বিশ বিশের সাংবাদিকতা: চ্যালেঞ্জ ও বিসর্জন

দুই হাজার বিশ সালকে অনেকে বিষের সাথে তুলনা করছেন। প্রার্থনা করছেন দ্রুত বিদায় হোক এই বিশ, বিষ। মূল কারণ এক অদৃশ্য জীবাণু, করোনাভাইরাস। মানব ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম কোনো একটি ভাইরাস দীর্ঘ সময়ের জন্য পুরো পৃথিবী নিশ্চল করে দেয়। 

ইউরোপ-আমেরিকার শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোরও ত্রাহি অবস্থা। সঙ্গত কারণে বাংলাদেশেও লাগে করোনাভাইরাসের ঢেউ। কেউই এ থেকে নিস্তার পাননি। কমবেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ স্বজন হারিয়ে, কেউ অসুখে ভুগে, কেউ চাকরি হারিয়ে কিংবা কেউ আয় কমে যাওয়ায় বিবিধ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এ সময়টি পার করছেন ও প্রার্থনা করেছেন এই বিষাক্ত বছরটি যেন দ্রুত বিদায় নেয়। 

বিশ বিশের সাংবাদিকতা

করোনাভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগে ফ্রন্টলাইনার বা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে যাদের বিবেচনা করা হয়, সংবাদকর্মীরা তাদের অন্যতম। হাসপাতালসহ যেসব স্থান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব জায়গায় গিয়েও সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। শুরুর দিকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত ছিল না। 

আবার সাংবাদিকদের কাজের ধরনটাই এমন যে, সব সময় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়ে মাঠে যাওয়া সম্ভব হয় না। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে একটি ড্যামকেয়ার ভাব বা পাত্তা না দেওয়ার মানসিকতাও থাকে। তারা অন্য পেশার লোকদের চেয়ে একটু বেশি সাহসীও হন। এসব কারণে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সংবাদকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। ২৩ ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, মোট আক্রান্ত সংবাদকর্মীর সংখ্যা এক হাজার ১০৭। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৯ জন, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের, আর করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২০ জন। 

সঙ্গত কারণেই করোনাকালে যে ধরনের সাংবাদিকতা মানুষ প্রত্যাশা করেছে বা করছে, সেটির পথে প্রধান অন্তরায় ছিল এই মৃত্যুভীতি। অন্যান্য বড় ঘটনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা যেমন ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত থেকে সত্য বের করে আনার চেষ্টা করেছেন বা করেন, করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে সেটি সম্ভব হয়নি আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুঝুঁকির কারণে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেকে ঘটনাস্থল, যেমন- হাসপাতাল, মর্গ ও কবরস্থানে গিয়ে সংবাদ কাভার করলেও সব প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের জন্য এটি অনুমোদন দেয়নি। 

দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকের প্রধান শক্তি যে সূত্র বা সোর্স, করোনাভাইরাসের কারণে সেসব সোর্সের কাছেও সাংবাদিকদের পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সরকারি অফিস মাসের পর মাস বন্ধ থেকেছে; খুললেও সেখানে কর্মী উপস্থিতি ছিল কম। ফলে সাংবাদিকদের পক্ষে সরকারি ভাষ্যের বাইরে গিয়ে নিজস্ব অনুসন্ধানে রিপোর্ট করার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। যারা সুযোগ পেয়েছেন তারা করেছেন ও এখনো করছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও যেহেতু সংবাদমাধ্যম এখন এক ধরনের বড় অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ও আরো নানাবিধ সংকটের ভেতর দিয়েই সংবাদমাধ্যমকে যেতে হচ্ছিল, ফলে নিজেদের বিবিধ সংকট, ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে কাহিল দেশের মূলধারার সব সংবাদমাধ্যমের পক্ষেও কাক্ষিত সাংবাদিকতা করা সম্ভব হয়নি। 

সংবাদকর্মীদের বেতন না দেয়া, মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর বেতন বকেয়া রাখা, ইনক্রিমেন্ট-প্রভিডেন্ট ফান্ড-গ্র্যাচুইটিসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা না দেয়া, বিনা কারণে বা ঠুনকো অজুহাতে চাকরিচ্যুতি, সাংবাদিকতার সাইনবোর্ডে মালিকের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষাসহ নানাবিধ কারণে পুরো সংবাদমাধ্যম খাতে যে অস্থিরতা চলে আসছিল, কভিড-১৯ তা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। সাংবাদিকদের পেশা ও জীবন-জীবিকার অনিশ্চয়তা বেড়েছে যেকোনো সময়ের তুলনায়। দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম থেকেও গণহারে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। যখন এ রকম বড় বড় প্রতিষ্ঠানেও কর্মীদের চাকরি সুরক্ষিত নয়, তখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কী হাল, তা বুঝতে গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না।

ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, মানুষের রুচি ও অভ্যাসের পরিবর্তন, বিতরণ সমস্যাসহ নানা কারণেই ছাপা কাগজের প্রচারে ধস নেমেছে। সারাবিশ্বের চিত্রই এক। পক্ষান্তরে পাঠক বেড়েছে অনলাইনে। ফলে সংবাদপত্রগুলো শুধু অনলাইন সংস্করণে ঝুঁকেছে তা-ই নয়, বরং তারা পাঠকের চাহিদা মেটাতে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অনেকে সংবাদের সাথে ভিডিও কনটেন্টও দিচ্ছে। ফলে ছাপা বা মুদ্রিত সংবাদপত্রের জন্য যে নিম্নচাপের সংকেত ছিল, করোনাকালে এসে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: কেসস্টাডি কাজল

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বরাবরই চ্যালেঞ্জিং ও ঝুঁকিপূর্ণ। করোনাভাইরাস সেই চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মূল অস্ত্র হলো সোর্স বা সূত্র; কিন্তু দীর্ঘদিন সাধারণ ছুটি বা লকডাউন থাকায় ও পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় সাংবাদিকদের পক্ষে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা বা ক্রসচেক করা সম্ভব হয়নি। যেমন শুরু থেকেই করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের যে পরিসংখ্যান আইইডিসিআর ও পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তরফে ঘোষণা শুরু হয়, অনেক সময়ই দেখা গেছে সেসব সংখ্যা ও তথ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। 

এসব ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা সরকারি ভাষ্যের সাথে বাস্তবতার মিল-অমিল অনুসন্ধান করেন তাদের নিজস্ব সোর্স বা সূত্র ব্যবহার করে; কিন্তু করোনাভাইরাসে মৃত্যু, শনাক্ত ও আক্রান্তের ইস্যুতে নানারকম সন্দেহ-সংশয় প্রকাশ করা হলেও সেসব নিয়ে খুব বেশি অনুসন্ধানী সংবাদ চোখে পড়েনি।  

কেবল করোনাভাইরাসের কারণেই যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে তা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ববাদী ধ্যান-ধারণার বিকাশ ও বিস্তৃতির কারণে উন্নয়নশীল, উঠতি গণতান্ত্রিক এমনকি কিছু উন্নত দেশেও দৃশ্যমান, যা মুক্তচিন্তা ও সমালোচনাধর্মী সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান অন্তরায় বলে বিবেচিত হয়। 

অনুসন্ধানী সংবাদ করতে গিয়ে আগের চেয়ে সাংবাদিকরা অনেক বেশি ব্যক্তিগতভাবে ঝুঁকিতে পড়ছেন। শুধু বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, অনেকে রাষ্ট্রীয় হুমকিরও শিকার হচ্ছেন। অনেকে জড়িয়ে পড়ছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বিতর্কিত মামলায়। খাটছেন জেল। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে আলোকচিত্র সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের নাম। 

মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর গত ৯ মার্চ রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় আলোকচিত্রী কাজল, মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলায় বানোয়াট তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরদিন কাজল নিখোঁজ হন। এর প্রায় দুই মাস পরে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার বা তার সন্ধান কিংবা তাকে আটক করা হয়। পরে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ধরনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে অনেক সময় গুম বলা হয়। যেহেতু কাজল ফিরে এসেছেন, তাই এটি ঠিক গুম নয়। অথবা বলা যায়, কাজলকে গুম করা সম্ভব হয়নি। অনেক গুরুতর অপরাধে গ্রেফতার আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলেও কাজল মাসের পর মাস জামিন পাননি। গ্রেফতারের সাত মাস পর গত ১৭ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত তাকে সব মামলায় জামিন দেন।

