বিয়ের প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক বন্ধন হিসেবে বিয়ের আবেদন অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনেকেই বিয়ের আগে তেমন একটা প্রস্তুতি নিতে চান না। কিন্তু জেনে রাখা উচিত, বিয়ে মানেই হচ্ছে একটি নতুন জীবনের সূচনা। আর সে কারণেই বিয়ের আগে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে মানসিক প্রস্তুতি।

মানসিক প্রস্তুতি

মানসিক প্রস্তুতির প্রথম ধাপটি হচ্ছে বিয়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করা। কেউ কেউ নিজের ভাবনা কিংবা ইচ্ছার সূত্র ধরেই বৈবাহিক সম্পর্কের তাৎপর্য বুঝতে পারেন। আবার অনেক মেয়ে বা ছেলে আগে থেকেই এসব বুঝবে না। তাই মা কিংবা কাছের অভিজ্ঞ কেউ তাকে ইতিবাচকভাবে জীবনের বাস্তবতা বুঝিয়ে বলতে পারেন। ছেলেমেয়ে দুজনকেই পরস্পরের পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার মানসিকতা থাকতে হবে।

নিজেকে সংশোধন করা

নিজের, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজের স্বভাবের কোনো নেতিবাচক দিক থাকলে সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। নিজের সব দিক নিয়ে বিয়ের আগে উভয়ে আলোচনা করলে বোঝাপড়ার শুরুটা ভালো হবে। 

সহযোগিতাপরায়ণ হতে হবে

প্রতিটি পরিবারের আলাদা নিয়মকানুন, আচার-ব্যবহার থাকে। সেসব আগে থেকে এবটু জানলে পরবর্তী সময় নতুন সদস্যের বুঝতে সহজ হয়। এসব ক্ষেত্রে শুধু মেয়েরাই মানিয়ে চলবে, তা নয়, ছেলেটিকেই বরং সহযোগিতাপরায়ণ হতে হবে। মেয়েটি সব ছেড়ে তাদের পরিবারে আসছে।

ছেলেটির পরিবারকে এ বিষয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। ছেলেকে বোঝাতে হবে সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া না করতে। যে কোনো সমস্যা হলে তারা যেন খোলাখুলি আলোচনা করে নেয়। শাশুড়ি নিয়ে অনেক মেয়ের মনে শঙ্কা থাকে। বিয়ের আগে সুযোগ থাকলে মেয়ের সঙ্গে ছেলের পরিবার কথা বলে নিতে পারেন।  

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া 

দাম্পত্যজীবনে শারীরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই এ ক্ষেত্রে কাছের কেউ বা চিকিৎসকের সঙ্গে আগেভাগেই আলোচনা করে নেওয়া যেতে পারে। 

সুষম খাবার

বিয়ে বিষয়টা যেমন আনন্দের, তেমনি খানিকটা ভয়েরও বটে। নতুন জীবনের শুরুটা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। অনেকে আবার বিয়ের বাজার ঘোরা কিংবা পারিবারিক চাপ, মানসিক চাপ এবং কাজের চাপে এলোমেলো হয়ে পড়েন। খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমে অনিয়ম শুরু হয়ে যায়। শরীরে কিন্তু এর ভীষণ খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে সুস্থতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্যটাও ভিতর থেকেই আসে।

এ সময়ে ছেলেমেয়ে উভয়েরই উচিত একটি সুষম ডায়েট মেনে চলা। স্বভাবতই প্রশ্ন আসতে পারে কেমন হওয়া উচিত একটি ডায়েট প্ল্যান? এক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে কোনো একটা শাক রাখতে পারেন। রক্তস্বল্পতার জন্য লালশাক, ক্যালসিয়ামের ঘাটতিজনিত সমস্যায় সরিষার শাক খুব ভালো। 

সুস্থতায় ব্যায়াম

মানসিক চাপ কমাতেও ব্যায়ামের মতো কাজের বিকল্প আর নেই। যে কোনো বিষয় নিয়ে যারা একটু বেশি মানসিক চাপে থাকেন, তাদের উচিত ইয়োগাচর্চা করার। যারা স্বল্প গড়নের দেহের অধিকারী করতে পারেন। চোখ বন্ধ করে নাচের তালে তালে এ ব্যায়াম মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও কার্যকর। যারা একটু ভারী গড়নের, তারা যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে অবশ্যই জিম বেছে নিন। ক্যালরি পোড়ানো, ওজন কমানো, পেশির শক্তি বাড়ানো- এ তিনটি ক্ষেত্রেই ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য জিম ভালো কাজে দেয়।

কনের দরকার বিশেষ প্রস্তুতি

বিয়ের আগে সবচেয়ে বেশি ধকল যায় কনের ওপর দিয়ে। এমনকি সব আয়োজনের কেন্দ্রেও থাকতে হয় তাকেই। আর সে কারণে তার প্রস্তুতিটাও হওয়া উচিত বিশেষভাবেই। বিয়ের আগে মেয়েদের প্রচুর স্ট্রেস যায়। নতুন জীবন নিয়ে থাকে দুশ্চিন্তা। শপিং, এটা-ওটা করে শরীর থাকে ক্লান্ত। এতে করে শরীরে আয়রন, ভিটামিন স্বল্পতা দেখা দেয়। প্রতিদিন রাতে দরকারি ভিটামিন, আয়রন ট্যাবলেট নেওয়া উচিত। এতে করে ত্বক ফ্রেশ থাকবে। এই পদ্ধতি বিয়ের কয়েক মাস আগ থেকেই অনুসরণ করা উচিত।

প্রতিদিন একটা রুটিন মেনে চলা উচিত। যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠেই ভালো করে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া, ভালো ব্র্যান্ডের কোনো ক্রিম লাগানো, বাইরে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন লাগানো উচিত। সপ্তাহে দুই দিন চুলে তেল দিতে হবে আর প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে ।

বিয়ের এক সপ্তাহ আগে পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করাবেন নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী, সপ্তাহে একবার মেনিকিউর, পেডিকিউর করাবেন। চুলের জন্য একবার প্রোটিন প্যাক লাগাতে পারেন, হট অয়েল ম্যাসাজও করতে পারেন। এতে করে চুলে খুশকি কমবে, চুল নরম থাকবে। শেষ সময়ের জন্য কিছুই ফেলে না রেখে বিয়েতে যার কাছে সাজবেন তাকে আগেই বুকিং দিয়ে রাখুন।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh