এক কালোমানিকের গল্প

কলকাতার একটি রাস্তা ধরে সুবেশধারী একজন কালো লোক হেঁটে চলেছেন। তখন ব্রিটিশ আমল। যে রাস্তা ধরে তিনি যাচ্ছেন ওই রাস্তা দিয়ে শুধু শ্বেতকায় ইংরেজরাই চলাফেরা করতে পারেন। ভারতীয় অর্থাৎ কালো লোকেরা এ রাস্তা দিয়ে যেতে পারেন না। পুলিশ লোকটির পথ আটকালেন। বললেন, ‘এ পথে যাওয়া নিষেধ। এ পথ শুধু ইংরেজদের জন্যে’। পথিক বললেন, ‘আমি এ পথেই যাবো’।

ফলে হৈচৈ। চারদিক থেকে লোক জড়ো হলো। আরো কয়েকজন পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে গেলেন। ইতোমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পৌঁছে গেছে। ছুটে এলেন পুলিশের এক বড়কর্তা। পথিককে একনজর দেখেই পুলিশি কায়দায় সালাম ঠুকলেন বড়কর্তা। সবাই অবাক। পুলিশের বড়কর্তা নিজের গাড়িতে করে পথিকটিকে তার বাসায় পৌঁছে দিলেন। কে এই পথিক? 

তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বিতীয় মুসলমান বিচারপতি। সাথে সাথে তিনি এই সাদা-কালোর আইন বদলানোর সংকল্প নিলেন। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আদালতে নালিশ করলেন। রায় বের হলো। আইনের চোখে কোনো সাদা-কালো নেই। এ রাস্তা সবার জন্য উন্মুক্ত। খবরের কাগজে বড় শিরোনামে এ খবর প্রকাশিত হলো। পথিক বিচারপতির প্রশংসায় সারা ভারত মুখরিত হয়ে উঠলো।

এই কালো পথিকের পুরো নাম নওয়াব স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা চৌধুরী। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ গ্রামে প্রখ্যাত সৈয়দ পরিবারে তার জন্ম। হযরত শাহজালালের (র.) সাথে আগত ওলিদের অন্যতম সৈয়দ বন্দেগি শাহ ইসমাইল তার পূর্বপুরুষ।

শামসুল হুদার পিতামহ সৈয়দ শরাফতউল্লাহ্ অষ্টাদশ শতকের চল্লিশের দশকে চট্টগ্রামে বিচার বিভাগের একজন পদস্থ সরকারি কর্মচারী ছিলেন। শামসুর হুদার পিতা সৈয়দ রিয়াজাতউল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া দেওয়ানি আদালতের একজন উকিল ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতায় নবাব আব্দুল লতীফ খান বাহাদুর (১৮২৬-১৮৯৩) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফার্সি ভাষায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘দূরবীন’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি ১৮৬৪ থেকে ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া তিনি ফার্সি ভাষার একজন কবিও ছিলেন।

শামসুল হুদা ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএ এবং একই কলেজ থেকে ১৮৮৬ সালে বিএ পাশ করেন। আইন পড়ার সময় তিনি প্রাইভেট পরিক্ষার্থী হিসেবে ফার্সিতে এমএ পাস করেন।

তাঁর কর্মজীবন শুরু বিখ্যাত ‘কলকাতা মাদ্রাসা’য় আরবি-ফার্সির অধ্যাপক হিসেবে। ‘আইন’ পাস করার পর তিনি ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হন। স্যার সৈয়দ আমীর আলীর (১৮৪৯-১৯২৯) পর শামসুল হুদা ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বিতীয় মুসলমান বিচারপতি। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফেলো’ নির্বাচিত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি সাধনে যথেষ্ট অবদান রাখেন। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঠাকুর আইন অধ্যাপক’ নিযুক্ত করা হয়। অধ্যাপনার সময় ‘দণ্ডবিধি আইন’ সম্পর্কে তিনি যেসব বক্তৃতা দেন সেগুলো পরবর্তীকালে ‘ব্রিটিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি আইন’ নামে ইংরেজি ভাষায় পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে। সেই সময় শামসুল হুদার গভীর আইন অভিজ্ঞতার খ্যাতি সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯০৯-১২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি পূর্ব বাংলার মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে ‘ইম্পেরিয়েল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল’র সদস্য ছিলেন। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কারমাইকেল ‘বঙ্গ প্রেসিডেন্সি’র গভর্নর নিযুক্ত হন। লর্ড তাঁর যে ‘এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল’ গঠন করেন এর তিনজন সদস্য ছিলেন যথাক্রমে অনারেবল জাস্টিস নওয়াব স্যার শামসুল হুদা কে.সি.আই.ই; অনারেবল স্যার এন.ডি. বিটসন্বেল কেটিসি এবং অনারেবল স্যার পি.সি. লায়ন কেটি। ওই কাউন্সিলে শামসুল হুদা সর্বপ্রথম ভারতীয় সদস্য। এর আগে কেবল ব্রিটিশরাই ওই কাউন্সিলের সদস্য হতেন। ওই কাউন্সিলে থাকাকালীন তিনি স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী-শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন। 

