শুক্রবার,  ২৩ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ১৬:৫০:৩৩

বর্ষা ও বাংলাদেশের কবিতা

ফজলুল হক সৈকত
বাংলাদেশের কবিতায় বর্ষা-বাদল প্রবেশ করেছে কিংবা নিজেকে মেলে ধরেছে কবির স্বপ্ন-কল্পনা, অভিজ্ঞতা আর অনুভবের নিবিড়তায়। এসব বর্ষা-বন্দনায় আছে আকুতি-প্রার্থনা, যন্ত্রণা ও আনন্দ। আছে আশাবাদের প্রবল আলোও
 
বর্ষা কি বেদনার ঋতু? আর বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল? প্রেম এবং বিরহের সাথেও রয়েছে বর্ষার সম্পর্ক। এটা বোধহয় প্রকৃতিরই বিচার। নাকি বিবেচনা বলব একে? প্রকৃতি কোন বিবেচনায় বা কার প্ররোচনায় যে মানুষের মনের সাথে বৃষ্টির আনন্দ ও বেদনাকে জুড়ে দিলো, তা কে জানে? বৃষ্টিস্নাত আমাদের মন। কবি এবং কবিতাপ্রেমীর কাছে বৃষ্টি একটি অন্যরকম অনুভবের উদ্ভাসন নিয়ে হাজির হয়। বর্ষা-বাদলে মনটা যেন কেমন করে। আর সেই কেমন করা অনুভূতির ভেতরে কাজ করে সৃজনভাবনা আর প্রকাশের বিপুল ভার। বর্ষার দিনে কিংবা বাদলের রাতে হারিকেনের আলোর নিচে বসে রূপকথার গল্পশোনার স্মৃতি হয়তো এখনো অনেককে তাড়িয়ে বেড়ায়। কচুপাতা বা কলাপাতা দিয়ে ছাতা বানিয়ে পথ চলা, কলাগাছের ভেলায় চড়ে খাল-বিল-নদীতে অফুরান সময় পার করা- এসবের কথা কি কেউ ভুলতে পেরেছে? কত কল্পনা যে দানা বাঁধে বর্ষাকে ঘিরে, কত যে আনন্দ এই বর্ষা নিয়ে আসে আমাদের ঘরে তা বলে শেষ করা যাবে না।
 
বাংলা কবিতায় বাংলাদেশের কবিতায় বর্ষা-বাদল প্রবেশ করেছে কিংবা নিজেকে মেলে ধরেছে কবির স্বপ্ন-কল্পনা, অভিজ্ঞতা আর অনুভবের নিবিড়তায়। এসব বর্ষা-বন্দনায় আছে আকুতি-প্রার্থনা, যন্ত্রণা ও আনন্দ। আছে আশাবাদের প্রবল আলোও। বড়– চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে’ কৃষ্ণের জন্য রাধার বিরহের জ্বালা যেন বেড়ে যায় বর্ষাকালে। ‘আষাঢ় শ্রাবণ মাসে মেঘ/বরিষে যেহ্ন/ ঝর এ নয়নের পানী।/ আলবড়ায়ি/ সঙপুটে প্রণাম করি দুইলো সখিজনে/ কেহো নান্দ কাহবনঞিকে আনী।’ কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ‘কালকেতু উপাখ্যানে’ ফুল্লরার বারমাসের দুঃখ বর্ণনায় বর্ষাকালের বিবরণে জানাচ্ছেন: ‘আষাঢ়ে পুরিল মহী নবমেঘে জল।/ বড় বড় গৃহস্থের টুটয়ে সম্বর॥ মাংসের পসরা লয়্যা বুলি ঘরে ঘরে।/ কিছু খুদকুঁড়া মিলে উদর না পুড়ে ॥ শ্রাবণে বরিষে মেঘ দিবস রজনী।/ সিতাসিত দুই পক্ষ একই না জানি ॥ আচ্ছাদন নাহি অঙ্গে পড়ে মাংস-জল।/ কত মাছি খায় অঙ্গে করমের ফল ॥ ভাগ্য মনে গুণি ভাগ্য মনে গুণি।/ কত শত খায় জোঁক নাহি খায় ফণী ॥’
 
বর্ষা-বন্দনাকে মনে রেখে বাঙালির চেতনালালন ও প্রসারের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ ছড়া থেকে কিছুটা পাঠ নিচ্ছি: ‘মনে পড়ে সুয়োরানী দুয়োরানীর কথা,/ মনে পড়ে অভিমানী কঙ্কাবতীর ব্যথা।/ মনে পড়ে ঘরের কোণে মিটিমিটি আলো,/ চারিদিকের দেয়ালজুড়ে ছায়া কালো কালো।/ বাইরে কেবল জলের শব্দ ঝু-প ঝু-প ঝুপ-/ দস্যি ছেলে গল্প শোনে, একেবারে চুপ।/ তারি সঙ্গে মনে পড়ে মেঘলা দিনের গান-/ বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান॥’ বাদল দিনের প্রকৃতি ও বাস্তবতা আমাদের বিদ্রোহী কবিকেও আবেগ-আপ্লুত করেছিল। কাজী নজরুল ইসলাম ‘তার ‘বাদল-দিনে’ কবিতায় বলছেন: ‘ব্যাকুল বন-রাজি শ্বসিছে ক্ষণে ক্ষণে,/ সজনি! মন আজি গুমরে মনে মনে।/ বিদরে হিয়া মম/ বিদেশে প্রিয়তম./ এ জনু পাখি সম/ বরিষা-জর-জর ॥’ কিংবা তার ‘বাদল-রাতে পাখি’ কবিতা- সেখানে মেলে বিরহের আরো প্রবল-কঠিন রূপ। কাহিনী ও কল্পনা যেন জীবন্ত হয়ে প্রকাশ পায়। নজরুল বলছেন: ‘বাদল-রাতের পাখি।/ কবে পোহায়েছে বাদলের রাতি, তবে কেন থাকি’ থাকি’/ কাঁদিছ আজিও “বউ কথা কও” শেফালি বনে একা,/ শাওনে যাহারে পেলে না, তা’রে কি ভাদরে পাইবে দেখা?.../ তুমি কাঁদিয়াছ “বউ কথা কও” সে-কাঁদনে তব সাথে/ ভাঙিয়া পড়েছে আকাশের মেঘ গহীন শাওন-রাতে।’ রূপসী বাংলার নির্জনতম ও শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ দাশ ‘শ্রাবণরাত’ কবিতায় মনের উত্তাপ, উচ্ছলতা আর চারপাশের নীরবতাকে সাজিয়েছেন কবিতাশিল্পের নরম ফিতেয়: ‘শ্রাবণের গভীর অন্ধকার রাতে/ ধীরে ধীরে ঘুম ভেঙে যায়/ কোথায় দূর বঙ্গোপসাগরের শব্দ শুনে?/ বর্ষণ অনেকক্ষণ হয়ে থেমে গেছে;/ যতদূর চোখ যায় কালো আকাশ/ মাটির শেষ তরঙ্গকে কোলে ক’রে চুপ করে রয়েছে যেন;/ নিস্তব্ধ হয়ে দূর উপসাগরের ধ্বনি শুনছে।/ মনে হয়/ কারা যেন বড়ো বড়ো কপাট খুলছে,/ বন্ধ ক’রে ফেলেছে আবার;/ কোন্ দূর- নীরব- আকাশরেখার সীমানায়।’ গ্রামীণ জীবনের ভাষ্যকার, আমাদের ঐতিহ্যের অহঙ্কার জসীমউদ্দীন স্বভাবগতভাবেই লিখেছেন পল্লীর বর্ষার কথা। জীবনের সাথে কিভাবে মিশে একাকার হয়ে গেছে বর্ষার সুখ ও নির্মোহতা, তা এই কবির কবিতায় জীবন্ত হয়ে দেখা দিয়েছে। যেন আমরা জানালা খুললেই দেখতে পাচ্ছি এক প্রবল বর্ষা। ‘পল্লী-বর্ষা’ কবিতায় তিনি জানাচ্ছেন: ‘আজিকার রোদ ঘুমায়ে পড়িয়া ঘোলাট-মেঘের আড়ে,/ কেয়া-বন-পথে স্বপন বুনিছে ছল ছল জল-ধারে।/ কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়,/ ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়!/ বাদলের জলে নাহিয়া সে-মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,/ সে-হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।.../ হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া রঙিন চিঠি,/ নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়েছে না জানি সে কোন্ দিঠি।.../ গাঁয়ের চাষীরা মিলিয়াছে আসি মোড়লের দলিজায়,-/ গল্পের গানে কি জাগাইতে চাহে আজিকার দিনটায়!.../ কেউবা রঙিন কাঁথায় মেলিয়া বুকের স্বপনখানি,/ তারে ভাষা দেয় দীঘল সুতার মায়াবী নক্সা টানি।.../ আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছল ছল জলধারে,/ বেণুবনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।’
 
প্রবল আশাবাদী কবি, ‘রাত্রিশেষ’-এর কবি আহসান হাবীব বৃষ্টিকে ঘিরে আমাদের দারিদ্র্য, হতাশা আর স্বপ্নকে বুনেছেন নিজস্ব স্বপ্নময়তাকে অবলম্বন করে। তিনি যেন প্রবল কোনো ঘোরের মধ্যে থেকে পার করছেন অপেক্ষার নিরন্তর প্রহর। ‘রেণকোট’ কবিতায় লিখেছেন: ‘পঁচিশটি বর্ষা ত পেরিয়ে এলাম/ দেখে এলাম/ কত অন্ধকার অরণ্যশীর্ষ/ কালো মেঘের অন্ধকারে ছাওয়া,/ দেখলাম/ কত ঝরঝর বর্ষা/ আর কত নিঃসঙ্গ জানালার/ ইতিহাস পড়লাম/ আমার নির্বিকার জানালায়।/... তবু বর্ষার দিনগুলি/ একটি অপেক্ষা রেখে গেছে/ জীবনের থমকে যাওয়া পদক্ষেপের প্রান্তে!/ কতবার/ জীবনের কত বর্ষায়/ এক একদিন।/ বর্ষণক্লান্ত বাইরের পানে তাকিয়ে/ হঠাৎ এ কথা মনে হয়েছে:/ একটা রেনকোট যদি থাকতো আমার!’ ‘নববসন্ত’খ্যাত কবি আবুল হোসেন ‘বর্ষার দিনে’ কবিতায় লিখেছেন একটি দিনলিপি। তার ভাষায়: ‘সমস্ত দিন শুয়ে শুয়ে বৃষ্টির শব্দ শুনি,/ মৌলালীর মোড়ে কারখানার টিনের ছাদে/ নরম পীচের ওপরে শান বাঁধানো হাঁটা পথে/ অবিশ্রাম ঝন্ঝন্ ধ্বনি ওঠে,/ য়্যুক্যালিপ্টাস পাইন জড়ানো পাহাড়ী আবাসে/ ঝর্ণার দূরাগত ঝঙ্কারের মতো আসে/ ঝিরঝিরে জলের একটানা বাজনার সুর,/ যেন কোন্ দূর আকাশ বাতাস আজ/ গান হয়ে গলে যায় মাটিতে অরণ্যে ঘাসে।/ আর তারই এক কণা আমার এ কামরায়/ সূরার কুয়াশা ছড়ায় মনের অসীম শূন্যে,/ স্নান সারে স্নায়ুতে স্নায়ুতে/ শুকনো প্রাণের পাতা।’ বৃষ্টির দিনে একখানা ছাতা হওয়া চাই নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রিয়ার ছাতার তলে নিজেকে আবিষ্কার করার যে আনন্দ তা বোধকরি কারো কারো জানা আছে। বর্ষাকালে প্রিয়জনের সাথে একই ছাতা নিয়ে পথ হাঁটার স্মৃতি সম্ভবত আবুল হোসেনকেও আপ্লুত করে। ‘ছাতাটা’ কবিতায় তিনি লিখেছেন: ‘তোমার ছাতার তলে জানি কী আরাম কী আরাম!/ জলের ঝাপটাগুলো ঝ’রে যায় মরে যায় সব, ঝড়ের দাপটগুলো পাহাড়ের ওপারে নীরব।/ তোমার ছাতাটা বন্ধু নির্ভয় অক্ষয় স্বর্গধাম।’
 
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের বিবৃতি: ‘মেঘ থেকে বৃষ্টির দু’ফোঁটা! উড়ে গেলে তুমি!/ কোথাও কি খাদ্য চোখে পড়েছে হঠাৎ? বৃষ্টির বিশুদ্ধ জল/ তবে পড়ে আজও পৃথিবীতে?- আমিও তো উড়ে যেতে চাই/ বৃষ্টিজলে মানুষের যাপিত সংসারে ॥/’ (আমিও তো) কবি আল মাহমুদ বর্ষা-বিবরণে হাজির করেছেন মানুষ-সভ্যতা আর সমাজগতির ধারাপাত। ‘আষাঢ়ের রাতে’ কবিতায় লিখছেন: ‘কেন যে আবিল গন্ধে ভরে ওঠে আমার নিঃশ্বাস।/ এই রাত, এই হাওয়া, নীলিমার নক্ষত্রনিচয় আর/ আত্মীয় চাঁদের পিঠ, সবি যেন আচ্ছন্ন ধোঁয়ায়,/ যেন সবি প্রায়ান্ধ চোখের কাছে অস্পষ্ট সুদূর।/ শুধু দিগন্তবিস্তৃত বৃষ্টি ঝরে যায়, শেওলাপিছল/ আমাদের গরীয়ান গ্রহটির গায়।/ যেন শত শতাব্দীরও আগে/ মৃত এক অতিকায় কাছিমের খোলের ওপরে বসবাস/ করছে মানুষ আর/ পৃথিবী উঠেছে পচে, চতুর্দিকে তার/ গলিত পুঁজের উৎস খুলে গিয়ে উপচে পড়ে মাংসভুক কীট।...’ সমাজের সর্বত্র চোরাবালির উপস্থিতির অনুভব শহীদ কাদরীকে যেন অবিশ্বাসী করে দিয়েছে।
 
নীরবলম্ব কবি তাই হয়েছেন নিরাশ্রয় ও নিঃসঙ্গ। কোনো শান্ত ঘরে, তাই, তার ডাক পড়ে না। যেন ভেসে চলেছেন বিপর্যস্ত নিঃসঙ্গতার দেহাত্মবাদের আরাধনায়: ‘এইক্ষণে আঁধার শহরে প্রভু, বর্ষায়, বিদ্যুতে/ নগ্নপায়ে ছেঁড়া পাৎলুনে একাকী/ হাওয়ায় পালের মতো শার্টের ভেতরে/ ঝকঝকে, সদ্য, নতুন নৌকোর মতো, একমাত্র আমি,/ আমার নিঃসঙ্গে তথা বিপর্যস্ত রক্তেমাংসে/ নূহের উদ্তাম রাগী গরগরে লাল আত্মা জ্বলে/ কিন্তু সাড়া নেই জনপ্রাণীর অথচ/ জলোচ্ছ্বাসে নিঃশ্বাসের স্বর, বাতাসে চিৎকার/ কোন আগ্রহে সম্পন্ন হয়ে, কোন শহরের দিকে/ জলের আহ্লাদে আমি একা ভেসে যাবো?’(বৃষ্টি, বৃষ্টি: উত্তরাধিকার) হৃতগর্ব দেশমৃত্তিকার ঐতিহ্য আর মর্যাদা ফিরে পাবার হাহাকার-প্রার্থনা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র এই কবিতায় পরিব্রাজকের অন্তর্লীন মন্দ্রিত কষ্ট-পাবনের মতো দাগ কেটে গেছে। তার প্রার্থনা দুর্বলচিত্ত-ভীতিপ্রবণ অলস মানুষের জন্য নয়; সাহসী পুরুষের জন্য। নিষ্ফলা মাঠে কৃষক-পুরুষের আর্তনাদ, ভালোবাসার যুবকহীন বাড়ির রমণীদের আহাজারি আর সুবাতাস এবং ফসলবতী মা-গাভী-শস্যবৃক্ষের অধীর প্রত্যাশার গল্প বলতে গিয়ে, প্রকৃত অর্থে, কবি স্বাধীনতাকেই আহ্বান করেছেন অগণিত উন্মুখ মানুষের নীরব কাতারে দাঁড়িয়ে। মায়ের-বাপের ভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, সাংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই- আর কতিপয় শামুকপ্রবণ সুবিধাভোগীর ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে-দশকে মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয়, অসীম আকাক্সক্ষার কবিতা এই প্রার্থনা-দলিল। তিনি চেয়েছেন শিশিরের জলপ্রপাত, লতাগুল্মে জোনাকির মিছিল, ধানের ক্ষেতে শামুকের অবাধ বিচরণ, বর্ণ এবং বৃষ্টির গতিময়তা, আপন ঘরে পাখির নিবিড় ডাকাডাকি, হস্তরেখার সুখবৃত্তান্ত, চাঁদ-তারার তুমল ওড়াউড়ি, তৃষ্ণার্ত শিশুর স্তন্যপান আর নদী এবং সাগরের বিশ্বাসী কথোপকথন। কবির সাক্ষ্য- ‘বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা কবিতায়: ‘আমি প্রার্থনা করেছি/ আমি প্রদোষকাল থেকে রক্তিম প্রত্যূষ অবধি/ প্রার্থনা করেছি আমি সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা করেছি/ বর্ণ এবং বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছি/ শস্য এবং গাভীর জন্য প্রার্থনা করেছি/ আমি ভূমি এবং কৃষকের জন্য প্রার্থনা করেছি।’- কবির এই প্রার্থনা একটি দেশের, একটি জাতির কল্যাণের জন্য, সুস্থ-স্বাভাবিক-নিরাপদ আবাসনের জন্য, উর্বর ফসলভূমির জন্য। সন্তানের জন্য জননীর যে আকুলতা, এই কবিতায় দেশমাতার প্রতি পুত্রপ্রতীম কবির সেই মমতা আবিষ্কৃত ও বিবৃত। কবি আসাদ চৌধুরী ‘প্রথম কবি তুমি প্রথম বিদ্রোহী’ কবিতায় স্বদেশ-সভ্যতা, আনন্দ-ঐতিহ্য আর স্মৃতির বারান্দায় ভর করে লিখেছেন নিজের কথারাজি: ‘টেবিলে মোমবাতি কোমল কাঁপা আলো/ বাহিরে বৃষ্টির সুরেলা রিমঝিম-/ স্মৃতির জানালায় তোমার মৃদু টোকা।/ রূপার সংসারে অতিথি সজ্জন/ শিল্পী কতজন হিসেব রাখিনি তো!/ স্মরণে ওস্তাদ- গানের মমতাজ/ দারুণ উচ্ছ্বাস, সামনে চা’র কাপ/ প্রধান অতিথি তো আপনি, বলবেন-/ কিন্তু তার আগে এ ঘোর বরষায়/ সমানে বলছেন নিজের সব কথা।... প্রথম কবি তুমি, প্রথম বিদ্রোহী/ এমন দুর্দিনে তাই তো মনে পড়ে/ তোমার হাসি মুখ, তোমার বরাভয়/ ভীরুতা চারদিক, তুমিও নেই পাশে।’
 
বর্ষা আসবে। বর্ষা যাবে। কবিরা লিখবেন তাদের অনুভবের কথা। পাঠক মিলিয়ে দেখবেন তাদের ভাবনা। হয়তো খুঁজে পাবেন সামান্য প্রশান্তি। পাবেন কিছু প্রশ্রয়ও। কালের খাতায় থেকে যাবে কিছু ছবি, কিছু স্মৃতি। কিন্তু বর্ষা-বাদলের দিনে মানুষের বিপন্নতার কি কোনো পরিসমাপ্তি ঘটবে? কিংবা যে আনন্দ-বারতা নিয়ে আসে বর্ষা- তারও কি কোনো কারণ অবিষ্কৃত হবে?- নাকি আমরা অনাগত দিনেও কেবল বর্ষা-বন্দনা করেই আমাদের না-বলা, না-বোঝা অনুভবগুলোকে কাগজে লিখে যাবো- কোনো ঘোরের মধ্যে!
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com