সোমবার,  ১৯ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৩:০৮:৫৮

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির মূল দায়িত্ব কী?

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাহিরে দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এককালে গড়িয়া উঠিয়াছিল নিজস্ব শক্তিতেই। এমপিওভুক্তির বিষয়টি যুক্ত হইয়াছে অনেক পরে। এককালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কিছু কিছু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান কখনো কখনো দায়সারা ছিল। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পরিচালনা কমিটি থাকে বিধায় উহার মান অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের তুলনা অধিকতর ভালো ছিল। এইসকল উন্নতমানের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক চাপ লাঘবসহ বিবিধ বিবেচনায় এমপিও প্রথা চালু করে সরকার। এই ভালো উদ্যোগের উপজাত হিসাবে কিছু কিছু অনিয়মের ঘটনা পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান হইতে শুরু করে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তোলাই হয় এমপিওভুক্তির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করিয়া। কোনো প্রকারে একটি দানকৃত কিংবা সরকারি লিজ নেওয়া জমির ওপর সাধারণমানের ঘর তুলিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করিবার উদাহরণ আছে অনেক। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় সবার আগে শিক্ষার মান বিচার্য। ইহার সহিত ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসংখ্যার অনুপাতেরও সমন্বয় ঘটাইতে হয়। ইহার পূর্বে সংবাদপত্রে এমন স্কুলেরও খবর প্রকাশ পাইয়াছে যে, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক রহিয়াছেন; কিন্তু স্কুলটির একটিমাত্র শ্রেণিকক্ষ রহিয়াছে, যেইখানে সব শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়। 
দেখা গিয়াছে, এই রকম অবস্থা যেইসব প্রতিষ্ঠানের রহিয়াছে, তাহারা নানান কৌশলে এমপিওভুক্ত হইতে মরিয়া হয়। অতএব, যাহারা যাচাই বাছাই করেন, সেইসকল পরিদর্শককেও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হইতে হইবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হইল—ম্যানেজিং কমিটি (স্কুলের ক্ষেত্রে) ও গভর্নিং বডি (কলেজের ক্ষেত্রে)। একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আর্থিক ও প্রাশাসনিক ব্যবস্থা তদারকি, লেখাপড়ার মান নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যই ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়; কিন্তু অভিযোগ রহিয়াছে যে, বেশির ভাগ কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজেদের পকেট ভারী করিবার উত্স হিসাবেই দেখিয়া থাকে। ইহাতে কার্যত শিক্ষার মানবৃদ্ধির পরিবর্তে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলিতে আর্থিক ও প্রাশাসনিক অনিয়মের বোঝা বৃদ্ধি পায় বলিয়া অনেকে মনে করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম তদন্তের দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৫ ভাগ অনিয়মই ম্যানেজিং কমিটির কারণে হইয়া থাকে। বর্তমানে এন্ট্রি পদে নিয়োগের ক্ষমতা সরকার গ্রহণ করিবার পর অন্য পদগুলিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম হইয়া থাকে বলিয়া অভিযোগ আছে। অথচ ম্যানেজিং কমিটি এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল তাহাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির লেখাপড়ার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখা, যাহা সবচাইতে গৌণ হইয়া পড়িয়াছে।
শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়নে সরকার কি তাহা হইলে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই জাতীয়করণ করিতে পারে না? যদি নাই পারে তাহা হইলে অন্তত ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি তাহাদের মূল দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করিতেছে কি না—তাহা কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখিতে হইবে।
 
-সম্পাদকীয়, ইত্তেফাক
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com