দেশের সিনেমা অঙ্গন ঘুরে দাঁড়াবে কি?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এমনিতেই নানারকম সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে, এর মধ্যে গত প্রায় চার মাস করোনাভাইরাসের কারণে সিনেমা হলগুলো বন্ধ রয়েছে। এমনকি গত দুটি ঈদ গেল, সিনেমা হলগুলোতে হাঁকডাক নেই। 

করোনার কারণে নতুন ছবিও মুক্তি পায়নি। শুটিং নেই, ডাবিং নেই। অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ঠ কর্মীদের। দীর্ঘদিন প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিনেমা হলের মালিক ও কর্মচারীরা। কাজ না থাকায় এতো বড় ইন্ডাস্ট্রিতে বেকার হয়ে পড়ছেন শিল্পীরাও। অভিনয় শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, মেকআপম্যান থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের কাজে নিয়োজিত সবাই পেশা বদলানোর কথা ভাবছেন। 

এমন কি পরিচালক ও প্রযোজকরাও ভাবছেন বিকল্প কোনো ব্যবস্থার কথা। ঢাকার কয়েকটি সিনেমা হল ঘুরে ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের ঘুরে দাড়ানো নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা। 

দুই-তিন মাস আগেই অভিসার সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে হলটির মালিক। ঈদের দিন বিকালে হলটির সামনে সুনশান নিরবতা। দেখা যায়নি কোনো কর্মচারীকেও। অথচ গত বছরও এ সময়টাতে জমজমাট ছিলো অভিসার সিনেমা হল। ঠিক একই দৃশ্য দেখা গেছে মধুমিতা সিনেমা হলটিতেও। এখানকার একজন কর্মচারী আব্দুস সালাম জানান, ঐতিহ্যবাহী এই হলটিও বন্ধ হয়ে যাবে। 

গত কয়েক বছরের মতো এতো খারাপ ঈদ কাটেনি ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের কর্মচারী জাকিরের। তিনি বলেন, ‘হল বন্ধ থাকলে মালিকইবা টাকা কোথা থেকে দেবেন। সারাবছর যা-ই হোক, ঈদের সময় হল থেকে আয় বেশি হয়। তখন আমাদের ঈদটাও ভালো কাটে। এ বছর পরপর দুটি ঈদই কষ্টের মধ্যে পার করতে হচ্ছে।’

বলাকা সিনেমা হলের কর্মচারী শামসুদ্দীন জানান, ‘এ বছর ঈদ বলে কিছু নেই আমাদের জীবনে। চার মাস হল বন্ধ। আমরা দু-একজন ছাড়া সবাই ছুটিতে আছে।’ 

অন্যদিকে গত ঈদের মতো এবারও মুক্তির অপেক্ষায় ছিল হাফ ডজনের মতো ছবি। চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর পুলিশি অ্যাকশন ধাচের চলচ্চিত্র ‘মিশন এক্সট্রিম’, চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের ‘শান’ ও ‘বিশ্বসুন্দরী’, আব্দুর নুর সজলের ‘জিন’ ও শাকিব খানের একটি ছবি মুক্তির দৌড়ে এগিয়ে ছিল। করোনার কারণে সব পরিকল্পনাই ভেস্তে গেছে।

ছোটপর্দার অভিনেতা সজল বলেন, জিন ছবিটি নিয়ে প্রথম দিকে সবার যে আগ্রহ ছিলো, এখন এই ছবির ভবিষ্যত নিয়ে খুব শংকায় রয়েছি। ভবিষ্যতে প্রযোজকরা হয়তো নতুন কোনো ছবি নির্মাণে আর লগ্নি করতে সাহস পাবে না।

সঙ্গীত শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী চলচ্চিত্র গান নিয়ে বলেন, আমাদের মতো শিল্পীর হাতে কাজ নেই। ছবি নেই তাই কাজ নেই। যে হারে হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাতে সংগীত শিল্পীদের কাজ পাওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। দেশের সিনেমাঙ্গন ঘুরে দাড়াবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। 

চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক ফেরদৌস বলেন, পাঁচ-ছয় বছর ধরেই দেশের সিনেমাঙ্গন ভালো যাচ্ছে না। দর্শক খরা, ভালো ছবির সংকটে ভুগছিলো আমাদের সিনেমা। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে হলগুলো বন্ধ করার প্রতিযোগিতা। চলচ্চিত্রের এই সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh