প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের শর্তে ঘরে ফিরলেন শিক্ষকরা

সমাপনী পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত

সমাপনী পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করিয়ে দেওয়ার শর্তে সমাপনী পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা। 

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকার পুরানা পল্টন মুক্তি ভবনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪টি সংগঠনের জোট বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ডাকে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এর দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণার পর এই বিষয়ে ৬৪ জেলার শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি, সচিব আকরাম আল হোসেন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি ড. এএফএম মঞ্জুর কাদির ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আন্দোলনরত ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন।

সর্বশেষ ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আন্দোলনরত ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএফএম মঞ্জুর কাদেরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বৈঠকের শুরুতে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহমান গত ২৩ অক্টোবরের মহাসমাবেশ ও মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত সমাপনী পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এরপর ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ প্রাথমিক শিক্ষকদের ১ দফা দাবি প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সমাপনী পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, নীতিনির্ধারনী চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সরকার, প্রধান মুখপাত্র বদরুল আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম ঘোষিত কর্মসূচির পক্ষে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেন।

শিক্ষকদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সচিব আকরাম আল হোসেন জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডের প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব ফেরত পাঠালে আমরা পরবর্তীতে অর্থ সচিবের সাথে আলোচনায় বসি। অর্থ সচিব ১০, ১১ গ্রেডের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষক ১১তম গ্রেড, সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড এবং নতুন সৃষ্ট সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের জন্য ১২তম গ্রেডের প্রস্তাব দেন এবং এই মুহুর্তে এটা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বলে জানান। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তখন সচিব সমাপনী পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষকদের সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ দাবি আদায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের শর্ত জুড়ে দেন। তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি যে গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করবেন তা শিক্ষকরা মেনে নেবেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যপূর্ণ কোন গ্রেড তারা মেনে নেবেন না। সচিব ও ডিজির বার বার অনুরোধের প্রেক্ষিতে শিক্ষক নেতারা সচিবকে বলেন ৮ই নভেম্বর ঐক্য পরিষদের জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকের পর তারা কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।

প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ৬৪ জেলার প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত আজকের সাধারণ সভায় সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও অধিদপ্তরের ডিজি শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে একমত আছেন এবং এই সাক্ষাতের জন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে, তাদের প্রতি আস্থা রেখে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে ও ৩০ লক্ষ কোমলমতি পরীক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চিন্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঐক্য পরিষদ ঘোষিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলো। তবে আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত এবং দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh