জাতীয় দুর্যোগে সরকারের সাথে জনগণের সমন্বয়হীনতা

প্রবীর বিকাশ সরকার।

প্রবীর বিকাশ সরকার।

দেশ নিয়ে নিদারুণ দুশ্চিন্তায় আছি। প্রতিদিন অবস্থা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের। যেকোনো মহাদুর্যোগে, মহাবিপদে সবচেয়ে আগে যা জরুরি সেটা হলো বিচক্ষণ নেতৃত্ব।

এই নেতৃত্ব যে শুধু শাসক দলের প্রধান নেতা নেত্রীকে দিতে হবে তা কিন্তু নয়। প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানদের দায়-দায়িত্বও সমানভাবে বর্তায় তাদের কাঁধে। সরকারকে সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হয় জনগণকেও। কারণ বিপদটা একার কারো নয়, সমগ্র জাতির বিপদ, জাতীয় দুর্যোগ।

কিন্তু পরিতাপের শেষ নেই যে, সরকারের কাজে, জনগণের আচার-আচরণে কোথাও কোনো সমন্বয় নেই, সমঝোতা নেই। সর্বোপরি যে জাতীয় ঐক্য দরকার সেটারও লক্ষণ কোথাও নেই।

আমরা যে এতটা দরিদ্র, এতটা স্বার্থপর, এতটা ধর্মভীরু এবারের করোনা মহামারি তা নগ্ন করেই দেখিয়ে দিচ্ছে। প্রতিটি পদক্ষেপেই আমাদের নগ্ন চরিত্র ফুটে উঠছে।

একটা মহাবিপর্যয় যে ধেয়ে আসছে এবং উলোট পালোট করে দেবে দেশটিকে তা বোধ হয় মিথ্যে নয়। এটা এমন একটি বিপর্যয় যে কোনো দেশই এগিয়ে আসবে না। নিজেদেরই প্রতিরোধ করতে হবে, মোকবেলা করতে হবে সমস্ত শক্তি দিয়ে। আর তার জন্যই দরকার নেতৃত্ব।

কিন্তু কোথায় সে নেতৃত্ব? সরকার একা কিছুই করতে পারবে না। সেই ক্ষমতাই তার নেই। সরকার উন্নয়নকামী মাত্র, ৫০ বছর ধরে যাই উন্নতি হয়েছে তা দিয়ে এই মহামারি, মানবমড়ক সামাল দিতে পারবে না। কিছুই করতে পারবে না অদৃষ্টবাদও।

আবার বাঙালি এমন এক উদ্ধত, অদ্ভুত চরিত্র নেতৃত্বও মানে না। সবাই নিজেকে রাজা ভাবতে অভ্যস্ত। সুযোগ পেলে রাজনীতির নামে চালডাল চুরি করে, আত্মসাৎ করতে মোটেই দ্বিধা করে না জনগণের আমানতের টাকা।

আসন্ন মহাবিপর্যয়ের প্রথম ধাক্কাটি হবে খাদ্যসংকট মানে দুর্ভিক্ষ। কীভাবে সামাল দেবে সরকার? খাদ্য নিয়ে টানাটানি চলবে পৃথিবীর সব জাতির মধ্যে। উৎপাদন বন্ধ, সরবরাহ বন্ধ।

দেশে হাজার হাজার কোটিপতি, তাদের কি কোনো অবদান আছে দেশের উন্নয়নে? তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য কিছু কি করেছেন এতটা বছর? আমার জানা নেই। কিন্তু এই কোটি কোটি টাকাও আর কাজে লাগবে না। তাদের টাকা তাদেরকেই চিবিয়ে খেতে হবে ক্ষুধা মেটানোর জন্য।

বীভৎস, বিভীষণ, সর্বগ্রাসী ক্ষুধার আগ্রাসনে কীভাবে টিকবে বাংলাদেশ কে জানে!


লেখাটি প্রবীর বিকাশ সরকারের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh