শনিবার,  ১৭ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৬, ১৭:৪৩:২৩

২৯ পুলিশ সদস্যের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই

অনলাইন ডেস্ক
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে জিম্মি সংকট নিরসনে অভিযানে অংশ নেয়া ২৯ জন পুলিশ সদস্যের পরিবারে ঈদের খুশি নেই। এর মধ্যে ১২ জন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও এখনও রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন গ্রেনেডের স্পি­ন্টারবিদ্ধ ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন) শেখ মারুফ হাসানসহ ১৫ জন। তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন ডিএমপির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল আহাদ, গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, শেখ মারুফ হাসানের বডিগার্ড সোহাগ। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২ জন- কনস্টেবল প্রদীপ চন্দ্র দাস ও আলমগীর হোসেন।
 
আহতদের মধ্যে কয়েকজন পঙ্গুত্ববরণ করতে পারেন- এমন আশংকা করা হচ্ছে। অনেক পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ওই বর্বর হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় ঈদের বাজারও করা হয়নি তাদের। সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ নেই পরিবারগুলোতে।
 
শুক্রবার রাতের ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মূলত জঙ্গিদের নিক্ষেপ করা শক্তিশালী গ্রেনেডের আঘাতেই মারা যান ডিবির সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন। পুলিশ সদস্যরাও আহত হন একই ঘটনায়।
 
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করার পরপরই একটি বিস্ফোরণ ঘটায়। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুলশান থানা পুলিশকে জানায়। থানা পুলিশের একটি টহল দল রেস্তোরাঁটির সামনে যাওয়া মাত্র গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জঙ্গিরা। এতে এক জাপানি নাগরিকদের গাড়িচালক আবদুর রাজ্জাক, পুলিশ কনস্টেবল প্রদীপ চন্দ্র দাস ও আলমগীর হোসেন আহত হয়। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ঢামেক হাসপাতালে।
 
পুলিশের টহল টিম বিষয়টি থানা ও গুলশান বিভাগের ডিসিকে জানান। ডিসি তাৎক্ষণিক গুলশান জোনের সব থানার ওসিকে মেসেজ দেন এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। খবর পেয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে যান ডিএমপির কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান, গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ, এডিসি আবদুল আহাদ, গুলশান ও বানানী থানার ওসিসহ কর্মকর্তারা। তারা আর্টিজানের গেটের এক পাশে দাঁড়িয়ে অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে এন্টিপারসোনেল কার (এপিসি) খবর দেয়া হয়। সবাই অপেক্ষা করছিলেন, এপিসি এলেই অভিযানে যাবেন। এর মধ্যেই শক্তিশালী গ্রেনেড ছুড়ে মারে জঙ্গিরা। এতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
 
অভিযানে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা বলেন, তার পেছনে ছিলেন ওসি সালাউদ্দিন। বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পি­ন্টার বিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। শেখ মারুফ হাসানের পায়ে ও গুলশান থানার ওসির হাঁটুতে স্পি­ন্টার বিদ্ধ হয়। শেখ মারুফ হাসান আহত অবস্থায় তার গাড়িতে করে ওসি সালাউদ্দিনকে হাসপাতালে পাঠান। আরও একটি পিকআপ ডেকে এডিসি আহাদ ও ডিবির এসি রবিউল ইসলামকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠান।
 
ওই কর্মকর্তা বলেন, স্পি­ন্টার বিদ্ধ হওয়ার পর শেখ মারুফ হাসানের পা থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছিল। দুটি স্পি­ন্টার বিদ্ধ হয় তার পায়ে। তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন। এই অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে অভিযানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযান একটু পরে হবে। এরই মধ্যে বিজিবিকেও খবর দেয়া হয়েছে। এ খবরে শেখ মারুফ দু’জন পুলিশ সদস্যের কাঁধে ভর দিয়ে ৭৯ নম্বর সড়কের মাথায় আসেন। সেখানে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ হাসপাতালে পাঠান। প্রত্যক্ষদর্শী ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পা থেকে রক্ত ঝরা অবস্থায়ও অপর পুলিশ সদস্যদের রেখে শেখ মারুফ হাসপাতালে যেতে চাচ্ছিলেন না। পরে অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা জোর করেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, তিনি এখনও পায়ে ভর দিতে পারেন না।
 
জানা গেছে, ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫ পুলিশ সদস্যের অধিকাংশকেই আজ মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হতে পারে। একটি সূত্র জানায়, আহতদের কয়েকজন আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করতে পারেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কনস্টেবল প্রদীপ ও আলমগীর এবং গাড়িচালক আবদুর রাজ্জাক আশংকামুক্ত বলে জানা গেছে।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com