স্বপ্নরাজ্য ড্রিম হলিডে পার্ক

ড্রিম হলিডে পার্কের সুইমিং পুলে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: ভ্রমণ গাইড

ড্রিম হলিডে পার্কের সুইমিং পুলে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: ভ্রমণ গাইড

নরসিংদীর পাঁচদোনার চৈতাব এলাকায় ড্রিম হলিডে পার্কের অবস্থান। ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্কের মতো আরেকটি সুন্দর বিনোদন ও থিম পার্ক এটি। কর্মব্যস্ত মানুষেরা ছুটির দিনে পরিবার পরিজন ও আত্মীয়দের নিয়ে বেড়াতে পারেন এখানে। 

আগে নরসিংদী জেলায় এত উন্নতমানের বিনোদন কেন্দ্র ছিল না। ড্রিম হলিডে পার্ক স্থাপনের পর এখানে বিভিন্ন শহর থেকে অনেক দর্শনার্থী বেড়াতে আসে। পিকনিক করার জন্যও উপযুক্ত স্থান এটি। এখানে রয়েছে ছোট বড় সবার জন্য আলাদা আলাদা রাইড। 

৬০ একরের বিশাল এলাকা জুড়ে নির্মিত হয়েছে এই পার্কটি। ২০১১ সালের ৩১শে আগস্ট দৃষ্টিনন্দন এই পার্কটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এখানে রয়েছে নাগেট ক্যাসেল, এয়ার বাইসাইকেল, অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি, মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়ারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ, পার্কে শিশু-কিশোরদের জন্য একাধিক রাইডস, সুবিশাল লেক, হংসরাজ প্যাডেল ও জেট ফাইটার বোট, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশবেষ্টিত নয়নাভিরাম ক্যানেল, রকিং হর্সসহ আরো অনেক রাইড। শিশু কিশোর ও বড়দের আনন্দঘন সময় কাটে এখানে। 

এখানে থাকা এয়ার বাইসাইকেল বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সংযোজন। এতে বসে দু’জন মানুষ অনায়াসে নিজ ইচ্ছায় প্যাডেল চালিয়ে পার্কের ওপর দিয়ে বেড়াতে পারে।  মায়াবী স্পটে কৃত্রিম জলজ প্রাণীর পিঠে চড়ে পৌঁছে যাওয়া যায় রূপকথার মৎস্যকন্যা মায়াবী দানবের দেশে। কিন্তু এখানে পৌঁছাতে অনেক সাহসী হতে হবে।

ড্রিম হলিডে পার্কে ঘোরাঘুরি করা যায় ভূতের রাজ্য স্পটে। শিশুদের বিনোদনের জন্য চমৎকার স্থান এটি। এই পার্কে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করা যায়। পার্ক জুড়ে ২০টি জ্যান্ত ভূত দেখে ভয়ে কিংবা আনন্দে ফেটে পড়ে শিশু কিশোরেরা। শিশুদের উল্লাস ও আনন্দের সামিয়ানা ঘেরা স্থান স্বপ্নরাজ্য ড্রিম হলিডে পার্ক। 

এখানে রয়েছে টলমলে জলের একটি ছোট্ট খাল। লেকের মতো দেখতে এ খালে চাইলে স্পীড বোটে ঘুরে বেড়াতে পারবেন । খালের উপর তৈরি করা হয়েছে লন্ডন ব্রিজের মতো একটি ব্রিজ। আছে সিডনী ব্রিজের আদলে তৈরি ব্রিজ। এখানে আছে বিশাল সুইমিং পুল। রয়েছে বিশাল পুকুর।

শুধু তাই নয়, দিবা  আর রাত্রি নামে দুটি চমৎকার কটেজ রয়েছে ড্রিম হলিডে পার্কে। অসম্ভব সুন্দর কটেজ দুটিতে  যে কেউ রাত্রি যাপন করতে পারেন।

খাবারের জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার এছাড়া আছে আইস কর্নার এবং কফি কর্নার। এর পাশাপাশি রয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত ‘জামদানি হাউস’। কেনাকাটার সুবিধাও রয়েছে এখানে। জামদানি শাড়ি, থ্রিপিস ছাড়াও অন্যান্য দেশীয় শাড়ি, থ্রি পিস সহ মালা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা যায় এখান থেকে। বিছানার চাদর, বালিশের কভারও পাওয়া যায়। 

প্রবেশ মূল্য

২০০ টাকা

সময়সূচী

প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৬ টা ৩০ মি. এর পর টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।

যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে মাত্র ঘণ্টা খানেকের দুরত্বে অবস্থিত এ পার্কে ঢাকার কমলাপুর, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে যাওয়া যায়। ৩০ মিনিট পরপর বাস পাবেন। আন্তনগর এগারোসিন্দুর ও মহানগর গোধূলী ট্রেনেও যেতে পারেন। অথবা, ঢাকা-সিলেট বিভাগের যে কোনো বাসে উঠলেই এ পার্কের গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। কিংবা কাঁচপুর অথবা টঙ্গী থেকে কালীগঞ্জ, ঘোড়াশাল হয়ে যাওয়া যাবে অনায়াসে।


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh