শনিবার,  ১৭ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৯, ১২:৪২:১৬

প্রযুক্তিগত ত্রুটি, শেষ মুহূর্তে স্থগিত 'চন্দ্রযান-২' এর উৎক্ষেপণ

ডেস্ক রিপোর্ট
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্থগিত করা হয়েছে ভারতের চন্দ্রযান ২-এর উৎক্ষেপণ । ত্রুটি ধরা পড়ায় উৎক্ষেপণের ৫৬ মিনিট আগে ভারতের মহাকাশ সংস্থা ইসরো মিশন স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে। ভারতীয় সময়ে রবিবার রাত ২টা ৫১ মিনিটে প্রথমবার চাঁদের অন্ধকার দিকে ‘বাহুবলী’ রকেট- জিএসএলভি এমকে থ্রি পাঠানোর কথা ছিল। পৃথিবীর মহাকাশ গবেষণায় মাইলফলক হত এটা। আপাতত স্থগিত মিশন। 
উত্ক্ষেপণের আগে ইসরো কর্মকর্তারা বলেছিলেন, বাহুবালীর উড়ান নিয়ে কোনও চিন্তা নেই। আবহাওয়া ভাল। তবে চাঁদের মাটিতে অবতরণ নিয়েই চিন্তা বেশি। পাশাপাশি ইসরোর প্রধান জানান, অভিযান বাতিল হলে পরে তা উত্ক্ষেপণ করা যেতে পারে। তবে তার জন্য জটিল প্রযুক্তিগত পদ্ধতি পার হতে হবে। এর জন্য লেগে যেতে পারে এক সপ্তাহ বা এক মাস। 
আনন্দবাজার পত্রিকা ও এই সময় জানিয়েছে, তিন দশমিক আট টন ভারী মহাকাশযানটিকে বহন করে কক্ষপথে নিয়ে যেতে ইসরো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট জিএসএলভি এমকে থ্রি ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। ৬৪০ টন ওজনের, ১৫ তলা সমান উচ্চতার এ রকেটের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাহুবলী’। এই রকেটটিতেই ত্রুটি ধরা পড়ে। রকেট থেকে জ্বালানি লিক করছে বলে ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
যাত্রা শুরুর নির্ধারিত সময়ের ২০ ঘণ্টা আগে রবিবার সকাল  ৬টা ৫১ মিনিট থেকেই শুরু হয় কাউন্টডাউন। যাত্রা শুরুর ১৬ মিনিট পর চন্দ্রযান-২-কে মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দেবে বাহুবলী। সেখান থেকে প্রায় ২ মাস ধরে চাঁদের পথে এগোতে থাকবে চন্দ্রযান-২। দুই মাসের যাত্রা শেষে ৬ সেপ্টেম্বর রোভার প্রজ্ঞানকে নিয়ে চাঁদের মাটিতে সফ্ট ল্যান্ডিং করবে ল্যান্ডার বিক্রম। তার পরেই বেরিয়ে আসবে ছয় চাকার যান প্রজ্ঞান। 
চন্দ্রযান-২ এর অরবিটার, ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ ও রোভার ‘প্রজ্ঞান’ ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি, এ কারণে এ মহাকাশযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম পড়ছে।
বিশেষ করে চন্দ্রযান-২ নামবে চাঁদের এমন জায়গায় যেখানে আগে কোনও দেশের যান নামেনি বা মানুষের পা পড়েনি। ৬ বা ৭ সেপ্টেম্বরের কোনও এক সময় চন্দ্রযানের ‘ল্যান্ডার’ বিক্রম নামবে দক্ষিণ মেরুর কাছে, চাঁদের ৭০° অক্ষাংশে। ‘মানজিনাস সি’ এবং ‘সিমপেলিয়াস এন’ নামে দু’টি গহ্বরের মাঝে একটু উঁচু জমিতে। ৫০ বছর আগে নিল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন চাঁদের নিরক্ষরেখার কাছে নেমেছিলেন। তারপর রাশিয়া ও চিনের ল্যান্ডার নেমেছে উত্তর মেরুর কাছে। 
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে কোনও দেশ পৌঁছয়নি। ইসরোর বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, ওখানে সূর্যের আলো পৌঁছয় না বললেই চলে। ফলে চাঁদের বিবর্তনের ইতিহাসের সূত্র মিলতে পারে সেখানে।
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com