আবরার হত্যা

ভিন্নমত সহ্য করার সংস্কৃতিচর্চা বাড়াতে হবে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে ফেসবুকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আর তাঁকে মেরেছে তাঁরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। যখন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলছে, সেসময় আমরা দেখেছি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে বিরোধী ছাত্র সংগঠনকে মারধর ও মধুর কেন্টিনে বসতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর এর মধ্যেই ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার নেতা-কর্মীদের হাতে নিহত হলো আবরার ফাহাদ। অর্থাৎ এই সব শুদ্ধি অভিযান আসলে নিস্ফল উচ্চারণ ছাড়া আর কিছু নয়।

হত্যার ঘটনাটি আমাদের নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে- কোন সামাজিক, রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে বাস করছি আমরা, যেখানে একজন ভিন্নমত পোষণ করলেই তাকে মেরে ফেলা হয়? এই ঘটনা প্রমাণ করে, সমাজে বিচারহীনতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, সামাজিক সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতার অভাব বেড়েই যাচ্ছে। গত ৪৮ বছরে কয়েকশ’ ছাত্র ক্যাম্পাসে নিহত হলেও, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এর কোনো বিচার হয়নি। ক্যাম্পাসে খুন হলে বড়জোর অভিযুক্ত ছাত্র বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে; কিন্তু যেখানে খুনের মতো অপরাধের শাস্তি বহিষ্কারেই শেষ হয়ে যায়, সেখানে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি তো খুবই স্বাভাবিক। 

আসলে বাংলাদেশের সমাজে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারই প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠছে। যে কোনো মূল্যে টাকা কামানো এবং নির্বাচনে জয়লাভের মনোভাবটা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এর সঙ্গে নীতি-নৈতিকতার দূরত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি রাজনৈতিক সহিংসতার চরিত্রও মৌলিকভাবে পাল্টে গেছে। আগে বোমাবাজি বা বিভিন্ন উপায়ে বিরোধী পক্ষকে ভয় দেখানো হতো। এখন টার্গেট কিলিং বেড়েছে, যার সাম্প্রতিক বলি বুয়েটের এই মেধাবী ছাত্রটি।

এই সমস্যার সমাধানে প্রচলিত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন দরকার। ছাত্র রাজনীতির নামে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে তার অবসান দরকার। রাজনীতি হতে হবে জনমানুষের জন্য। বিশেষ করে বিভিন্ন দলের মধ্যে গণতন্ত্রায়ন ও জবাবদিহি, ভিন্নমত, ভিন্ন দল, ভিন্ন মানুষ সহ্য করার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। শুদ্ধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সৌজন্য ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সম্পাদকীয়।
সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh