রোববার,  ১৮ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৪০:১৯

কাশ্মীর শান্ত হলে হাসপাতালে এত আহত মানুষ কেন?

ডেস্ক রিপোর্ট
ভারত সরকার বলছে, কাশ্মীরের পরিস্থিতি শান্ত। 'বিশেষ মর্যাদা' তুলে নেওয়ার পরে গত ছয় দিনে একটাও গুলি চলেনি। দু-এক জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে, কিন্তু তা হাতে গোণা। কিন্তু শ্রীনগর হাসপাতালের ভেতরের ছবি বলছে অন্য কথা। যেখানে প্রতিদিন ছররার আঘাতে আহত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন কাশ্মীরি যুবকরা। কাশ্মীর শান্ত হলে কেন ঘটছে এসব ঘটনা?
শ্রীনগরের এসএইচএমএস হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিছানায় শুয়ে আছেন মহম্মদ ইউসুফ খান। ৩০ বছরের যুবক ইউসুফের দোকান রয়েছে। শনিবার সেই দোকানের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ বাঁ চোখে এসে লাগে একটি ছররা গুলি। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। চিকিৎসকরা জানান, মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁ চোখ। অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে পুরো দৃষ্টিশক্তি ফিরবে কি-না নিশ্চিত নন তাঁরা। শুধু বাঁ চোখ নয়, বাঁ হাতে একাধিক জায়গায় ছররার আঘাতের চিহ্ন। ইদের দিন বাড়ি ফিরতে পারবেন কি-না, তা জানেন না ইউসুফ।
এসএইচএমএস হাসপাতালের ছবিটিও কিন্তু অন্য কথাই বলছে। প্রতি বেডে ভর্তি ইউসুফের মতো যুবক। কারও পায়ে আঘাত, কারও বা পেটে। কেউ আবার মাথায় আঘাত নিয়েও ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন যুবক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের সবার গায়েই ছররার আঘাতের চিহ্ন। আর ৫-৬ দিন আগে, মানে ৫ অগস্টই কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নিয়েছিল মোদি সরকার। এক রাজ্যকে ভেঙে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ, দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগও করে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর বাড়ানো হয়েছে উপত্যকার নিরাপত্তা। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল রয়েছেন সেখানে। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। বেশ কিছু জায়গায় ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে। চলছে ইদের প্রস্তুতি। শ্রীনগরের জেলাশাসক জানিয়েছেন, ইমামদের সঙ্গে কথা বলে নমাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দোকানপাঠ খুললেও রাস্তায় অবশ্য অনেক কম লোক বেরিয়েছেন।
সরকার জানাচ্ছে, কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মোদি-শাহ বারবার বলছেন, এই সিদ্ধান্ত সেখানকার মানুষদের উন্নতির কথা মাথায় রেখেই নেওয়া। এতে উপত্যকার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে। কিন্তু শ্রীনগরের হাসপাতালের ছবিটা কিন্তু অন্য কথা বলছে। সত্যিই যদি উপত্যকা শান্ত হয়, কোনও ধরনের অশান্তি, বিক্ষোভ না থাকে তাহলে এত আহত যুবক কেন? ছররা ব্যবহার করতে কেন হচ্ছে? দি ওয়াল।
 
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com