রোববার,  ১৮ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৯, ১৮:২৪:৪১

রিমান্ডে মেয়েরা কতটা নিরাপদ?

ডেস্ক রিপোর্ট
আটকের পর পুলিশী হেফাজতে থাকার সময় নারীদের কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নারী নেত্রীরা বলছেন জিজ্ঞাসাবাদের সময় নারী পুলিশ সদস্য থাকেন কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি তাদের টয়লেট ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কি থাকে তাও মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে কোনোভাবেই হেনস্তার শিকার যেন না হন সেই দাবিও করেছেন নারী নেত্রীরা। 
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেছেন, আমাদের দেশে নারীদের যখন রিমান্ডে নেওয়া হয়, তখন তার সঙ্গে কী আচরণ করা হয় তা স্পষ্ট নয়। থানাগুলোতে যে আচরণ করা হয় তাতেই বোঝা যায় রিমান্ডে কী ধরনের অবস্থা হতে পারে। অবশ্যই নারীকে যখন রিমান্ডে নেওয়া হবে তখন তার মানবাধিকার ঠিক রাখতে হবে। শুধু নারী নয়,  প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা প্রায় সময় দেখি- কোনো নারী যখন অভিযোগ নিয়ে থানায় যায় তখনই তাকে উল্টো দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নানাভাবে জেরা করে অভিযোগকারীকেই অভিযুক্ত করা হয়। এই অভিযোগকারীরা থানায় গিয়ে নানা ধরনের লাঞ্ছনার শিকার হতে থাকে। উল্টো দোষারোপ হওয়ার ভয়ে অনেকে কোনো অপরাধের প্রতিকার পায় না। অনেক সময় নারীদের অভিযোগগুলোকে গ্রহণ করা হয়। আর তাদের রিমান্ডে নিয়ে কী আচরণ করা হয় তা স্পষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি। রিমান্ডে থাকাবস্থায় একজন নারী পুলিশ এবং যে ঘরে রাখা হবে সেখানে অবশ্যই আলাদা টয়লেট থাকা উচিত।
মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পুরুষদের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ আমলের আইন আছে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে চরিত্র বিষয়ে বিব্রতকর প্রশ্ন করা হয়। হেয়প্রতিপন্ন করা এবং নারীদের চরিত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া বাদ দিতে হবে। আসামি হলেও তার মানবাধিকার যেন লঙ্ঘন না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেতন থাকতে হবে। 
তিনি আরও বলেন, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে আমাদের সমাজে নারী ভিকটিম হলেও সমাজ তাকে অপরাধীর আসনে বসিয়ে দেয়। এটা শুধু পুরুষ নয়, নারীরাও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় আবদ্ধ। ধর্ষণ মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ভিকটিমকেই প্রমাণ করতে হয় তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে নারীদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে। অপরাধী শনাক্ত করতে গিয়ে চরিত্র নিয়ে শোরগোল তোলা উচিত নয়। অপরাধ শনাক্ত করতে ফোনকল, এসএমএস, গতিবিধি নজর রাখাসহ অনেক পদ্ধতি রয়েছে। হেয়প্রতিপন্ন না করে, বাজে প্রশ্ন না করেও অপরাধ প্রমাণ করা যায়।
বেসরকারি সংস্থা ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেছেন, একজন নারীকে যখন রিমান্ডে নেওয়া হবে তখন সেখানে একজন নারী পুলিশকে থাকতে হবে সব সময়। এ কথা আইনেও বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে এ চিত্র উল্টো। আইন মেনে তো নারী পুলিশ রাখা হয়ই না বরং জিজ্ঞাসাবাদের নামে নানাভাবে অত্যাচার করা হয়। এ অত্যাচার দুই ধরনের হতে পারে-  শারীরিক কিংবা মানসিক। এটা রিমান্ডে থাকা ব্যক্তির অবস্থানের ওপর এবং পুলিশ কতটা সম্মান করতে জানে তার ওপর নির্ভর করে। এভাবেই অনেকের কাছে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। 
তিনি বলেন, আমরা অনেক মামলায় দেখেছি, একজন আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দী দেওয়ার পর যখন মামলাটি আদালতে ওঠে, তখন কিন্তু ওই আসামি বিচারকের সামনে বলে তাকে চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। পরে সে ওই স্বীকারোক্তি তুলে নেওয়ার আবেদন করে এবং আদালত বেশির ভাগ সময় সেই আবেদন গ্রহণ করে। এ ছাড়া একজন নারী যখন রিমান্ডে থাকবেন। আর যে ঘরে তাকে রাখা হবে সেখানে আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। অথচ অনেকের কাছ থেকে আমি শুনতে পাই- এ ব্যবস্থা রাখা হয় না। যারা এ পর্যন্ত রিমান্ডে গেছে, তারা ফিরে এসে এসব জানিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন।
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com