রোববার,  ২৫ আগস্ট ২০১৯  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ১৭:০৩:৫৩
মনের কোণে হীরে-মুক্তো

প্রভাবশালীরা কি সন্ত্রাসী সৃষ্টি করে নাকি শুধু ব্যবহার করে

ড. সা’দত হুসাইন
 
 
 
দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এর কার্যকারণের ওপর নানা রকম মন্তব্য আসছে। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হচ্ছে—প্রভাবশালী গোষ্ঠী, বিশেষ করে পুলিশ ও রাজনীতিবিদ সন্ত্রাসী পয়দা করে, অর্থাৎ জন্ম দেয়। সুবোধ বালকরা এদের পাল্লায় পড়ে, এদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে। আরেকটু এগিয়ে বলা যায়, বালক-কিশোররা এদের কাছে প্রশিক্ষণ পেয়ে সন্ত্রাসীরূপে আত্মপ্রকাশ করে। গুরুগৃহে গুরুর তত্ত্বাবধানে যেমন শিশু-কিশোর শিক্ষা গ্রহণ করে বিদ্বান হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়, তেমনি কিছু বালক-কিশোর এদের কাছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে শক্তিমান সন্ত্রাসী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই দুই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর একক বা যৌথ প্রয়াসে সন্ত্রাসীর সৃষ্টি হয়।
উপর্যুক্ত বক্তব্য আপাতদৃষ্টিতে সাধারণভাবে সঠিক বলে মনে হতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণের জন্য সন্ত্রাসীর শৈশব থেকে বেড়ে ওঠার প্রতিটি পর্যায়ে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রাক (প্রাথমিক) শিক্ষা স্তরে শিশুর আচার-আচরণও পর্যবেক্ষণের আওতায় চলে আসবে। দেড়-দুই বছর বয়স থেকে শিশু তার ইচ্ছা নানাভাবে প্রকাশ করতে থাকে। কখনো হেসে, কখনো কেঁদে, কখনো হাত-পা ছুড়ে, আবার কখনো চিৎকার করে সে জানাতে চায় কী তার পছন্দ, কী তার অপছন্দ। পছন্দের জিনিস পেতে এবং অপছন্দের জিনিস থেকে দূরে থাকতে সে তার নিজের মতো করে শক্তি প্রয়োগ করে। মা-বাবা সতর্ক থাকলে তীক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশুর মৌল প্রবণতা বুঝতে পারবেন। যদি সামান্য সান্ত্বনা বা নামমাত্র আশ্বাস দিয়ে শিশুটিকে বুঝ দিতে পারেন, যদি এতেই শিশুটি শান্ত হয়, তবে বুঝতে হবে সে সুবোধ প্রকৃতির স্বাভাবিক শিশু। তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। যদি সে কান্নাকাটি, হাত-পা ছোড়াছুড়ি না থামায়, অনর্থক জেদ করতে থাকে, তবে বুঝতে হবে তার জেদি এবং বেয়াড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার এরূপ প্রবণতাকে প্রশ্রয় দেওয়া সমীচীন হবে না। বরং এ প্রবণতা কিভাবে আশু নিরসন করা যায়, সে ব্যাপারে মা-বাবাকে চিন্তাভাবনা করতে হবে। প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
এ সময় থেকে আদর, সোহাগ, শাসন দিয়ে শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ভালো কাজে উৎসাহ দিতে হবে, খারাপ কাজ নিরুৎসাহ করতে হবে। শিশুর প্রতি মা-বাবার আচরণের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। যদি কোনো খারাপ কাজে বাবা নিরুৎসাহ করেন, অথচ মা এবং আশপাশের নিকটাত্মীয়রা প্রকারান্তরে উৎসাহিত করেন, তবে শিশু তার পছন্দের খারাপ কাজটি করা থেকে বিরত হবে না। শিশুরা মা-বাবা, নিকটাত্মীয়-স্বজনকে অনুকরণ, অনুসরণ করে। তাদের অনেকের তীক্ষ পর্যবেক্ষণক্ষমতা রয়েছে। তারা যদি দেখতে পায়, তাদের কোনো কাজ বা আচার-আচরণ মা-বাবা দুজন এবং আশপাশের বড়রা পছন্দ করেন না, তাহলে সে কাজ করতে তারা উৎসাহিত হবে না। তাদের হালকা পছন্দ ধীরে ধীরে উবে যাবে। মা-বাবার পছন্দের ছকে তারা চলাফেরা, আচার-আচরণ করবে।
বছর চারেক বয়স হলে শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়। স্কুল নির্বাচনে যেমন সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, তেমনি স্কুলে শিশুর আচার-ব্যবহার মা-বাবাকে তীক্ষ দৃষ্টিতে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। শিশুর মধ্যে বখাটে হওয়ার প্রবণতা থাকলে, স্কুলের পরিবেশে এবং স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর তার কাজকর্মে সামান্য হলেও তা প্রকাশ পাবে। এমন প্রবণতার সামান্যতম লক্ষণ প্রকাশ পেলে তা বিদূরিত করার জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের সঙ্গে নিঃসংকোচে আলোচনা করতে হবে এবং তাঁদের সহায়তা নিতে হবে। শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে। শিক্ষকদের উপদেশ-অনুদেশ শিশুরা বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়। তাঁরা যদি সঠিক চলার পথ বাতলে দেন, তবে শিশুরা সে পথে চলতে চাইবে। যদি কোনো শিশু এর পরও বিপথে চলে, তবে তার শোধরানোর জন্য মাতা-পিতা ও শিক্ষককে একযোগে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিশুদের মধ্যে দুরন্তপনা থাকা অস্বাভাবিক নয়। তার জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। যখন শিশুর মধ্যে বেয়াদবি, বেপরোয়াভাব, অযৌক্তিক জেদ, বখাটেপনা এবং হালকা হিংস্রতা দেখা যায়, তখন নিশ্চিত পদক্ষেপে সে প্রবণতা বিতাড়িত করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে—এরূপ ব্যবহার করা যাবে না, করলে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে এবং সে শাস্তি মোটেই সুখকর হবে না। অতএব অন্য সব ভালো ছাত্রের মতো সুবোধ আচরণ করা তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শিক্ষক, মা-বাবা এবং আশপাশের মুরব্বিদের কাছ থেকে সদুপদেশ পেলে আস্তে-ধীরে হলেও সে উপদেশ শিশু গ্রহণ করবে। ধীরে ধীরে তার আচরণ পরিশীলিত হবে।
মা-বাবার উদাসীনতা এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশকারা শিশুর জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। কোনো কোনো মা-বাবা শিশুর বেয়াদবি, বখাটেপনা ও বেপরোয়া ভাবকে খুব হালকাভাবে নেন। বিষয়টি তাঁরা গায়ে মাখেন না। এ ব্যাপারে পাড়া-পড়শি বা স্কুল থেকে অভিযোগ এলে তাঁরা তা হেসে উড়িয়ে দেন। মনে করেন যে বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। অনেক সময় তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক বা পড়শিদের ওপর খেপে যান। তাঁদের ধারণা, এঁরা বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন, তাঁদের ছেলেকে অন্যায়ভাবে দোষী বিবেচনা করেছেন। এর মধ্যে হয়তো কিছুটা ঈর্ষা বা অবিচার রয়েছে। এসব অভিভাবক (মা-বাবা) প্রতিকারমূলক কোনো ব্যবস্থা নেন না, শিশুকে তার খুশিমতো চলতে দেন। ফলে শিশুটি বখে যেতে থাকে। সে নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর আচরণ করতে থাকে। তার ঔদ্ধত্য বেড়ে যায়। বখাটে হিসেবে বেড়ে ওঠার পথে সে পা বাড়ায়। মাতা-পিতার চোখের সামনে তার অধঃপতন শুরু হয়, অথচ তাঁরা দেখেও দেখেন না। ভাবেন, ছেলে বড় হচ্ছে। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
প্রাথমিকের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানো শিশুদের বয়স আট কিংবা ৯ বছর। যখন প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করে, তখন তাদের বয়স ৯ কি ১০ বছর। বালক-বালিকা উভয় গ্রুপের শিক্ষার্থীরা এ বয়সে নানা অপকর্ম করার উপযোগী শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করে। মানসিক দিক থেকে অবশ্য তারা খুব অপরিপক্ব থাকে। এ সময়ে মা-বাবা, অভিভাবকদের অতীব সতর্কতার সঙ্গে তাঁদের সন্তান বা পোষ্যদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও আচার-আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। কোনো অবাঞ্ছিত প্রবণতা আঁচ করতে পারলে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে তার রাশ টেনে ধরতে হবে। অন্যথায় পদস্খলনের সমূহ আশঙ্কা থাকে। প্রাথমিক পাস করে শিশু-কিশোর যখন মাধ্যমিকে যায়, তখন গায়ে-গতরে যেমন সে বড় হয়ে ওঠে, তেমনি তার শারীরিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক জগতে নানা পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এ তিন ক্ষেত্রেই তার চাহিদা বদলে যায়, নতুন নতুন চাহিদা ভিড় জমাতে থাকে। মা-বাবা, অভিভাবক, নিকটজনকে শিশু-কিশোর, বালক-বালিকাদের খুব কাছ থেকে বাস্তবধর্মী কার্যকর নির্দেশনা দিতে হয়। শিক্ষকদের সঙ্গে মেলবন্ধন রচনা করে তাঁদের সাহায্য-সহযোগিতা নিতে হয়। শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্মিলিত সতর্কতা এবং প্রচেষ্টা থাকলে শিশু-কিশোরদের বখে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে তিরোহিত হয়। বালক-কিশোর যদি বুঝতে পারে, তার পড়াশোনা, চলাফেরা এবং আচার-আচরণের প্রতি শিক্ষক ও অভিভাবকের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে, তাহলে অবাঞ্ছিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর ব্যাপারে সে নিরুৎসাহ হয়। কিছুটা হলেও ভয় পায়, সাবধান হয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের সমাজে বিপুলসংখ্যক মাতা-পিতা, অভিভাবক তাঁদের বালক-কিশোর অথবা বালিকা-কিশোরী সন্তান ও পোষ্যদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও আচার-আচরণ সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন না। তাঁদের অনেকের নিজ জীবনের ব্যস্ততা, সমস্যা-সম্ভাবনা, দায়-দায়িত্ব, আমোদ-প্রমোদের আকর্ষণ এত বেশি যে তাঁরা সন্তান-সন্ততি, পোষ্যদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের মানসিক উৎকর্ষ বিধানের প্রতি যথাপ্রয়োজনীয় নজর দিতে পারেন না। এর মধ্যে আবার কিছুসংখ্যক অভিভাবক রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের সন্তান-সন্ততি, পোষ্যদের ছোটখাটো অপরাধ আমলে নিতে চান না। কেউ কেউ এ ধরনের অপরাধকে বালক-কিশোরের বাহাদুরি হিসেবে দেখেন। আসলে একজন বেয়াড়া উচ্ছৃঙ্খল কিশোর কিন্তু স্কুলে ও এলাকায় প্রথম থেকে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে না। প্রথম দিকে সে সাহসী, শক্তিমান ও উদ্যোগী কিশোর হিসেবে পরিচিত হয়। কেউ কেউ তাকে ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। কোনো কোনো ঘটনায় তাকে বাহবা দেওয়া হয়। দু-একটা ক্ষেত্রে তার নির্বুদ্ধির অবিবেচক মা-বাবা এতে খুশি হন। তাঁরা মনে করেন, তাঁদের ছেলের নামডাক হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় কেউ কেউ তাকে সমীহ করে চলে। ছেলের নামের সঙ্গে দু-এক সময় বাবার নামও উচ্চারিত হয়। বাবা মনে করেন, এটি তাঁর ছেলের বিরাট কৃতিত্ব। তিনি খেয়াল করেন না যে এই নামডাকের মাধ্যমে ছেলের সর্বনাশ হচ্ছে। কালক্রমে সে বেয়াড়া, একরোখা, বখাটে বালকে রূপান্তরিত হচ্ছে। অবশেষে সে খাদের এমন কিনারে এসে দাঁড়ায় যে তাকে আর ফেরানো যায় না। মা-বাবা, অভিভাবকদের অমনোযোগ, অসতর্কতা, প্রশ্রয় ও শাসনের অভাব একজন সম্ভাবনাময় বালক-কিশোরকে বখাটেপনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এখন তার ওপর দৃষ্টি পড়েছে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর। এঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, স্থানীয় নেতা, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, সমাজপতি। এমনকি প্রশাসন ও পুলিশের দু-একজন অসৎ কর্মকর্তা। তাঁরা এই বেয়াড়া, বেয়াদব, একরোখা, শক্তিমান, উদ্যোগী, সাহসী বালককে তাঁদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে লাগাতে উদগ্রীব থাকেন। আধিপত্য, প্রভাব, কর্তৃত্ব, ব্যবসায়ী এবং বৈষয়িক সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের বালক-কিশোরের বেশ প্রয়োজন পড়ে। সুতরাং বখাটেপনার স্তর পেরিয়ে সন্ত্রাসী হওয়ার পথে যে পা বাড়িয়েছে, সে বালক তাঁদের বড় প্রয়োজন। বখাটে সন্ত্রাসীর সৃষ্টি হয়েছে তার পরিবারে, তার স্কুলে। সেটিই তার আঁতুড়। প্রভাবশালী সমাজপতি ও প্রশাসনের সেখানে খুব বড় ভূমিকা ছিল না। তাঁদের ভূমিকা শুরু হয় এর পরে। বালক-কিশোরের বখাটেপনাকে উসকে দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্র ও সমাজের সামান্য হলেও কিছু নেতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। অল্প বয়সের অজুহাতে এই দুই প্রতিষ্ঠান কিশোর অপরাধীদের ব্যাপারে নমনীয় মনোভাব দেখায়। পিঠে হাত বুলিয়ে বালক-কিশোর অপরাধীকে সুপথে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানো হয়। এ প্রচেষ্টার সফলতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। ঢাকার মগবাজারে বিয়ের আসরে যে কিশোরটি কনের বাবাকে হত্যা করেছে, তার বয়স পত্রিকার সূত্র মতে আঠারো বছর। হয়তো দু-এক বছর এদিক-ওদিক হতে পারে। তার ভাষ্য মতে, বিয়ের আসর থেকে কনেকে তুলে নেওয়ার জন্য সে এসেছিল। পরিষ্কার যে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত হয়ে সে এসেছিল। বয়স যা-ই হোক না কেন, তার অপরাধপ্রবণতা এবং অপরাধ করার সক্ষমতা বয়স্ক লোকের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না।
বয়সের নিগড়ে অপরাধ প্রতিরোধ এবং সুশাসনের প্রবৃত্তিকে বেঁধে রাখা ঠিক হবে না। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় অপরাধীকে যথাযোগ্য শাস্তির আওতায় আনতে হয়। আমি আগেই বলেছি, আজকাল প্রযুক্তি ও পুষ্টির বদৌলতে আট-নয় বছরের বালক-কিশোর অনেক বড় অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বালক-কিশোর অপরাধী মারাত্মক পদ্ধতি-প্রক্রিয়ায় অপরাধ করে বসতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় ‘কিশোর গ্যাং’য়ের হিংস্রতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তারা গুম, খুন, ছিনতাই, ধর্ষণের মতো অপরাধ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামতে বাধ্য হচ্ছে। ভালো করে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, চার-পাঁচ বছর বয়সে এদের মধ্যে অতিমাত্রায় জেদ, অভিভাবক এবং মুরব্বিদের আদেশ অমান্য করা, সাধ্যমতো শক্তি প্রয়োগ, উচ্ছৃঙ্খলতা এবং বেয়াড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। মাতা-পিতা, নিকটাত্মীয়, স্কুলের শিক্ষকরা যদি এ প্রবণতা রোধে তখন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন, তবে তারা লাইনচ্যুত হয়ে বখাটেপনার পথে এগোতে পারত না। আসলে পরিবারের নিরন্তর পর্যবেক্ষণ এবং সময়োচিত শাসনই শিশু-কিশোরকে বখে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
 
লেখক: সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান।
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com