মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী

‘মওলানা ভাসানীর নাম
আমাদের মিলিত সংগ্রাম’।

একটি কবিতা লিখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। সে পঞ্চাশের দশকের কথা। সত্তরে ঘূর্ণিদূর্গত বিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চল ঘুরে এসে ভাসানী পল্টন ময়দানে বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করলেন আবেগাপ্লুত হয়ে। তাঁর বর্ণনা শুনে সভায় উপস্থিত কবি- সাংবাদিক শামসুর রাহমান লিখলেন- ‘সফেদ পাঞ্জাবী’ কবিতাখানি। এই মওলানা ভাসানী সামরিক শাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের ‘লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার’-এর নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। কিন্তু কেন বর্জন করলেন, তার কোনো সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য কেউ বলেন না। তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য ‘ভোটের আগে ভাত চাই, নইলে এবার রক্ষা নেই’ স্লোগানের কথা বলেন অনেকেই এবং তাঁর সমালোচনা করে তাঁকে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের বিরুদ্ধে দাঁড় করান। মওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানের টোবাটেক সিং এ বক্তৃতা করে বাংলার জনগণের প্রত্যাশা পূরণের কথা বলতে গিয়ে কবি আল্লামা ইকবালের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এটির উল্লেখ করে কি বোঝাতে চাইলেন, তার উল্টো ব্যাখ্যা করেছিলেন পূর্ব বাংলার আওয়ামী রাজনীতিবিদরা। এখানে যে কপটতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল- তা কেবল সত্যকে গোপন করে মওলানা ভাসানীকে ‘জনগণবিরোধী’ প্রমাণের জন্যই, তা কেউ কোনোভাবেই উচ্চারণ করেনি। সত্যটা হলো, সামরিক শাসনের অবসান ঘটানোর বৃহত্তর স্বার্থে মওলানা ভাসানী চেয়েছিলেন ‘মুজিবর’ নির্বাচনে পূর্ণ বিজয় লাভ করুক। এটা বিরুদ্ধ প্রচারকারীরা স্বাভাবিক কারণেই চেপে যায়।

একটা কথাতো অস্বীকার করা যাবে না যে, মওলানা ভাসানীই পূর্ববঙ্গে মুসলিম লীগ রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রথম বিরোধিতা করে নতুন রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি করেছিলেন এবং তারই নাম পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। এই কৃতিত্বময় নেতৃত্ব মওলানা ভাসানীর, এত ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। কেউ কেউ শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে এই কৃতিত্ব দিতে চান। কিন্তু সময় সাক্ষ্য দেয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন করাচীতে ‘নেহরু হাউস’-এ বাস করছিলেন এবং গঠন করেছিলেন ‘জিন্না মুসলিম লীগ’। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, সেখানেই ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয় এবং মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। 

উল্লেখ্য, আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম কমিটির নাম যখন লেখা হচ্ছিল তখন মওলানা সাহেবের ‘মুজিবুর’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সংগ্রাম করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টাঙ্গাইলের শামসুল হকের নাম লেখার পর দুজন যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে এক নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমান ও দু’নম্বরে খন্দকার মুশতাক আহমদের নাম লেখেন। এই দেখে সেখানে উপস্থিত মুশতাক আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হুজুর, আমি আপনার সামনে বসা, অথচ মুজিবের নাম আগে লিখলেন।’ ভাসানী তখন বিরক্তি প্রকাশ করে তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘জানো না মুজিবুর জেলে, তাই তার মুক্তির জন্যও তার নাম আগে থাকবে। আর তুমি কি পারবে ওর মতো অর্গানাইজার হইতে?’

আমার ধারণা, স্বার্থবাদিতার হিংসা তখনই জন্ম নিয়েছিল, আর দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ঘৃণা কপটতার আশ্রয়ে শেখ মুজিবের বন্ধু ভাবটা দেখিয়ে চলেছিলেন। যার চরম পরিণতিতে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ সপরিবারে হত্যাকা-ের মাধ্যমে খন্দকার মুশতাক তার ইচ্ছা চরিতার্থ করেছিলেন রক্তাপ্লুত সিংহাসনে বসে। মওলানা ভাসানীর বিরুদ্ধে আরেকটি অপপ্রচারে বলা হয়, তিনি নাকি বলেছিলেন, ‘ডোন্ট ডিসটার্ব আইয়ুব।’ এমন কোনো প্রামান্য দলিল বা তাঁর বক্তব্য-মন্তব্য কোথাও কেউ দেখাতে পারেন না। এখানেও সেই রাজনৈতিক স্বার্থবাদিতা এই অপপ্রচারের পেছনে কাজ করেছে। তাতে হুজুরের কোনো ক্ষতি হয়নি কারণ তিনি এমন কথা বলেনইনি। এ কেবল রাজনৈতিকভাবে তাঁকে খাটো করবার অপপ্রয়াস।

একটি বিশেষ মহল এরকম অপপ্রচার আজও চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ মওলানা যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ে যে প্রবল ভূমিকা রেখেছিলেন, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। শেরেবাংলার অনীহা ছিল, ছাত্র সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁকে বাধ্য করেছিলেন যুক্তফ্রন্টে আসতে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবশ্য প্রচুর শ্রম দিয়ে দিন রাত শহরে বন্দরে ছুটে বেড়িয়েছেন। যাই হোক, যুক্তফ্রন্ট যখন সাধারণ সব মানুষের সমর্থনে মুসলিম লীগকে গো-হারা হারিয়ে বিজয় অর্জন করল, তখন কেন্দ্রের মুসলিম লীগ সরকার এ বিজয় মেনে নিতে পারল না। মাত্র তিন সপ্তাহ পরে শেরে বাংলার নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে দেশের ভারত শাসন আইনের ৯২-ক ধারা মোতাবেক গভর্নরি শাসন জারি করল পূর্ব বঙ্গে। শুরু হলো বেধড়ক গ্রেফতার। শেরে বাংলা হলেন নজরবন্দি। মওলানা ভাসানী তখন বার্লিন শান্তি সম্মেলনে খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস ও সাংবাদিক ফয়েজ আহমদকে নিয়ে যাবেন, কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় তিনি সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি। এ ছিল এপ্রিল মাস। শান্তি সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা আইরিন জুলিও কুরি (কুরি দম্পতির কন্যা) মওলানা ভাসানীকে দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, আপনি লন্ডনে অপেক্ষা করুন, আগামী নভেম্বরে স্টকহোমে যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আপনাকে তাতে যোগদানের অনুরোধ জানাচ্ছি। এরপর মওলানা ভাসানী ইউরোপের কয়েকটি দেশ ঘুরে অবশেষে ষ্টকহোমে শান্তি সম্মেলনে পৌঁছেছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনের একটি অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ঘোষণা করল, ‘মওলানাকে পাকিস্তানে ঢুকতে দেওয়া হবে না। যদি ঢোকার চেষ্টা করে তাহলে এমন এক সৈনিককে দিয়ে তাকে গুলি করা হবে, যার নিশানা ব্যর্থ হবে না। ’ এদিকে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে বাধ্য করা হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করতে। এত ৫৫-৫৬ সালের কথা। হঠাৎ দেখলাম হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মোহাম্মদ আলী মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী হয়ে যোগ দিলেন। একটা ভালো কাজ তিনি করলেন, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র উপস্থাপন করলেন এবং এতে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি আদায় করলেন। কিন্তু বৈষম্যের প্রশ্নে ০+০=০ থিয়োরি দিয়ে ‘সুগার কোটেড পিল’ পূর্ব বাংলাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলেন। তাঁর এ অপকৌশল পূর্ববঙ্গবাসী সহজেই বুঝতে পেরেছিলেন। এতে শহীদ সাহেবের লাভ হলো। রাজনীতির অপকৌশলে তিনি প্রমোশন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী বনে গেলেন। আর তাঁর দল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রস্তুতি গ্রহণ করল ১৯৫৭ সালের ৬, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি সন্তোষে আওয়ামী মুসলিম লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ও কাউন্সিল করার। হলোও তাই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সোহ্রাওয়ার্দী উপস্থিত থেকে ডাকলেন বৈঠক। মওলানা ভাসানী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক জোট ‘সিয়াটো’, ‘সেন্টো’ ত্যাগের প্রস্তাব উত্থাপন করলেন। দাবি জানালেন ‘পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি’ বাতিলের। মতবিরোধ হলো প্রধানমন্ত্রী সোহ্রাওয়ার্দীর সঙ্গে। এইসময়ে ৯, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি সন্তোষ-কাগমারীতে ‘পূর্ব পাকিস্তান কৃষ্টি সম্মেলন’ আয়োজন করে মওলানা সাহেব বিশ্বের অগণিত লেখক-সাহিত্যিক রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রায় ২০০ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে যোগ দিয়েছিলেন কাগমারী সম্মেলনে। কী বিশাল আয়োজন সেই গাঁও-গেরামে! ভাবতে অবাক লাগে এত অতিথি, রাজনৈতিক নেতা, শিল্পী দল, লেখক-সাহিত্যিক-এদের থাকা খাওয়ার ঠিক কি আয়োজন হয়েছিল। সংগঠক ভাসানীর বিপুল যাদুকরী স্পর্শ গোটা চত্বর ও যোগদানকারী সকলকে মুগ্ধ করেছিল। কোন খুঁত ছিল না কোথাও। সেই সম্মেলন ‘কাগমারী সম্মেলন’ নামে ইতিহাসে পরিচিত। ৬২ বছর আগে মওলানা ভাসানী তাঁর জাদুকরী কৃতি দিয়ে যে উৎসবের আয়োজন করেছিলেন, আজ ছয় দশক পার হয়ে গেলেও কোনো রাজনৈতিক দল বা সংস্কৃতিক সংগঠন আজ পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে সাহস দেখাতে পারেনি। রাজনীতি আর সংস্কৃতি যে ওতোপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত মওলানা ভাসানী তাই প্রমাণ করে গেছেন। আমরা আজও তার কাছে যেতে পারিনি। কেউ এমন উৎসব করার ভাবনাও ভাবেনি। 

আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ও ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সংগঠনকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ করতে চেয়েছিলেন মওলানা সাহেব, দাবি করেছিলেন সামরিক জোট ত্যাগ ও চুক্তি বাতিল এবং নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি- না পেয়ে ১৭ মার্চ ১৯৫৭ তিনি দল থেকে পদত্যাগ করলেন। কী অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা তাঁর, ২৬ জুলাই তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই জাতীয় কনভেশন। সেই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন ‘সীমান্ত গান্ধী’ খান আব্দুল গফফার খান, তাঁর সহযোদ্ধা আব্দুস সামাদ আচকজাই, জিয়ে সিন্ধ্ আন্দোলনের নেতা আব্দুল মজিদ সিন্ধী, গণতান্ত্রিক নেতা জি এম সৈয়দ। পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক ওসমানী নতুন দলের সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছিলেন। এসেছিলেন লাহোরের প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ আলী কাসুরীসহ আরও অনেক রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, ছাত্র ও শ্রমিক নেতারাও। অধিবেশনের সময় দৈনিক মিল্লাত অফিসকে কেন্দ্র করে রূপমহলের কনভেনশনকে ভাঙার অপচেষ্টা ও মাইকে নানা প্রচার করা হয়েছিল। রিকশায় বসা একটি বীমা কোম্পানির জনসংযোগ অফিসার মীর মোশাররফ হোসেন এই প্রচার করছিলেন অনবরত। কিন্তু কোনো কিছু ঘটাতে পারেনি।

অধিবেশন শেষে বিকেলে পল্টনে হলো জনসভা। তাতে যোগ দিতে নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে বিশাল জনস্রোত চলেছে জনসন রোড ধরে বাহাদুর শাহ্ পার্কের দিকে। সামনে খান আব্দুল গফ্ফার খান, মওলানা ভাসানী ও অন্যরা। হঠাৎ একটি ঢিল এসে পড়ল গফফার খানের গায়ে। ত্বরিৎ আমাদের মন্টু খান ভাই গিয়ে দাঁড়ালেন ওর পাশে একটা ছাতা হাতে। মিছিল নবাবপুর রোড ধরে পৌঁছল পল্টনে। বিশাল সমাবেশ। এ ছিল ঢাকা মহানগরের নেতা ইয়ার মোহম্মদ খানের কৃতিত্ব। কিন্তু তিনি ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগের মহানগর প্রধান। যোগ দিয়েছেন নতুন দলে। এই না দেখে ওর পুরনো দল ক্ষেপে গেল। জনসভা ভাঙার জন্য নেতা কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করলেন কিন্তু হা হতোস্যি। ভাঙতে পারলেন না। মানুষ বরং আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙার দলকেই তাড়া করল। জনসভা হলো ঠিক মতোই। তবে দৌড়াদৌড়ি যে হয়নি, তা বলা যাবে না। 

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) খুব শিগগিরই ছড়িয়ে পড়ল পাকিস্তানব্যাপী। পূর্ববঙ্গের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আলী যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে যোগ দিলেন। জনপ্রিয় হয়ে উঠল দল। সর্বত্র অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ বিরোধী ব্যক্তিরা দলে দলে যোগ দিলেন। (চলবে)

লেখক: কামাল লোহানী
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh