রোহিঙ্গা সংকট: সমাধান কতদূর

২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১১লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফের ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরানোর ব্যাপারে আশাব্যঞ্জক কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুই দফা প্রত্যাবাসনের চেষ্টার পরও একজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকেও মিয়ানমারে পাঠানো সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট আড়ম্বরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ সর্বোচ্চ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে যে রোহিঙ্গারা নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের নাগরিক অধিকার এমনকি বেঁচে থাকার নিরাপত্তা এবং ফিরে গিয়ে একই রকম নির্যাতনের শিকার না হওয়ার নিশ্চয়তা না পেলে তারা ফিরে যাবে না এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ফলশ্রুতিতে দ্বিতীয় দফাতেও একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরানো সম্ভব হয়নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গঠনমূলক চার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু একই সময়ে মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া প্রলম্বিত করার ইঙ্গিত এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য মনে করা, চীনের মিয়ানমারের পক্ষে শক্ত অবস্থান এবং ভারতের নীরবতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। 

একটু পেছনে ফেরা যাক। রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনের ইতিহাস অনেক পুরনো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই তৎকালীন আরাকানে (বর্তমানে রাখাইন) রোহিঙ্গা মুসলিম এবং বৌদ্ধদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধ শেষ হয় উনু সরকারের সঙ্গে রোহিঙ্গা মুজাহিদীনদের সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন জারির পর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয় এবং তাদের ওপর জাতিগত নিধনের খড়গ নেমে আসে। তখন থেকেই তাদের মিয়ানমার থেকে বিতাড়নের প্রচেষ্টা শুরু হয়। এরপর ১৯৭৮, ১৯৯২ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা নির্যাতনের মুখে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হলেও ১৯৯২ সালে যারা আসে, তাদের সবাইকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার গণহত্যায় রূপ নেয়, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট বলে স্বীকৃত। এরপরই বাংলাদেশে পালিয়ে আসা চার লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন সাড়ে সাত লাখ। যা বাংলাদেশের ওপর আর্থ-সামাজিক, জননিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং ভূরাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

রাখাইনে ২০১৭ সালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। সেসময় জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে তৎপর ছিল। অন্তত তাদের বিবৃতিতে সেটি প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু কোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার মধ্যস্থতা ছাড়াই ২০১৭ সালের নভেম্বরে তড়িঘড়ি করে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের পথটি সংকুচিত হয়ে যায়। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথম দফায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর তারিখ ঠিক হলেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। কেননা চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছামূলক। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মনে করে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, এমনকি নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া না হলে সে দেশে ফেরত যাবে না বলেও তারা জানিয়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমার সরকার এ ধরনের কোনো নিশ্চয়তা প্রদান করার ব্যাপারে আন্তরিক নয়। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় প্রতি সপ্তাহে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে মিয়ানমারের প্রস্তাব ছিল সপ্তাহে ১৫’শ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে তারা। বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের প্রস্তাব মেনে নিতে হয়েছে। সেদিক থেকে হিসেব করলে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে প্রায় ১৫ বছর লাগার কথা। অথচ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে বোঝা যাচ্ছে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকা থেকে মিয়ানমার যেভাবে ১০ শতাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল, সেটি সামগ্রিক হিসেবে আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তর মেনে নিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের অসহযোগিতা এবং আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে সেই প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়নি। যদিও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার জন্য মিয়ানমার বাংলাদেশকেই দুষছে। 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে মিয়ানমারের অফিস অব স্টেট কাউন্সিলর মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সুয়ি তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয়ভাবে সংকট সমাধানের যে ধারণা তিনি দিয়েছেন সে পথে সমাধান যে প্রায় অসম্ভব তা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সবার জানা। কিন্তু অতিমানবতাবাদী এবং অতিউৎসাহ থেকে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কারণে আমরা চাইলেও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে এখন চাপ প্রয়োগ করতে পারছি না। কিছুদিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের পর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে চীন। অথচ গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর মিয়ানমারে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শেন হেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, মিয়ানমারের ওপর বিভিন্ন বিষয়ে যতই চাপ আসুক, চীন পাশে থাকবে। তারা মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক যে কোনো চাপ প্রতিহত করবে বলে জানায়। ৭৪তম অধিবেশন ঘিরে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘুদের ভয়াবহ নির্যাতন-নিপীড়নের আন্তর্জাতিক তদন্ত ও বিচারের প্রস্তাবকে একতরফা দাবি করে ভোটাভুটির আহ্বান জানিয়েছিল চীন। এমনকি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল তারা। যদিও এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ২ ভোটের বিপরীতে পক্ষে ভোট পড়েছে ৩৭টি। স্বাভাবিকভাবেই বিপক্ষে পড়া দুটি ভোটের একটি চীনের। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এতে ভারত কোনো পক্ষেই ভোট দেয়নি। অর্থাৎ রোহিঙ্গা সংকট তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করলেও বাংলাদেশ কার্যত কূটনৈতিক কোনো অগ্রগতি সাধন করতে পারেনি। 

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ যখন দিশেহারা, প্রায় বন্ধুহীন অবস্থায়- ঠিক এরকম একটি সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে প্রত্যাশা ছিল, মিয়ানমারের ওপরে আরও কঠিন চাপ দিতে রাজি করানো হবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও গতানুগতিক কূটনৈতিক হালকা আশ্বাসের বেশি কিছু আমাদের ভাগ্যে জোটেনি। 

একই সঙ্গে আমাদের মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কণ্ঠে হতাশার সুর স্পষ্ট। ২২ আগস্টের ব্যর্থতার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘রোহিঙ্গাদের আমরা আর বসিয়ে খাওয়াতে পারব না’। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে মিয়ানমারেরও শক্তিশালী বন্ধু আছে’। তিনি ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসিতে মিয়ানমারের এগিয়ে থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেন।

পূর্বে উল্লেখ করেছিলাম প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমার উল্টো বাংলাদেশের দিকে আঙুল তুলেছে। মিয়ানমারের সরকারি গণমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অফ মিয়ানমার সেদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে জানায়, বাংলাদেশ সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনকারীদের কাছে স্বেচ্ছায় ফেরার ব্যাপারে যথাযথ আবেদনপত্র বিলি করেনি। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৪০০ জনকে প্রথম দফায় ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বাংলাদেশ আমলে নেয়নি। অথচ গত ২০ আগস্ট দেশটির মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে কফি আনান কমিশনের সদস্য উ উইন ম্রা রেলিজিয়নস জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার মত পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি’।

এর মধ্যে গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশাল সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। এ সমাবেশে তিন থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা উপস্থিত ছিল। শরণার্থী হিসেবে বিদেশ-বিভুঁইয়ে রোহিঙ্গাদের এতবড় সঙ্ঘবদ্ধ সমাবেশ প্রমাণ করে তারা বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য কত বড় হুমকি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আসা মহিবুল্লাহ তাদের নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দেখা করেছেন। তিনি যে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন এবং সেদেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে আবার ফিরে এসে এত বড় সমাবেশের আয়োজন করলেন, এর দায় সরকার এড়াতে পারে না। যেখানে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর আমন্ত্রিত অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবেদন করেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না, নিজ দেশের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; সেখানে কদিন আগে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর আলম এর মৃতদেহের সঙ্গে তার বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) পাওয়া গেছে। বিষয়টি আশঙ্কাজনক। কেননা এই রকম নুর আলমদের সঠিক সংখ্যা আমাদের অজানা। রোহিঙ্গা সমাবেশের পর জানা গেছে, মুঠোফোনের বার্তা, স্মার্টফোনের হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ব্যবহারের মাধ্যমে তারা এই সমাবেশের বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। প্রায় সব রোহিঙ্গাই বাংলাদেশি সিম কার্ড ব্যবহার করে বলে জানা গেছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর হাতে কিভাবে এতগুলো সিম কার্ড এলো, তার সদুত্তর সংশ্লিষ্ট কারো কাছে নেই।

বিগত বাজেটে আলাদা করে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য স্থায়ী আবাসন গড়তে নোয়াখালীর ভাসানচরে নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১২০টি গুচ্ছগ্রামে ১ হাজার ৪৪০টি ব্যারাক এবং ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান বাংলাদেশকেই দিতে হবে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় করা হয়েছে। ৩৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৩ টাকার সমপরিমাণ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার হারিয়ে ফেলছে তার সৌন্দর্য। 

এরকম একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পাশে পাচ্ছে না কোনো সহযোগী বন্ধু রাষ্ট্রকে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে যারা পরিকল্পিতভাবে সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তারা তাদেরকে সহজেই ফেরত নেবে- সেটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। দুই বছর আগে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে সম্ভাবনা ছিল, তা এখন অনেকটাই ম্লান। প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সংকট। এই অবস্থায় সরকারকে আরও সুদৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। বিগত শতকের ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েলের ঘটনা আমাদের সবারই জানা। তাই অন্তত রোহিঙ্গা ইস্যুতে দায় এড়ানো বা একে অন্যকে দোষারোপ না করে সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাইকে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh