বন্যা মোকাবেলায় প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে বছরের নির্দিষ্ট একটা সময় দেশের বৃহৎ একটা অঞ্চল প্লাবিত হয়। প্রত্যেক বছর বন্যার তীব্রতা সমান না হলেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় বন্যাকে প্রায় নৈমিত্তিক দুর্যোগ বলা যায়। 

বন্যার প্রকোপ বাড়লে মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা বাড়ে। বন্যাপীড়িত এলাকায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় কোথাও পাকা রাস্তা, কোথাও বাঁধের ওপর মানুষ অস্থায়ী আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। কোনো কোনো  এলাকায় পাকা এবং উঁচু স্থানে নির্মিত স্কুল ঘরেও মানুষ আশ্রয় নিতে বাধ্য হন; কিন্তু সংকট তৈরি হয় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও শৌচাগারের। বানভাসি পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হন। 

সংকট তৈরি হয় স্বাস্থ্য সুরক্ষারও। কোথাও কোথাও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকে অপ্রতুল। অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির অভাব, পয়ঃনিষ্কাশনের সুবিধাদি না থাকায় রোগব্যাধি ছড়ায় দ্রুত। বন্যায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। সাপের ছোবলে মানুষের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়। বানের জলে অবরুদ্ধ মানুষের কাছে সাপের ছোবলের ভ্যাকসিন (অ্যান্টিভেনাম) পাওয়া এক দুর্লভ ব্যাপার। 

অন্যদিকে বানভাসি ভিটেমাটিহারা মানুষের কাছে তার গবাদিপশুই টিকে থাকার শেষ সম্বল। কিন্তু কায়ক্লেশে নিজেদের ঠাঁই আশ্রয়কেন্দ্র, পাকা রাস্তা বা বেড়িবাঁধে হলেও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েন  তারা। বিপত্তি আরও বাড়ে যখন এই গবাদি পশুগুলোর জন্য খাদ্যের কথা ভাবতে হয়। মানুষের জন্য ত্রাণ সাহায্য জুটলেও গবাদি পশুগুলোর খাদ্যের জোগান দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

বিগত তিন সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, জামালপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর জামালপুর, টাঙ্গাইল, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে চলমান বন্যা পরিস্থিতি প্রলম্বিত হতে পারে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ সময় মানুষের কাছে ত্রাণ সাহায্য পৌঁছে দেয়ার কাজটিও খুব সহজসাধ্য নয়। মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, আসবাব, গবাদিপশুর ক্ষতির মাত্রা কীভাবে পূরণ করা সম্ভব তাও পরিকল্পনার আওতায় আনা প্রয়োজন। সর্বোপরি প্রয়োজন বন্যা মোকাবেলায় সাশ্রয়ী, টেকসই ও সমন্বিত  পরিকল্পনা প্রণয়ন। 

বন্যা ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোয় স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও শৌচাগার ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জরুরি সেবা প্রদান, গবাদি পশু সংরক্ষণের মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সমন্বিত  পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত  করতে হবে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh