রোববার,  ২৫ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৬:০১:৫৬

গুগল প্লে স্টোরে রূপকথার গেম ‘স্পেস কলাইডার’

বাসস
রূপকথা কিংবা স্বপ্নপুরীর দেশের কোনো রাজকুমারের গল্প নয়; শতভাগ বাস্তব। একক প্রচেষ্টায় গেম বানিয়ে বিশ্বকে আবারও তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ এই কম্পিউটার প্রোগ্রামার ওয়াসিক ফারহান রূপকথা। 
তার তৈরি স্পেস কলাইডার নামের এই গেমটি গুগল প্লে স্টোরে আর্কেড গেম হিসেবে সম্প্রতি ছাড়া হয়েছে। এটি কম্পিউটারের পাশাপাশি খেলা যাচ্ছে মোবাইল ফোনেও। গেমটি প্লে স্টোর থেকে এক হাজারের বেশিবার নামানো হয়েছে মাত্র কয়েক দিনে। 
রূপকথা স্টুডিও থেকে প্রকাশিত গেমটি ৪ দশমিক ৮ রেটিং নিয়ে টপ ডাউন স্পেস শুটার গেমের তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নেয়। একইসঙ্গে গেমটির পিসি সংস্করণও জনপ্রিয় হচ্ছে।
গুগল প্লে স্টোরে গেমটি নিয়ে ইতোমধ্যে ৩০০–এর বেশি পর্যালোচনা (রিভিউ) এসেছে, যার অধিকাংশই ইতিবাচক। ৭৭ মেগাবাইটের গেমটি অ্যান্ড্রয়েড ৪ দশমিক ১ বা তার পরের সব সংস্করণ সমর্থন করে। 
গেমটি এরই মধ্যে গুগল প্লে স্টোর থেকে বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে ডাউনলোড হচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি আফ্রিকা থেকেও। ভারত, সৌদি আরব, কুয়েত, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশংসিত হচ্ছে।
গ্রহ-উপগ্রহ থেকে ছুটে আসা উল্কা আর ভিনগ্রহের প্রাণী থেকে পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েই ইউনিটি প্লাটফর্মে সি শার্পে গেমটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেধাবী রূপকথা। বয়সে কাঁচা হলেও চিন্তায় অগ্রজ এই শিশুর ভাবনায় সবসময় ঘুরপাক খায় আগামীর পৃথিবীকে মহাকাশের অনভিপ্রেত আক্রমণ থেকে রক্ষার।
সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কটূক্তি তার মনে ইতোমধ্যেই রেখাপাত রেখেছে। আলাপকালে তিনি জানান, ভবিষ্যতে সাইবার হামলা থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষিত রাখা না গেলে অনেক ভালো কিছুই আর ভালো থাকতে পারবে না।
রূপকথা চায়, নতুন প্রজন্মের গেমাররা মানুষ হত্যার মতো নৃশংস গেম না খেলে পৃথিবীকে ভালোবাসুক। যুদ্ধ করুক পৃথিবীকে বাঁচাতে।
অত্যন্ত মৃদুভাষী ও লাজুক স্বভাবের শিশুটির ভাবনার প্রায় পুরোটা অংশ জুড়েই কম্পিউটার থাকলেও প্রকৃতি প্রেম তার মধ্যে প্রবল। বৃষ্টি শুরু হলে জানালার ফাঁক গলে হাত ভেজানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। অবসরে পিএস ফোর-এ গেম খেলে।
অবশ্য স্পেস কলাইডার গেম তৈরি করেই কিন্তু থেমে নেই রূপকথা। একক পরিকল্পনা ও চেষ্টায় এখন ডেভেলপ করছে নতুন আরেকটি গেম ডিফেন্ড দ্য আর্থ। গেমের কাজ প্রায় শেষ। রিভিউ করে দু-একদিনের মধ্যেই তা প্রকাশ করবে গুগল প্লে স্টোরে।
রূপকথার মা সিনথিয়া ফারহিন রিশা জানান, সাত মাস বয়স থেকেই কম্পিউটারের প্রতি তার ঝোঁক। ওই বয়স থেকেই ওকে কম্পিউটার ছাড়া খাওয়ানো যেত না। অল্পদিনের মধ্যেই দেখা গেলো সে কিবোর্ড ব্যবহার করতে চেষ্টা করছে। এরপর থেকে ওর ধ্যান-জ্ঞান এই কম্পিউটার নিয়েই। শৈশবেই চিটকোড ব্যবহার করে খেলত। কঠিন কঠিন গেম শেষ করত একটানে। অল্পদিনেই কম্পিউটার ওর কাছে খেলনায় পরিণত হয়।
তিনি বলেন, বয়স এক বছর হওয়ার আগেই কম্পিউটার নিয়েই ও তার নিজস্ব জগত তৈরি করে ফেলে। কারো কাছ থেকে এ, বি, সি, ডি শেখে নি। রিড ইট, উইকিপিডিয়া, ইউকি হাউসহ বেশ কিছু ওয়েবে সে নিয়মিত পড়াশোনা করে। এখনো যা করছে নিজের প্রচেষ্টায়। ২০১৪ সাল থেকে এ বছরের প্রথম দিক পর্যন্ত প্রোগ্রামারদের গেমিং প্লাটফর্ম রোবলক্সে কয়েক ডজন গেম বানায়। লুআ ল্যাংগুয়েজে সে এই গেমগুলো তৈরি করলেও তা সাধারণেরা খেলতে পারত না। ফলে চলতি বছরের রোজার ঈদের আগ থেকেই ইউনিটি-তে গেম তৈরির কাজ শুরু করে।
অবশ্য এর আগে বয়স ছয় হবার আগেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রোগ্রামারের খেতাব পায় রূপকথা। যাচাইবাছাই করে তাকে ২০১২ সালে এই খেতাব দিয়েছিল রিপলি’স বিলিভ ইট অর নট। তাকে স্বীকৃতি দেয় গোল্ডেন বুক অব রেকর্ডস। এরই মধ্যে যেকোনো প্রোগ্রামিং ভাষা কিংবা ট্রাবলশ্যুটিংয়ে পারদর্শী হয়ে ওঠে। এ সবকিছুই সে শিখছে নিজের মতো করে।
তাই বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে শৈশবেই। তার এই গৌরব গাঁথা স্থান পেয়েছে দেশের জাতীয় পাঠ্যপুস্তকেও। নিজেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নিতে না হলেও ২০১৩ সাল থেকেই ইংলিশ ফর টুডে পাঠ্যপুস্তকে অষ্টম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীই রূপকথাকে নিয়ে লেখা প্রবন্ধ পড়ছে।
সব মিলিয়ে অলৌকিকতাকেও ছাড়িয়ে গেছে রূপকথার অর্জন। কেননা চার বছর বয়সেই ইম্যুলেটর ব্যবহার করে গেমের ক্যারেক্টার পরিবর্তন করেছে। ছয় বছরে ক্যাম স্টুডিও এবং হাইপারক্যামে কাজ করার পাশাপাশি অ্যানিমেশন তৈরি করতো। এর পরের বছরেই সে সি ++ এ দক্ষ হয়ে ওঠে। তখন ওয়ার্ল্ড নিউজ এজেন্সি তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
এরপর ২০১৩ সালে একটি সম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে রূপকথা। এরই ফাঁকে ৫-৬ বছরের মধ্যেই ১০০০টির বেশি গেম খেলে ফেলে। খেলার পাশাপাশি উইকিপিডিয়া সম্পাদনা এবং তৈরিতে তার দক্ষতা দেখায়। মহাজাগতিক বিষয়ে লাভ করে বিস্তর জ্ঞান।
সাম্প্রতিক সময়ে খেলার প্রতি তার ঝোঁক আর আগের মতো নেই। অন্যের তৈরি গেম খেলায় মত্ত থাকে না, গেম বানানোর কাজ নিয়েই দিনের বেশিটা সময় ব্যয় করে। উদ্ভাবন আর গবেষণায় ডুব দিয়েছে। তার ভাবনা জুড়ে কেবলই পৃথিবী আর মহাকাশ। মানবকল্যাণে কী ভাবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে সময় কাটছে।
স্পেস কলাইডার নামানোর ঠিকানা: https://bit.ly/30HE5Bn
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com