রোববার,  ২৫ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ১২:৪৫:২৩

কোরবানির মাংস সংরক্ষণ পদ্ধতি

ডেস্ক রিপোর্ট
কোরবানির ঈদ একেবারে সন্নিকটে। কোরবানির ঈদ মানেই মাংস নিয়ে ব্যস্ততা, কাটাকাটি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে তড়িঘড়ি। তাই ঈদের আগে থেকেই নিতে হয় প্রস্তুতি। জেনে নিন ঈদের আগের প্রস্তুতি সম্পর্কে।
ঈদের আগেই মাংস কাটার উপকরণ যেমন দা, বঁটি, চাপাতি, ছুরি প্রভৃতি পরিষ্কার করে স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। নইলে এগুলোর মাধ্যমে মাংসে জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে এবং মাংস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
যেসব জায়গায় মাংস কাটাকাটির কাজ করা হবে, আগে থেকেই সাবান ও স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। নইলে এসব জায়গাও জীবাণুর জমে থাকতে পারে। এছাড়া ধুলাবালির কারণে মাংস খেতেও খারাপ লাগবে।
মাংস রাখার বড় গামলা বা ফ্রিজ আগে থেকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার রাখুন।  যে প্যাকেটে মাংস রাখবেন, খেয়াল করুন সেটাও যেন পরিষ্কার ও শুকনা থাকে।
 
সংরক্ষণ পদ্ধতি
মাংস ভাগ করা ও ফ্রিজে ওঠানোর কাজে খুব বেশি দেরি করা উচিত নয়। তবে বেশি তাড়াহুড়া করে মাংস কাটার সাথে সাথেই উঠিয়ে রাখাটা ঠিক নয়। মাংস ফ্রিজে ওঠানোর আগে বাড়তি রক্ত লেগে আছে কি না খেয়াল করুন। রক্ত লেগে থাকলে তা কিচেন টাওয়েল কিংবা পাতলা ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন। তবে যে মাংস ফ্রিজে উঠিয়ে রাখা হবে, তা পানিতে ভেজানো যাবে না। মাংসের প্যাকেটে লেবেল করে বা ট্যাগ লাগিয়ে রাখতে পারেন। যেমন কিমা, কলিজা, মগজ ইত্যাদি। এতে পরবর্তীকালে খুঁজে বের করতে সুবিধা হয়।
এমনভাবে মাংস প্যাক করা উচিত, যাতে বের করার পর সেই প্যাকেটের মাংস একদিনেই রান্না করা হয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী বুঝেশুনে প্রতিটি প্যাকেটের জন্য পরিমাণ নির্ধারণ করুন। কারণ একবার প্যাকেট ফ্রিজ থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে মাংস ছুটিয়ে কিছুটা রান্না করার পর বাকি মাংস উঠিয়ে রাখতে হয়। এতে করে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হয়। জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
মাংসের প্যাকেট এমনভাবে করতে হবে, যেন প্যাকেটের মোটামুটি অর্ধেকটা অংশ খালি থাকে। প্যাকেটগুলো খামের মতো সমান ও সুন্দর করে ভাঁজ করতে চেষ্টা করুন।
ফ্রিজে একটা প্যাকেট রেখে তার ওপর খবরের কাগজ বিছিয়ে দিন। এর ওপর আরেকটি প্যাকেট রাখুন। এভাবে প্রতিটি প্যাকেট স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখলে একটা আরেকটার সঙ্গে লেগে যায় না।
ফ্রিজের ওপরের দিকের তাকে মগজ, কিমা, কলিজা, ছোট মাংস ইত্যাদি রাখুন। বড় হাড়ওয়ালা মাংসের নিচে চাপে পিষ্ট হতে পারে, এমন কিছু নিচে না রাখাই ভালো। বড় মাংস ও হাড়ের প্যাকেটগুলো রাখুন নিচের দিকে। কোন প্যাকেটটা আগে বের করা লাগবে আর কোনটি পরের দিকে, তা-ও মাথায় রাখুন প্যাকেট গোছানোর সময়।
খুব আঁটসাঁট করে মাংসের প্যাকেট ফ্রিজে রাখা যাবে না। পরে বের করতে সমস্যা হতে পারে। ফ্রিজ টইটম্বুর করে ফেলাও ঠিক নয়।
 ডিপফ্রিজের সবচেয়ে নিম্ন তাপমাত্রায় মাংস সংরক্ষণ করা উচিত। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে প্রায় ১ বছর পর্যন্ত মাংস ভালো থাকে। ডিপফ্রিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় মাংস ৫-৭ মাস ভালো থাকে।
 
মাংস সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে আরো জেনে রাখা ভালো:
১. মাংস ফ্রিজে রাখার এক সপ্তাহের মধ্যে বাসায় ইলেকট্রিসিটি না থাকলে খুব একটা ফ্রিজ খুলবেন না। এতে মাংস শক্ত হওয়ার আগেই বাতাস লাগলে বেশি দিন ভালো থাকবে না।
২. ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার নিচে কাঁচা মাংস ৪ থেকে ৬ দিন রাখা যায়। এছাড়া জিরো ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার নিচে রাখলে গরুর কাঁচা মাংস ১২ মাস ভালো থাকবে। ফ্রিজে মাংস রাখার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ‘যেই তাপমাত্রায় মাংস সব সময় বরফ থাকবে সেই তাপমাত্রা সেট করে তারপর মাংস রাখতে হবে।
৩. মাংস ফ্রিজে রাখার আগে প্যাকেটের গায়ে তারিখ লিখে রাখুন। এতে মাংসগুলো কত দিন সংরক্ষণ করা হয়েছে সেটা সহজেই বোঝা যাবে।
৪. মাংস অবশ্যই প্লাস্টিকের ব্যাগে বা অ্যালমোনিয়াম ফুয়েলে রাখতে হবে। প্লাস্টিকের ব্যাগ বা অ্যালমোনিয়াম ফুয়েলে রাখলে বাতাস থাকে না। বাতাস ঢুকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
৫. রান্না করা ও কাঁচা উভয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি একরকম। তবে এগুলোও শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইটে ডিপ ফ্রিজে এক বছর রাখা যাবে। তবে স্বাদ, পুষ্টিগুণ থাকবে না।
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com