অস্বীকার করা যাবে না, বাংলাদেশে একশো ভাগ ভয়মুক্ত পরিবেশে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতার পরিবেশ কখনোই ছিল না। তবে সেই ভয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আইনটি পাশের আগে থেকেই সংবাদকর্মীরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন; কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। 

করোনাকালে ত্রাণসামগ্রী চুরি ও আত্মসাতের খবর প্রচার করেও অনেক সাংবাদিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার শিকার হয়েছেন। টেলিফোনের কলচার্জ বাড়ানোর প্রতিবাদ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে ১৫ বছরের এক স্কুল পড়ুয়া কিশোর গ্রেফতার হয়ে এখন কিশোর সংশোধনাগারে। একই আইনে গ্রেফতার হয়েছেন রংপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। অভিযোগ- তারা প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিমকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। 

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৮ সালে জারি হওয়ার পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৮০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে সাংবাদিক ছাড়াও আছেন লেখক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মী। অভিযুক্ত ১১৪ জনকে মামলার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

একদিকে নানাবিধ চাপে নিজেদের টিকে থাকার লড়াই; অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি- সব মিলিয়ে সংবাদমাধ্যম যে সংকটের মধ্যে পড়েছে, তার সুযোগ নিচ্ছেন ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। তারা আগের চেয়ে অনেক সহজেই এখন সাংবাদিকদের ভয় দেখাতে পারছেন ও এই ভয়জনিত পরিস্থিতি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ অধিকতর সংকুচিত করছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২০ সালে মুক্ত সাংবাদিকতায় আরও এক ধাপ পিছিয়ে গেছে। ৩ মে মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস উপলক্ষে তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৫১, যা দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। শুধু তা-ই নয়, যে মিয়ানমারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলে কিছু নেই, সেই মিয়ানমারেরও পেছনে বাংলাদেশের অবস্থান।

বিসর্জন সমাচার

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রধানতম সমস্যা হলো- পেশাদারিত্বের সংকট। কেন এখানে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠেনি বা উঠছে না, তা দীর্ঘ আলোচনা ও তর্কের বিষয়; কিন্তু পেশাদারিত্ব না থাকায় এর প্রধান ভিকটিম হচ্ছেন মূলত সংবাদকর্মীরাই; করোনাভাইরাসের মতো বৈশ্বিক মহামারি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের বিপুল অর্জন যেমন রয়েছে, তেমনি এর সাম্প্রতিক ইতিহাস বিসর্জনেও ভরা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সংবাদপত্রের পাশাপাশি দেশীয় সংবাদপত্রের ভূমিকা ইতিহাসে উজ্জ্বল। এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সাহসী ভূমিকা প্রশংসনীয়; কিন্তু সাম্প্রতিক প্রবণতা কেবলই আপসের। টিকে থাকার লড়াই করতে গিয়ে ক্ষমতাবানদের বিরাগভাজন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রাণপণ লড়াই। 

অথচ এই সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশে গণমাধ্যম দারুণভাবে বিকশিত হয়েছে। ৩০টিরও বেশি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। যদিও ইন্টারনেট বা অনলাইন সাংবাদিকতা সহজ হওয়ায় অপসাংবাদিকতাও বিস্তৃত হয়েছে। হাতেগোনা কিছু সংবাদপোর্টাল বাদ দিলে অধিকাংশই কোনো না কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতি-নৈতিকতার চর্চা হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব চটুল ও চটকদার অনলাইন পোর্টালের ভুয়া, উদ্ভট ও হাস্যকর ‘সংবাদ’ পরিবেশন- যা সামগ্রিকভাবে সংবাদমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

পরিশেষে...

ডিজিটাল হুমকি, হয়রানি এবং ভুয়া তথ্য ও ছবির কারণে সাংবাদিকরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে সম্পাদনার মাধ্যমে বদলে দেওয়া ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারাটাও এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় ভেসে বেড়ানো খবর, তথ্য, গুজব ও প্রপাগান্ডা থেকে ফিল্টার করে সঠিক তথ্যটি বের করে আনাও ২০২০ সালজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। 

এই চ্যালেঞ্জ যে খুব কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে, তা নয়। ২০২১ সালে এইসব চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আরও নতুন কিছু যুক্ত হবে কি-না, তা এখনই বলা মুশকিল।


মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh