শনিবার,  ১৭ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪৭:৫৫
ডেঙ্গুর প্রকোপ

বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে প্রায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরা। এতে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ছে শিক্ষামন্ত্রণালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এ অবস্থায় ঈদুল আজহার নির্ধারিত ছুটির আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাধারণ ছুটি এবং ঈদের নির্ধারিত ছুটি বাড়িয়ে দেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সারাদেশে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা না পাওয়ায় বৈঠকটি আজ বা কাল অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ধরন ইত্যাদি বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। 
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা হয়। ওই সভায় ডেঙ্গুতে শিক্ষার্থীরা বেশি আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া যায় কী না, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অংশ নেয়া একজন যুগ্ম সচিব জানান, 'আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি। এ নিয়ে স্কুলপ্রধানরা কাজ করছেন। সারাদেশে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও সার্বিক পরিস্থিতি জানার জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ওই সেলের তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর আন্তঃমন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।' 
এদিকে সারাদেশে কত সংখ্যাক শিক্ষার্থী আক্রান্ত তার তথ্য রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারেনি মনিটরিং সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম। তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত চারটি জেলার তথ্য আমাদের হাতে আসেনি। তারা রাতের মধ্যে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন। 
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এখন ডেঙ্গুর আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রচুর। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার প্রায় ৩২ শতাংশই শিক্ষার্থী। ডেঙ্গু আতঙ্কে ক্লাস পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। আধা সাময়িক পরীক্ষাসহ অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অনেকেই অনুপস্থিত থাকছে। এ অবস্থায় সারাদেশে কত সংখ্যাক শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও অনুপস্থিতির শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত এবং আক্রান্তদের সহযোহিতায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা একটি মনিটরিং সেল করা হয়েছে। এ সেলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সাধারণ ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। 
এ ব্যাপারে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, 'ডেঙ্গু নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমরাও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ডেঙ্গু সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার পর এ আতঙ্ক আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণ করতে দফায় দফায় বৈঠক করছি। আলাদা একটি সেল করেছি। মন্ত্রণালয়, মাউশি থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের চার দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।' আগাম ছুটি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঈদের আগে ও পরের ছুটি কয়েক দিন বাড়ানো যায় কী না তা নিয়ে বৈঠকে বসেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত বা গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীরা আধা সাময়িক পরীক্ষা যারা অংশগ্রহণ করতে পারছে না তাদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে অসুস্থতার কাগজপত্র দেখার পর আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু রাজধানী ছেড়ে এখন প্রায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি সতর্কতামূলক পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে চারটি নির্দেশনা ছাড়াও সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট করে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম ও কর্মসূচি পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের। একই সঙ্গে কী কার্যক্রম নিয়েছেন তা প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়কে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাউশি থেকে একদিনে আলাদা দুটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সেল গঠন করেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বিশেষ বিবেচনায় নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। 
গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর-দপ্তর-সংস্থা এবং বিভাগীয়-আঞ্চলিক ও জেলা-উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ও নিজ নিজ বাসস্থানে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনসহ অবিলম্বে চার দফা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে- নিজ নিজ অফিস, গৃহ, আঙ্গিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে; পরিষ্কার রাখতে হবে বাসস্থান ও জমে থাকা পানি দ্রম্নত অপসারণ করতে হবে, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রাখা ফুলের টব, বাসস্থানের ছাদ বাগানসহ পানি জমে থাকে এমন সকল পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাপারে সারাদেশ থেকে আজকের (রোববার) মধ্যে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে মাউশিতে। এ ছাড়া প্রতি মাসের ১ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এর আগে গত ২৫ জুলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। 
 
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com