শনিবার,  ১৭ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ১১:৩৬:০২

পানিবন্দি ১১ লাখ মানুষ, বাড়ছে দুর্গত এলাকা

ডেস্ক রিপোর্ট
টানা নয় দিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দেশের ১৫টি জেলায় বন্যার বিস্তৃতি ঘটেছে। দুর্গত মানুষের সংখ্যা অন্তত ১১ লাখ বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
 খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকটে এসব পানিবন্দি মানুষেরা। নিম্নবিত্ত মানুষদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পানিতে ডুবে এবং সাপের কামড়ে নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীতে পানি আরও বাড়বে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেছেন, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, পুরাতন সুরমা, সোমেশ্বরী, কংস, ধরলা, তিস্তা, ঘাগট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও সাঙ্গু -এই ১৪টি নদীর পানি সোমবার ২৬টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ারা ছাড়া দেশের সকল নদ-নদীর পানি বাড়ছে।
তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পানি কমতে শুরু করবে। তবে মধ্যাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হতে পারে। আবার অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে যাবে। মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ি জেলার অনেক এলাকা নতুন করে প্লাবিত হতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বাড়তে পারে। মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। সেইসঙ্গে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তবে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও, মাত্রাটা কম থাকবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও উজানে ভারতের উত্তরাঞ্চল ও নেপালে ইতোমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি খারাপ আকার নিয়েছে। তিনটি দেশ মিলিয়ে এর মধ্যেই ১০০-রও বেশি লোক মারা গেছে, বিহার রাজ্যে ২০ লাখ এবং আসামে ১০ লাখেরও বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ উপমহাদেশের ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত, তাই উজানে যে বন্যা হচ্ছে - সেই পানি বাংলাদেশের ভেতর দিয়েই সাগরে নামবে।
দুর্গত এলাকার অনেকে ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু বাঁধের ওপরে খোলা আকাশের নিচে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় কিছু কিছু এলাকায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছালেও বেশিরভাগ দুর্গত এলাকাতেই তা পৌঁছায়নি।
কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা আকলিমা বেগম বলেন, এলাকার অন্য বাড়ির তুলনায় তার বাড়িটি অনেক উঁচুতে হলেও গতকাল থেকে তার ঘরের মধ্যে হাঁটু পানি। আশ্রয় কেন্দ্রে গবাদিপশুগুলোকে পাঠিয়ে দিয়েছেন কিন্তু ঘর পাহারা দিতে পাঁচ ছেলেমেয়েসহ নিজেরা রয়ে গেছেন।
আরেকটি বন্যা আক্রান্ত জেলা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার উত্তরলক্ষীপ্রসাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাবানা বেগম বলেন, তার স্কুলে পানি উঠেছে, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ।
বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুতি কতটা? এর জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শাহ্ কামাল বলেন, সকল জেলায় দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটিগুলোর সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আপাতত খুব বড় ধরনের দুর্যোগের আশংকা তারা করছেন না। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সামনে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।
এদিকে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে। সোমবারও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, দেশের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টিপাতের মাত্রা খানিক কমে এলেও দুই-তিন দিনের মধ্যেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারি পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেছেন, বর্তমানে দেশের ১৫ জেলা বন্যাকবলিত। গত ১০ জুলাই থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর এই ১৫ জেলার রোগব্যাধি সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। এই জেলাগুলোর ৫৩টি উপজেলার ২০৯টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। এসব এলাকায় মোট আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ২৬৯টি।  
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com