পরিকল্পনাতেই মানসিক প্রশান্তি

মডেল: রুবাইয়া রীতি

মডেল: রুবাইয়া রীতি

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে মানব জাতির অস্তিত্ব যে হুমকিতে পড়েছে, সঠিক পরিকল্পনাই হতে পারে এ থেকে রক্ষা পাওয়ার ও মানসিক শান্তি বজায় রাখার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। 

কর্মক্ষম ব্যক্তির বাইরে যাওয়াবিষয়ক পরিকল্পনা: আস্তে আস্তে সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যতিত এখন প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ফলে কর্মজীবী মানুষকে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই বের হতে হচ্ছে। 

এই অবস্থায় কীভাবে তারা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে চলাফেরা করতে পারে, তার পরিকল্পনার পাশাপাশি বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার করণীয়গুলো পরিকল্পনা করে ফেললে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো ও মানসিকভাবে নিজেকে চাপমুক্ত রাখা সম্ভব। এসব পরিকল্পনার মধ্যে দরজার বাইরে জীবাণুমুক্ত করার সরঞ্জাম রাখা, বাইরে ব্যবহার করা জুতা, জামা-কাপড় কীভাবে ঘরের মধ্যে নেয়া যায় তা পরিকল্পনা করা, অন্যদের সংস্পর্শে আসার পূর্বে হাত-পা ধোঁয়া বা সম্ভব হলে গোসলের ব্যবস্থা রাখা ইত্যাদি বিষয়ে পরিকল্পনা করা যেতে পারে। 

এমন একটি পরিকল্পনা অনুসরণ করেই কিন্তু আমাদের সম্মুখ যোদ্ধারা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। হাসপাতালের কর্তব্য পালন করার পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন পালন করা কিন্তু এই ধরনের একটি পরিকল্পনারই অংশ।  

অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা: করোনাকালীন সময় আমাদের অনেকেরই অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতো না থাকলেও চাহিদা বা প্রয়োজনগুলো রয়ে গেছে একই রকম। মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে নেয়ার জন্য এই পরিবর্তিত অবস্থা মেনে নেয়াটা হচ্ছে প্রথম করণীয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা বিষয়টি মেনে নিতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত পরিকল্পনা করা কষ্টকর। বিষয়টিকে মেনে নিয়ে বর্তমান সামর্থ্য ও প্রয়োজনের একটি তালিকা করে ফেলা যেতে পারে। প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী যে বিষয়গুলো সবচেয়ে দরকারি আপাতত সে বিষয়গুলোতেই খরচ করা হতে পারে পরিকল্পনার অংশ। 

শিশু-কিশোরদের নিয়ে পরিকল্পনা: ০-১৮ বছর বয়সী সব শিশু-কিশোরই কোনো না কোনোভাবে এই মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবারের অন্যদের মধ্যে তাদের নিয়ে এক ধরনের দুঃশ্চিন্তা কাজ করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। করোনাকালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরেও বিভিন্ন বয়সী শিশুরা যাতে ঠিকমতো বেড়ে ওঠার প্রয়োজনীয় উপকরণ পায়, সে বিষয়টা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন জরুরি। 

বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিকল্পনা: বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা করোনার ভয়াবহতায় যে বেশি ঝুঁকিতে আছে, সে কথা কারও আর অজানা নেই। সুরক্ষা নিশ্চিত করা  গেলে মানসিকভাবে তাদের চাপমুক্ত রাখা সম্ভব। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে তাদের বর্তমান স্বাস্থ্যের দিক নজর দেয়া, তারা যদি বর্তমানে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকেন তাহলে প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো নিয়মিত সেবন করার ব্যবস্থা করতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য করণীয় পদক্ষেপ নেয়াও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে যেমন- ঘরের বাইরে যে বা যারা যাচ্ছে, তাদের সাথে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া বন্ধ করা ইত্যাদি।  

শারীরিক সুস্থতায় করণীয় নিয়ে পরিকল্পনা: সুস্থতা নিশ্চিতকরণে অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়েও পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। পরিবারের সবাই একত্রে বসে রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, নিয়মিত ব্যায়াম করা, খাদ্য তালিকায় সুষম খাবার রাখা, প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি নিশ্চিত করা প্রত্যেকটা বিষয়েই পরিকল্পনা করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh