রোববার,  ১৮ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৯, ০৯:২১:১২

কাশ্মীর: কারফিউর মধ্যে ঈদ, বড় মসজিদ-ঈদগাহ বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট
ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় শ্রীনগরসহ গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় গতকাল সোমবার কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা আর কঠোর কারফিউর মধ্যে।
রাজ্যটি রাজধানী শ্রীনগরের বড় কোনো মসজিদে বা প্রধান রাস্তায় ঈদের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। শহরের রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য, মোবাইল-ল্যান্ডলাইন বা ইন্টারনেট পরিষেবাও এখনো চালু হয়নি।
এদিকে বাকি ভারতের যেসব অভিবাসী শ্রমিক কাশ্মীরে গিয়ে কাজ করতেন, অগ্নিগর্ভ উপত্যকা থেকে তারাও দলে দলে ফিরে আসছেন। কিন্তু ঈদের আগে তারা হাতে যে কিছু টাকা-পয়সা পাবেন বলে ভেবেছিলেন সে সব কিছুই তাদের জোটেনি।
শ্রীনগর থেকে বিবিসির ইউগিতা লিমায়ে জানান, গত দুদিন ধরে শহরে কারফিউ যে অল্প কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল, তা ঈদের দিন সকাল থেকেই ফের উধাও।
কেন আবার নতুন করে এই কড়াকড়ি, সরকারি কর্মকর্তারা তার কোনো জবাব দিচ্ছেন না। তারা দাবি করছেন, কোনো কারফিউ নেই, শুধু নিয়মটা হল চারজনের বেশি লোক একসঙ্গে এক জায়গায় জড়ো হতে পারবেন না।
অথচ রাস্তায় দেখা যাচ্ছে পুলিশের গাড়ি মাইকিং করে বেড়াচ্ছে, কেউ যেন কারফিউতে বাড়ি থেকে না-বেরোয়। ইউগিতা লিমায়ের কথায়, সব মিলিয়ে যেন একটা পরস্পরবিরোধী বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিবিসির অন্য সংবাদদাতারাও জানান, জামিয়া মসজিদ বা হযরতবালের মতো প্রধান মসজিদগুলোতে কোনো বড় ঈদ জামাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। লোকজনদের বলা হয়েছে, নিজেদের মহল্লাতে স্থানীয় ছোট মসজিদেই যেন তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ শ্রীনগরের একটি মসজিদের ভেতর ঈদের নামাজ পড়ছেন, তবে সেখানেও বড়জোর ৭০ বা ৮০ জনের মতো ছিলেন।
 
ঈদের দিনেও গুলি
এর মধ্যে খবর এসেছে, পুলিশের পেলেট গান বা ছররা বন্দুকের গুলিতে আহত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যদিও সরকার সে কথা অস্বীকার করছে।
গুলিতে জখম হয়ে হাসপাতালে কেউ ভর্তি আছেন কি না, বিবিসির এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেন পুলিশ এখনো পর্যন্ত একটা বুলেটও চালায়নি।
এর মধ্যে দলে দলে অভিবাসী শ্রমিক কাশ্মীর ছেড়ে বাসে বা ভাড়া গাড়িতে পালাতে শুরু করেছেন। শ্রীনগরে শহরের লালচক এলাকার কাছে জনাকয়েক কাশ্মীরি বিবিসিকে বলেন, বাংলা-বিহার-দিল্লি থেকে বহু শ্রমিক রোজগারের আশায় এখানে আসেন। কাশ্মীরে মজুরির জন্য তারা যে পয়সা পান ভারতের কোথাও তা পাওয়া যায় না, উল্টো মালিক এখানে দুবেলা তাদের খেতেও দেয়। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তে এই বিহারি বা হিন্দুদেরও এখন পালাতে হচ্ছে, অর্থাৎ সব ধর্মের লোকেরাই এর ফল ভুগছে।
ফলে এবারের কোরবানির ঈদে কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে শুধুই দমবন্ধ আতঙ্ক, উত্তেজনা আর হতাশারই ছবি। তা সে কাশ্মীরের ভূমিপুত্রদের জন্য যেমন, তেমনি বহিরাগতদের জন্যও।
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com