রোববার,  ২৫ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০৭:৪২

৫০ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগের মধ্যেও বিক্রি কমেনি। সুদ ও আসল পরিশোধের পর শুধু গত জুন মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে তিন হাজার ২০৮ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ গিয়ে ঠেকেছে ২ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে গত অর্থবছরে এসেছে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও যা প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বেশি। 
২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। আশানুরূপ আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। তারপরও শেষ পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি থাকলেও পদ্মা সেতু, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ চালাতে গিয়ে সরকারের অর্থায়নের জন্য ঋণনির্ভরতা বেড়েছে।
গত অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে অর্থবছর শেষে বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছর ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিক্রি হয় ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার পেয়েছিল ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।
এদিকে, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এক লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র কেনা ঠেকাতে একটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর, পোস্ট অফিস, বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ সবাই এখন অভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ফলে কেউ নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি সঞ্চয়পত্র কিনলে তা ধরা পড়ছে। এসব করা হয়েছে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমানোর মাধ্যমে সরকারের সুদ ব্যয় কমাতে। একই সঙ্গে ব্যাংক ব্যবস্থায় চলমান তারল্য সংকট কাটাতে সেখানে আমানত বাড়াতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যদিও কাজের কাজ তেমন কিছু হচ্ছে না। সমকাল।
 
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com