রাজনীতিতে শামসুল হুদা বিভিন্ন সময় বিশিষ্ট ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি ‘কলকাতা সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন’র সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে সরকার চট্টগ্রাম বিভাগকে আসামের সাথে যুক্ত করার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তিনি এর বিরুব্ধে প্রতিবাদ জানান। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে শামসুল হুদা পূর্ববঙ্গ ও আসাম আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

বিভিন্নক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে জনাব শামসুল হুদাকে ‘নওয়াব’ এবং ১৯১৬-তে কে.সি.আই.ই (Knight Commander of the Indian Empire) খেতাবে ভূষিত করে ব্রিটিশ সরকার। শেষোক্তটি একটি দুর্লভ সম্মান। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে শামসুল হুদা ‘সর্বভারতীয় মুসলিম লিগ’র সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯১২-১৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ‘বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল’র সদস্য, ১৯১৭-২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং ১৯২১-এ ‘বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল’র প্রেসিডেন্ট পদে যোগদান করেন। তিনিই ছিলেন বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার (B.L.C) প্রথম ভারতীয় সভাপতি। পদটি বর্তমান জাতীয় সংসদের ‘স্পিকার’র সমতুল্য।

১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তৎকালীন বঙ্গীয় প্রেসিডেন্সির গভর্নর লর্ড রোনান্ডশে শামসুল হুদাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন সদস্যপদ দান করেন। উল্লেখ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি গঠিত হয়েছিল এর অন্যতম সদস্য ছিলেন শামসুল হুদা। বাকি দুজন ছিলেন ইংরেজ। এখানে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবার পর ভারতখ্যাত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এএফ রহমান (আহমদ ফজলুর রহমান) শামসুল হুদাকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে প্রফেসর হিসেবে নিয়োগদানে যেন গভর্নর লর্ড রোনান্ডশেকে সুপারিশ করেন। লেখা বাহুল্য, তিনি তাঁর জন্যে সুপারিশ করেছিলেন এবং জনাব রহমান ‘ইতিহাস বিভাগ’র ‘রিডার’ পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। পরবতীকালে এএফ রহমান ‘স্যার’ উপাধি প্রাপ্ত হন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নির্বাচিত হন। তাঁর নামে ‘স্যার এএফ রহমান হল’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান আছে। 

এক সময় শামসুল হুদা ‘ত্রিপুরা হিতসাধিনী সভা’র সভাপতি ছিলেন। ‘ত্রিপুরা হিতসাধিনী সভা’ ঢাকা ও কুমিল্লা শহরে একযোগে স্থাপিত হয় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে। এটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন একটি সমাজকল্যাণমূলক সমিতি। এর সদর দফতর বর্তমানে কলকাতার ৩, সূর্যসেন স্ট্রিটে (কলেজ স্কোয়ার) অবস্থিত। 

ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ একসময় নওয়াব স্যার শামসুল হুদার ‘আর্টিকল ক্লার্ক’ বা ‘জুনিয়র’ ছিলেন। তিনি রাজেন্দ্র প্রসাদকে নিজ বাসভবনে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন এবং নিজ গাড়িতে করে কোর্টে নিয়ে যেতেন। রাজেন্দ্র্র প্রসাদ তাঁর বাসভবনে থাকাকালীন তিনি গরুর পরিবর্তে খাসি কোরবানি দিতেন। তিনি যে অসাম্প্রদায়িক ছিলেন এটি এক উজ্জ্বল উদাহরণ।  

সমাজসেবায় শামসুল হুদা ছিলেন অনন্য। বিশেষ করে তৎকালে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের শিক্ষার প্রতি তার তীক্ষ্ণ নজর ছিল। তারই সময়ে বাংলাদেশে প্রখম ‘মুসলিম এডুুকেশন কন্ফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহীতে। তিনি ছিলেন সভাপতি। মুসলমানদের শিক্ষার প্রতি বিশেষ নজর রাখার জন্যে শিক্ষা বিভাগে মুসলিম শিক্ষা পরিদর্শক নিয়োগ করা হয় এবং চাকুরিতে ৩৩ ভাগ ‘মুসলিম কোটা’ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কলকাতার মুসলিম ছাত্রদের জন্য তিনি কারমাইকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্যে শামসুল হুদা ভূমির ব্যবস্থা করেন।

মুসলমানদের পত্রিকা প্রকাশেও তিনি সাহায্য করেন। নওয়াব শামসুল হুদা জন্মগ্রাম গোকর্ণে ‘সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়’ স্থাপন করেন। এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে পুকুরের উত্তর পাড়ে শহরের বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্রদের জন্যে স্ত্রীর নামে ‘আসমাতুন্নিছা মুসলিম ছাত্রাবাস’ নির্মাণ করেন; যা আজো বিদ্যমান (বর্তমান লেখক এই ছাত্রাবাসে থেকে কিছুদিন লেখাপড়া করেছেন)। তাঁর প্রচেষ্টায় শহরের ঐতিহ্যবাহী জর্জ ইংলিশ হাইস্কুল (বর্তমানে নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়) ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থায়ী স্বীকৃতি লাভ করে।  

ভারতখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সমাজসেবক নওয়াব স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা চৌধুরী কে.সি.আই.ই. ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৭ অক্টোবর শনিবার কলকাতার ২২১, লোয়ার সার্কুলার রোডস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। কলকাতার তিলজলাস্থ ‘গোর-গরিবাঁ’তে তিনি সমাহিত আছেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। তাঁর মৃত্যুর পর ভারতের হিন্দু-মুসলিম নেতৃবৃন্দ এবং বাংলা-ইংরেজি দৈনিক পত্রিকাগুলো তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরে। ব্রিটিশ শাসনের কঠোর সমালোচক ও স্পষ্টভাষী শামসুল হুদাকে তাঁর সৎসাহস ও অন্যান্য গুণাবলীর জন্যে ইংরেজরা তাঁকে ‘ভারতের কালোমানিক’ (Black jewel of India) বলতেন।

  

তথ্যসূত্র:

০১. শাশ্বত ত্রিপুরা, ‘ত্রিপুরা হিতসাধিনী সভা’র শতবার্ষিকী স্মারক-সংকলন (১৮৭২-১৯৭২), কলকাতা, ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ।

০২. নাসিরনগর পরিচিতি, ঢাকাস্থ নাসিরনগর থানা সমিতির স্মরণিকা, ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ।

০৩. কুমিল্লা জেলার ইতিহাস, কুমিল্লা জেলার পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত, ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ।

০৪. শাশ্বত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকাস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির ১৯৮৬-৮৭-এর অভিষেক উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ।

০৫. কুমিল্লার স্মরণীয়-বরণীয়, এম.এ কুদ্দুস। কুমিল্লা, ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ।

০৬.স্মৃতিকথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সম্পাদনা-মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ। 

০৭. BANGLA ACADEMY ENGLISH- BENGALI DICTIONARY , DHAKA 1994

০৮. বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান, ঢাকা, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ।

০৯. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিবৃত্ত, মুহম্মদ মুসা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জানুয়ারি ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ। 

১০. ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সেকাল ও একাল লুৎফুর রহমান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জুন ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ।

১১. দেশ, কলকাতা, ৮ জুলাই ২০০০ সংখ্যা। 


লেখক: প্রাবন্ধিক, গবেষক ও ছোটগল্পকার।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh