আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের জন্য নির্মিত হচ্ছে বন্দিশিবির

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৪ পিএম | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৮ পিএম

আসামের গোয়ালপাড়ায় নির্মিত হচ্ছে বন্দিশিবির। ছবি: রয়টার্স

আসামের গোয়ালপাড়ায় নির্মিত হচ্ছে বন্দিশিবির। ছবি: রয়টার্স

ভারতের আসামে চূড়ান্ত নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়া মানুষের জন্য বন্দিশিবির নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি বন্দিশিবির নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে সাতটি ফুটবল মাঠের সমান জায়গার ঘন বন উজাড় করা হয়েছে।

আসামের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আসামের গোয়ালপাড়ার কাছাকাছি নির্মাণ করা এই বন্দিশিবিরসহ মোট ১০টি বন্দিশিবির নির্মাণের পরিকল্পনা আছে ভারত সরকারের। বন্দিশিবিরগুলোকে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলা হবে বলেও এই বছরের শুরুর দিকে জানিয়েছিল ভারত সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত তিন হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আশ্রয় দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে এই বন্দিশিবিরটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বন্দিশিবিরে একটি স্কুল, একটি হাসপাতাল, একটি বিনোদনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য আবাসস্থলও থাকবে। বন্দিশিবিরটিকে উঁচু বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। বন্দিশিবিরের বাসিন্দাদের নজরদারির মধ্যে রাখার জন্য নির্মাণ করা হবে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারও।

ক্যাম্পটি নির্মাণে জড়িত শ্রমিকদের অনেকেই জানান, আসামে অবৈধ অধিবাসী চিহ্নিত করতে গত সপ্তাহে যে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তাদের নাম নেই। যে কারণে এসব শ্রমিকদের বানানো ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে শেষ পর্যন্ত তাদেরও স্থান হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আসামের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে আসামের কারাগারে থাকা ৯০০ বন্দিকে এই বন্দিশিবিরে আনা হবে। 

এর আগে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল গত বছর আসামের দুটি কারাগার পরিদর্শন শেষে জানিয়েছিল, সেখানকার বন্দিরা অন্য কারাগারের বন্দিদের মতো ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাটুকুও পাচ্ছেন না।

গত ৩১ আগস্ট আসামের এনআরসি প্রকাশিত হয়। ওই তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ মানুষের। আর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার মানুষ। তালিকা প্রকাশের পর এই বিশালসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে।


প্রধান সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ | প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

অনলাইন সম্পাদক: আরশাদ সিদ্দিকী | ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh