রোববার,  ১৮ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৫:৫৫

‘দুর্নীতি দূরীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য। সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন সাম্প্রতিক দেশকালের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এম ডি হোসাইন
 
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি দেশের সকল পর্যায়ে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। কারণ, দুর্নীতি দমন মানুষের দীর্ঘদিনের আশা এবং মহাজোটের নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রীর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জনগণের মাঝে প্রচার হয়েছে। এটি নিয়ে কার্যক্রম কী হচ্ছে, সেদিকে জনগণ তাকিয়ে আছে।” সাম্প্রতিক দেশকালকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফরহাদ হোসেন বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করা। সে অঙ্গীকার পূরণে দেশের সকল পর্যায়ে দুর্নীতি দূরীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও মাদকদ্রব্যও দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধেও সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বর্তমান সরকারের আমলে জনপ্রশাসনে দক্ষতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনপ্রশাসনে নিযুক্ত কর্মচারীরা যাতে স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে নাগরিকদের সেবা প্রদান করতে সক্ষম হন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সে লক্ষ্যে জনপ্রশাসনের আইন-কানুন বিধি-বিধানের পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করে একে অধিকতর যুগোপযোগী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে সরকারি সকল কর্মকর্তাকে শুদ্ধাচার চর্চা করতে হবে। জনগণকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানসম্মত সেবা প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, ভালো ব্যুরোক্রেসি ছাড়া উন্নত দেশ সম্ভব না। প্রধানমন্ত্রী সুনিপুণভাবে চিন্তা করছেন যাতে আমরা একটা ভালো, দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারি। এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের বৈষম্য দূর করতে পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি দশম সংসদের একজন সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার এলাকা থেকে যারা ক্যাডার সার্ভিসে আছেন তারা আমার কাছেও অভিযোগ-অনুযোগ করেছিলেন, যাতে আমি এ বিষয়ে সংসদে অবদান রাখি। সেক্ষেত্রে বিষয়গুলো নিয়ে আমিও অবহিত আছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো সলিউশন ইতিমধ্যে দিয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনেকগুলো পদক্ষেপও নিয়েছে।
আমলাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী অবশ্যই তাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে হবে। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকে সম্পদের হিসাব দেন, আবার অনেকে দেন না। এবার প্রত্যেকের হিসাব নিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ করেছে। কারণ, গণতন্ত্রে জবাবদিহিতার একটা ব্যাপার আছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন, যে নির্দেশনা দেবেন সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করাটাই আমার কাজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। এ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নিজে। প্রধানমন্ত্রী চান আমাদের এই প্রশাসন অত্যন্ত দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব হবে, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষও জনপ্রশাসনের সব সেবা অত্যন্ত সহজ, সাবলীলভাবে পেতে পারে। সেজন্য আগামীদিনের কর্মপরিকল্পনা আছে সেটা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্তমানে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে তিন লাখের বেশি শূন্যপদ আছে। এসব শূন্যপদ পূরণে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শূন্য পদ পূরণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দফতর, সংস্থাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
লাখ লাখ বেকারত্ব দূরীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরিতে আকর্ষণের জন্য বর্তমান সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে। যেন দক্ষ ও যুগোপযোগী জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা যায়। কিন্তু সরকারি চাকরির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। সেজন্য সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং সেগুলোতে ইতিমধ্যে বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। এছাড়া হাইটেক পার্ক ও আইসিটিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। সরকারের এসব খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com