আত্মহত্যার আগে ‘যন্ত্রণাহীন মৃত্যু’ গুগল করেছিলেন সুশান্ত

‘যন্ত্রণাহীন মৃত্যু’, ‘স্কিৎজোফ্রেনিয়া’, ‘মানসিক বৈকল্য’। এই শব্দগুলোই পাওয়া গেছে সুশান্ত সিং রাজপুতের কম্পিউটার ও ফোনের ‘সার্চ হিস্ট্রি’ ঘেঁটে। 

গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন মুম্বাইয়ের পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং। 

১৪ জুন আত্মহ্যার কয়েক ঘন্টা আগে, যন্ত্রণাবিহীন মৃত্যু কীভাবে হয় বলে গুগলে খুঁজে দেখেন সুশান্ত। যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর পাশাপাশি গুগলে নিজের নামও খুঁজে দেখেন সুশান্ত। পাশাপাশি সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ান ও মানসিক অবসাদ লিখেও খোঁজ করেন সুশান্ত। প্রয়াত অভিনেতার মোবাইল ও ল্যাপটপের ফরেন্সিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর পুলিসের হাতে এই তথ্যই উঠে আসে। যা নিয়ে ইতোমধ্যে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ বছর জুন পর্যন্ত সুশান্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছেন তারা। বিভিন্ন জায়গা থেকে এই সময়ে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা জমা পড়েছিল সুশান্তের অ্যাকাউন্টে। তাছাড়া একটি চার কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটও ছিল অভিনেতার।

সুশান্তের বাবা কে কে সিংহ দাবি করেন, তার ছেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী। তবে মুম্বাই পুলিশের দাবি, তাদের তদন্তে এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। 

কে কে সিং দাবি করেছেন, সুশান্তের কোনো বড় বিপদ হতে পারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি বান্দ্রা থানার পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন। প্রায় দেড় মাস ধরে মুম্বই পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দেখার পরেই পটনা পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

একটি সংবাদ সংস্থাকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি আমি বান্দ্রা পুলিশকে জানিয়েছিলাম যে, আমার ছেলেকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। ওর কোনো বড় বিপদ হতে পারে। ১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যুর পরে মুম্বই পুলিশকে দেওয়া বয়ানে আমি কয়েক জনের নামে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম, ৪০ দিন ধরে কিছুই হল না। বাধ্য হয়ে পটনা পুলিশের কাছে নতুন করে এফআইআর দায়ের করি। দেখলাম, তারা খুবই তৎপরভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তবে অভিযুক্ত এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পটনা পুলিশকে (মুম্বাই পুলিশের) সাহায্য করা উচিত। 

এই দুঃসময়ে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও আর এক মন্ত্রী সঞ্জয় ঝা’কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সুশান্তের বাবা।

এদিকে পটনা পুলিশের দলটি মালাওয়ানি থানায় গিয়ে সুশান্তের সাবেক ম্যানেজার দিশার মৃত্যু-তদন্তের নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখে। সুশান্তের মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে ৮ জুন মালাদের একটি বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন তিনি। বিহার পুলিশ জানিয়েছিল, দিশার মৃত্যু নিয়েও তারা তদন্ত করবে। - জি নিউজ ও আনন্দবাজার পত্রিকা  

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh