অভিনয়টা চর্চা ও সাধনার বিষয়: শারমিন আঁখি

শারমিন আঁখি।

শারমিন আঁখি।

শারমিন আঁখি। ছোট পর্দার বেশ পরিচিত একটি মুখ। নান্দনিক অভিনয়ে অল্প সময়েই পেয়েছেন সুখ্যাতি। নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও, টেলিফিল্ম একাধারে সব কিছুতেই কাজ করছেন এ মডেল ও অভিনেত্রী। সমসাময়িক ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেন সুলতান মাহমুদ সোহাগের সঙ্গে...

একসময় মঞ্চে কাজ করতেন। এখনো কি মঞ্চে নিয়মিত কাজ করছেন? 
শারমিন আঁখি: আমার অভিনয়ের ভিত মঞ্চ দিয়েই। তবে এখন আগের মতো নিয়মিত না, ডাক পেলেই চলে যাই। আমার থিয়েটার অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়। ‘দুতিয়ার চান’ এবং ‘কবি’ এই দুটি নাটক মঞ্চস্থ হলেই আমার ডাক পড়ে। অরিন্দমের আগে আমি অভিনয় শিখি ফেইম স্কুল অব ড্যান্স ড্রামা অ্যান্ড মিউজিক থেকে।

টেলিভিশন নাটকে শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
শারমিন আঁখি: মঞ্চে মহড়া কক্ষে চরিত্রের বিশ্লেষণ নিয়ে চর্চা করতে গিয়ে অভিনয়ের প্রতি প্রেমের শুরু। ২০১১ সালে দেবাশিষ বড়ুয়া দ্বীপের দুটি ধারাবাহিকে কাজ করি। তার আগে ওই বছরই নার্গিস আক্তারের একটি টেলিফিল্মে প্রথম কাজ করি। তারপর থেকে তো জীবনের গল্প চলছেই মেগা ধারাবাহিকের মতো।

এ মুহূর্তে কী কী কাজ করছেন? 
শারমিন আঁখি: এই তো শেষ করলাম ধারাবাহিক নাটক ‘মধ্যবর্তিনী’র কাজ। খ- নাটকের মধ্যে রয়েছে ইয়ামিন ইলানের ‘বাবার গার্ল ফ্রেন্ড’ ও ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। এসআর মজুমদারের পরিচালনায় লিগ্যাল ডেট। এ ছাড়াও বাংলালিংকের ৪টা এভির কাজ এবং একটি ওয়েব সিরিজের কাজ শেষ করলাম। 

নিজের অভিনীত নাটক টেলিভিশনে দেখেন, কেমন লাগে? আর পরিবার থেকে সহযোগিতা কেমন পেয়েছেন?
শারমিন আঁখি: ধারাবাহিক নাটকগুলো নিয়মিতভাবে দেখার সুযোগ হয় না। তবে খ- নাটক ও টেলিফিল্মগুলো দেখি। দেখার পরে মনে হয়, ইস! এটা এভাবে না করে ওভাবে করলে ভালো হতো। এভাবে না তাকিয়ে ওভাবে তাকালে ভালো হতো। এরকম আরকি। আর পরিবার থেকে সহযোগিতা অনেক বেশি পাই আমি। শুরুতে মায়ের সহযোগিতা শতভাগ ছিল। আর বিয়ের পর বরের সহযোগিতাও শতভাগ পাচ্ছি। 

কোন ধরনের চরিত্রের প্রতি দুর্বলতা বেশি কাজ করে? আর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে- খণ্ড নাটক নাকি ধারাবাহিকে? 
শারমিন আঁখি: আমার সব ধরনের চরিত্রেই কাজ করতেই ভালো লাগে। ভিন্ন ভিন্ন গল্পে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের ভিন্নতা এমনিতেই বৈচিত্র্য এনে দেয়। সব ধরনের চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে অভিনেত্রী হিসেবে এটা আমাকে অনেক পরিণত করেছে। আর ধারাবাহিক বা খ- নাটক দুটি দুই রকমের কাজ। খ- নাটকের চাপ থাকে বেশি। দুই দিন বা কোনো কোনো সময় এক দিনেও শেষ করতে হয়। চরিত্র নিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকে কম। আর ধারাবাহিকে সেটা থাকে না। গল্প পড়ে নিজেকে চরিত্রের জন্য তৈরি করার সময় পাওয়া যায়। সর্বোপরি নিজেকে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ থাকে। তবে দুই ধরনের কাজেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

বড় পর্দায় কী কী কাজ করলেন, সামনে কী কী কাজ রয়েছে? 
শারমিন আঁখি: আমার প্রথম চলচ্চিত্র নোমান রবিনের ‘এ কোয়ার্টার মাইল কান্ট্রি’ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে আমি রোহিঙ্গা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ইতিমধ্যে ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এ ছাড়াও চ্যানেল আইয়ের ‘ইতি তোমারি ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় ক্রিশেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় আরেকটি ছবির কাজ শেষ করলাম। তারিক আনাম খানের পরিচালনায় ‘ট্রানজিট’-এর কাজ শেষ করলাম। ইমতিয়াজ সজীবের পরিচালনায় ফিচার ফিল্ম ‘জাস্ট এ জোক ডারলিং’-এর কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া নতুন দুটি ছবির কাজের কথা চলছে, এগুলো পরে জানাব। ভালো গল্প এবং ভালো চরিত্র পেলে বড় পর্দায় নিয়মিত হতে চাই। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা যদি জানতে চাই।
শারমিন আঁখি: অভিনয়ের হাতেখড়ি মঞ্চে। অভিনয়টা তাই রক্তে মিশে আছে। আসলে অভিনয়টা চর্চা আর সাধনার বিষয়। অভিনয় করছি। সামনেও করে যেতে চাই। একজন সফল অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই। ভালো ভালো কিছু কাজ দর্শকদের উপহার দিয়ে যেতে চাই, যেন তারা আমার কাজগুলোর মধ্য দিয়েই আমাকে মনে রাখেন।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh