রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্মদিনে নানা আয়োজন

নানা আয়োজনে ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের স্রষ্টা তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৬৪তম জন্মদিন পালিত হয়েছে।

দিনটির স্মরণে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মোংলা উপজেলার মিঠাখালীতে কবির নিজ গ্রামে রুদ্র স্মৃতি সংসদ সকালে শোভাযাত্রা সহকারে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ মাহফিল এবং দোয়া বিকেলে মোংলা প্রেস ক্লাবে স্মরণসভার আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মোংলা শাখা। করোনাকালীন দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে এবার শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে সংসদ এ আয়োজন করেছে।

স্বল্প জীবনে কবি রুদ্র মোহাম্মাদ শহিদুল্লাহ অনেক কবিতা, ছোটগল্প ও নাটক রচা করেছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে উপদ্রুত উপকূল, ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম, মানুষের মানচিত্র, ছোবল, গল্প, দিয়েছিলে সকল আকাশ, মৌলিক মুখোশ। ছোট গল্পের মধ্যে রয়েছে সোনালি শিশির। বিষ বিরিক্ষের বীজ নাটকেরও রচয়িতা তিনি। ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। এর আগে কর্মের স্বীকৃতি সরূপ ১৯৮০ সালে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন রুদ্র মোহাম্মাদ শহিদুল্লাহ।


অকাল প্রয়াত এই কবি তার কাব্যযাত্রায় যুগপৎ ধারণ করেছেন দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি ততোধিক স্পর্ধায় তিনি উচ্চারণ করেছেন ‘ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাঁকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে উঠেছে তারুণ্যের হাতিয়ার।

ক্ষণ জন্মা এই কবি ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh