পুনর্গঠন স্থগিত থাকলেও অঙ্গ সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

এখন আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভিড় বেড়েছে। ১৭ আগস্ট থেকে শূন্য হওয়া পাঁচ আসনের উপ-নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদানের কার্যক্রম শুরু পর থেকে সেখানেও ভিড় বাড়তে থাকে। বেশির ভাগ প্রার্থীই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন করে দলীয় মনোয়ন ফরম ক্রয় ও জমা দিতে দেখা গেছে। ফলে আবার আগের মতোই জমে উঠছে দলীয় সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়।

এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসেই পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সম্মেলন হওয়া অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। করোনার কারণে অনেক জেলায় সম্মেলন করা যায়নি। সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। এছাড়া করোনা সংকটের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও তাঁতী লীগের কমিটি। শিগগিরই এসব কমিটি পুনর্গঠনের কাজ বাকি।

অন্যদিকে, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৯ আগস্ট জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতে যান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী বনানীতে তার কবর জিয়ারত করেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh