মঙ্গলবার,  ১৬ জুলাই ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৮:১৪:৪৬

মুসলিম শিশুদের মা-বাবা থেকে বিছিন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম শিশুদেরকে কৌশলে তাদের মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং।
 
বিবিসিকে রবিবার দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, শিশুদেরকে তাদের অভিভাবকদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না। মোটেও না।
 
তবে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক শিশুর মা-বাবা হয় জেলে, না হয় ক্যাম্পে বন্দি আছেন। পাশাপাশি উইঘুর মুসলিম শিশুদের জন্য বোর্ডিং স্কুল তৈরির জন্য দেশটিতে ব্যাপক ভিত্তিতে একটি প্রচার কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।
 
সমালোচকরা বলেন, শিশুদেরকে তাদের মুসলিম কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদেরকে পরিবার, ভাষা ও তাদের বিশ্বাস থেকে আলাদা করা হচ্ছে।
 
তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং।
 
বিবিসি এর আগে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছে যে, জিনজিয়াংয়ের একটি এলাকাতেই চার শতাধিক শিশু মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের মা-বাবা ক্যাম্প বা জেলখানায় কোনো না কোনোভাবে আটক আছেন। শিশুদের কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো যত্নের প্রয়োজন আছে কি না, তা আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
 
চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, উগ্রবাদকে মোকাবেলা করতে উইঘুর সম্প্রদায়ের সদস্যদের শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।
 
কিন্তু বিভিন্ন তথ্য প্রমাণে দেখা যায়, নিজের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নামাজ পড়া বা হিজাব পড়া বা তুরস্কে কারো সাথে যোগাযোগ থাকার কারণেও অনেককে আটক করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
 
মা-বাবাকে আটক করার পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় শিশুটিকে সেন্ট্রালাইজ কেয়ার বা কেন্দ্রীয় পরিচর্যার আওতায় নেয়া হবে কিনা।
 
জিনজিয়াংয়ের স্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব শিশুর মা-বাবাকে আটক করা হয় তাদেরকে বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেই শিশুদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয় এবং এই শিশুদেরকে ভালোভাবে দেখ-ভাল করার নির্দেশ দেয়া হয়।
 
শিশুদেরকে মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই বিষয়টি নিয়ে বিবিসির জন্য গবেষণা করেছেন ড. আদ্রিয়ান জেঞ্জ। 
 
তিনি বলেছেন, বোর্ডিং স্কুলগুলোতে মূলত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে সাংস্কৃতিকভাবে রি-ইঞ্জিনিয়ারিং বা নতুন করে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। বোর্ডিং স্কুলে রাখার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মূলত জিনজিয়াংয়ের সরকার এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করছে যারা নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেড়ে উঠছে।
 
তিনি দেখেছেন, জিনজিয়াংয়ে স্কুল সম্প্রসারণের ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। নতুন ডরমিটরি তৈরি হচ্ছে এবং সেখানে ধারণক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এখন রাষ্ট্র অনেক শিশুর ২৪ ঘণ্টা তদারকির সক্ষমতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তারা জিজ্ঞাসাবাদের ক্যাম্প তৈরি করছে। এসবই মুসলিমদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
 
উইঘুর সম্পদ্রায়ের হাজার হাজার মানুষ তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে, কেউ নিজের পরিবারের সদস্যদের দেখতে আর কেউ-বা পাড়ি জমিয়েছেন ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে পালিয়ে বাঁচতে। সূত্র: বিবিসি
 
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com