ঘুরে আসুন ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের কক্সবাজারের চকোরিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে পশুপাখি মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে। এই পার্কটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক নামেও পরিচিত। 

কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে এবং চকরিয়া থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে,কক্সবাজার জেলা সদরের দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিয়াখালি রেঞ্জের ডুলাহাজারা ব্লকে পার্কটি অবস্থিত। মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অবস্থান ৬০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে।

হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে বাঘ, সিংহ, হাতি, ভালুক, কুমির, জলহস্তী, মায়া হরিণ, সম্বর হরিণ, চিত্রা হরিণ, প্যারা হরিণ প্রভৃতি প্রাণীও রয়েছে।


এই পার্কে স্বাদু পানির কুমির যেমন আছে, তেমনি আছে লোনা পানির কুমির। এছাড়াও ২০১৭ সাল থেকে এ পার্কে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম আফ্রিকান সাফারি যেখানে আফ্রিকান প্রাণী হিসেবে রয়েছে জেব্রা ও ওয়াইল্ড বিস্ট। 

পার্কের প্রধান ফটকের বাম পাশে রয়েছে ডিসপ্লে ম্যাপ। বাঘ, সিংহ ও তৃণভোজী প্রাণীর বিচরণ লক্ষ্য করা যায় বেষ্টনীর ভেতরে। 

অনায়াসে বাঘ-সিংহসহ অন্য প্রাণী পর্যবেক্ষণ করার জন্য রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। যে কেউ চাইলে বাসে করে ঘুরে ঘুরে পুরো পার্ক দেখতে পারবেন।


এখানে প্রাকৃতিক অবকাঠামোর বদলে অত্যাধুনিক ও কৃত্রিম অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে বেশি। তাই অনেকেই একে প্রাকৃতিক সাফারি পার্ক বলতে নারাজ।  

এখানে ঐতিহাসিক জাদুঘর ও বিশ্রামাগার রয়েছে। প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত নির্জন উঁচু-নিচু টিলা,  হ্রদ, বিচিত্র গর্জনের মতো সুউচ্চ বৃক্ষ, চিরসবুজ বনের নাম না জানা গাছ-গাছালি, ফল-ভেষজ উদ্ভিদ, লতার অপূর্ব উদ্ভিদের সমাহার ও ঘন আচ্ছাদন রয়েছে এখানে। 

বাংলাদেশ বন বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ১,০০,০০০ পর্যটক এই পার্ক ভ্রমণ আসেন। পার্কের প্রবেশ মূল্য মাত্র ৫০ টাকা। 

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh