'সরকারি চাকরি আইন কার্যকরের বিধিমালা তৈরি হচ্ছে'

সরকারি চাকরি আইন কার্যকরের আগে বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা বর্তমানে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। বিধিমালা চূড়ান্ত হলে আইনটি কার্যকরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং শিগগির এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

তবে আইনটি কার্যকর হলে পাবলিক বডি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান/সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার  সমস্যা হতে পারে বলে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ জানান, আইনটির পক্ষে বিপক্ষে মতামত রয়েছে। তারপরেও আইনটি কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদে গত বছরের অক্টোবরে পাসের পর আজও কার্যকর হয়নি সরকারি চাকরি আইন। বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকায় ১১ মাসেও আইনটি কার্যকরে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনটি কার্যকর হলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে পাবলিক বডি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান/সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খোদ অর্থ বিভাগ। এ ছাড়া নতুন এ আইনে রয়েছে ছোটখাটো অনেক ভুল। এ অবস্থায় সরকারি চাকরি আইন সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছর ২৪ অক্টোবর সরকারি চাকরি আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ২০ দিন পর ১৪ নভেম্বর এ আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। আইনের ১ ধারার ৫ উপধারায় বলা হয়েছে- সরকার প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করবে, ওই দিন থেকে আইনটি কার্যকর হবে। আইনের গেজেট প্রকাশের পর প্রায় ১১ মাস পার হলেও এটি কার্যকরের জন্য আলাদা গেজেট প্রকাশ করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আইনটির সঙ্গে সরকারের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি-সংক্রান্ত বিষয় জড়িত। সে ক্ষেত্রে আইনটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করা হলে সরকারি কাজে কোনো অসুবিধা হবে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। ২১ আগস্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ আইনের ওপর পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদনও জমা দেয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনটি কার্যকর হলে আইনের ৬১ ধারা অনুসারে সার্ভিসেস (রিঅর্গানাইজেশন অ্যান্ড কন্ডিশনস) অ্যাক্টস, ১৯৭৫-সহ আগের ছয়টি আইন রহিত করতে হবে। তার মধ্যে পাবলিক এমপ্লয়িজ ডিসিপ্লিন অর্ডার ১৯৮২ ও উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারী আত্তীকরণ আইন ২০১৬-এর কার‌্যাবলি সম্পাদনের জন্য নতুন করে বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এতে কোনো সমস্যা হবে কি না, জানতে চাইলে অর্থ বিভাগ থেকে বলা হয়- সার্ভিসেস অ্যাক্টস ১৯৭৫ রহিত হলে পাবলিক বডি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সংস্থাগুলোর ইউনিফাইড পে-স্কেলের আইনগত ভিত্তি থাকবে না। অধিকাংশ পাবলিক বডি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাই দ্য সার্ভিসেস অ্যাক্টস ১৯৭৫-এর আইনের ৫-এর উপধারা (১) ও (২) ধারা বলে জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করে থাকে। আইন রহিতের পর ওই সব প্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ওই সব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইন বলে ভিন্ন ভিন্ন বেতন স্কেল নির্ধারণ করলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর আংশিক সংশোধনপূর্বক ওই আইনের ৬১ ধারায় রহিতকৃত ছয়টি আইনের মধ্য থেকে দ্য সার্ভিসেস অ্যাক্টস ১৯৭৫ আইনটি পুনর্বহাল করা যেতে পারে। এ ছাড়া চাকরি আইনের ৫০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী অবসরে গেলে বা চাকরির পরিসমাপ্তি ঘটলে আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী তার সুবিধা পাবেন। অথচ ১৭ নম্বর ধারাটি হচ্ছে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত। এটি মূলত ১৫ নম্বর ধারা হবে। উল্লিখিত বিষয়সহ এ ধারাটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। 

তবে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ কার্যকর করা হলে এ আইনের ৬১(খ) ধারা অনুযায়ী দ্য সার্ভিসেস অ্যাক্ট ১৯৭৫ রহিত হবে। তবে ওই আইনের ৫ ধারার ১ ও ২ উপধারায় বর্ণিত স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন-এর ১(৪) উপধারার বিধান অনুসারে ১৫ নম্বর ধারা মোতাবেক অর্থ বিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ কার্যকর করতে এ মুহূর্তে আর কোনো বাধা নেই।


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh