মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মহানবী (সা.)

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন ও ইন্তেকাল মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা। এরচেয়ে আনন্দদায়ক, শ্রেষ্ঠ ও অবিস্মরণীয় কোনো ঘটনা বিশ্বের মানচিত্রে দ্বিতীয়বার ঘটেনি। মহানবী (সা.) যখন এ ধরায় শুভাগমন করেন সেই যুগ ছিল আইয়ামে জাহেলিয়াতের। 

গোটা পৃথিবীতে সে সময়ে অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার, অস্থিরতা, নৈরাজ্য, স্থবিরতা জেঁকে বসেছিল। আরবে যুদ্ধ-সংঘাত, রক্তপাত ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সামাজিক, নৈতিক ও রাজনৈতিক এমন কোনো দিক ছিল না যেখানে অবক্ষয় ও সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেনি। এরকম এক পরিবেশের মধ্যে শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন।

তাঁর আগমনের বদৌলতে জাহেলিয়াত, শিরক, পৌত্তলিকতা ও বর্বরতার ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত দুনিয়ায় হিদায়াতের নূর উদ্ভাসিত হয়। জাহিল ও পথভ্রান্ত জাতি হিদায়াতের পরশ পেয়ে জান্নাত ও দ্বীনের রাস্তার সন্ধান লাভ করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনে রয়েছে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। পুত্র, পিতা, স্বামী, ব্যবসায়ী, যোদ্ধা, সেনাপতি, জনসেবক, বিচারক প্রত্যেকেই তার মধ্যে দেখতে পাবেন সর্বোচ্চ আদর্শ ও ন্যায়-পরায়ণ চরিত্র। 

এমন নবীর আগমনের মাস নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। নবীর জীবনচরিত আলোচনা মুসলিম উম্মাহর ইমানি চেতনাকে আরও শানিত, উদ্বেলিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.) এর মাধ্যমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রদত্ত দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা বিধান করেছেন।

বিশ্বনবী (সা.) তাঁর ২৩ বছরের সাধনায় নির্মাণ করেছিলেন জুলুম, শোষণ ও অবিচারমুক্ত একটি খেলাফতি রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা গোটা মানবজাতির জন্য আদর্শ হয়ে আছে। তাই বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনাদর্শ গ্রহণ ব্যতীত ইহ ও পরকালে মুক্তি অর্জন সম্ভবপর নয়। 

১২ রবিউল আউয়ালে নবীজীর জন্ম হয়েছিল কিনা তা নিয়ে ঐতিহাসিকগণ একমত নন। জন্ম তারিখ নিয়ে তাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন ৯ রবিউল আউয়াল, আবার কারো মতে ১২ রবিউল আউয়াল। পক্ষান্তরে ১২ রবিউল আউয়াল যে নবীর ইন্তেকাল হয়েছিল, এ নিয়ে কারো  দ্বিমত নেই। তাঁর মিলাদ (জন্ম) ১২ রবিউল আউয়াল সবার কাছে যেমন ছিল আনন্দের, তেমনি ওফাতুন্নবী (নবীর ইন্তেকাল) ১২ রবিউল ছিল বিরহ শোকের। মিলাদুন্নবী অর্থ হলো নবীর জন্ম। সিরাতুন্নবী অর্থ হলো নবীর জীবনী। 

জন্ম পালন করার বিষয় নয়; বরং আলোচনার বিষয়। সিরাতুন্নবী (৬৩ বছরের জীবনী) উম্মতের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয়। মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা রাসূলকে অনুসরণ কর, তবেই তোমরা সত্যপথের সন্ধান পাবে’ (সূরা নূর : ৫৪)। মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’

সূরা আল আহজাব: ২১- এ রাসূল (সা.) এর চরিত্র সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা আরো ইরশাদ করেন, ‘আপনি অবশ্যই উত্তম চরিত্রের অধিকারী’। (সূরা কালাম : ৪০)। অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন, হে নবী আপনি বলুন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, তাতে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ মাফ করবেন’। (সূরা নূর : ৫৪)।

যারা নবীর (সা.) বিরোধিতা করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, যারা নবী (সা.) এর আদর্শের বিরুদ্ধাচারণ করে তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে, যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে। (সূরা নূর : ৬৩)। 

‘সূরা আহজাব: ৭১’- এ বলা হয়, ‘যে আল্লাহর আনুগত্য করে এবং রাসূলের অনুসরণ করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে’।

নবীজী বলেন, ‘আমার উম্মতের সব লোকই জান্নাতী হবে, অস্বীকারকারী ব্যতিত। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) অস্বীকারকারী কে? উত্তরে রাসূল (সা.) বললেন, যে আমার অনুসরণ করবে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার নাফরমানি করবে সে অস্বীকারকারী’। (বুখারি : ৩১৮৭২)।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে অনুসরণের অর্থ হলো; ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় জীবন থেকে সর্বক্ষেত্রে রাসূলের আদর্শ মেনে চলা। রাসূলের (সা.) অনুসরণ ছাড়া ইহ-পরকালে নাজাত পাওয়া নিতান্তই দূরূহ ব্যাপার। রাসূল্লাহ (সা.) এর অনুসণের মাঝেই সকল প্রকার সাফল্য নিহিত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh